ঢাকার শাহজাদপুরে অবস্থিত অভিজাত শপিংমল ‘সুবাস্তু নজর ভ্যালি’ এখন এক শ্রেণির অসাধু সিন্ডিকেটের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শপিংমলটির শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার তৌহিদের সরাসরি মদদে এখানে অবৈধ দোকান ভাড়া, সাইনবোর্ড জালিয়াতি এবং চোরাই পণ্যের কারবার চলছে বলে জানা গেছে।
এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে তারেক এবং তার সহযোগী বেলাল ও ফরিদের নাম উঠে এসেছে।
এক দোকানে দুই পরিচয়: অভিনব জালিয়াতি
অনুসন্ধানে জানা যায়, শপিংমলের ৫ম তলার (লিফটের ৪) ৫৭ নম্বর দোকানের মূল ভাড়াটিয়া তারেক। তিনি মূল মালিকের কাছ থেকে কম দামে দোকান ভাড়া নিয়ে গোপনে বেশি দামে সাবলেট দিয়েছেন বেলাল ও ফরিদকে।
এই জালিয়াতি আড়াল করতে দোকানের বাইরে ‘সেইফ কম্পিউটার’ (তারেকের প্রতিষ্ঠান) নাম ব্যবহার করা হলেও ভেতরে ‘বি প্লাস কম্পিউটার’ নামে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। তাদের ভিজিটিং কার্ড ও ফেসবুক পেজেও ‘বি প্লাস কম্পিউটার’ নাম ব্যবহার করে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।
নেই ডিড, নেই ট্রেড লাইসেন্স
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দোকানটি পরিচালনাকারী বেলালের নামে কোনো বৈধ ডিড (চুক্তিপত্র) নেই। এমনকি প্রতিষ্ঠানটির কোনো বৈধ ট্রেড লাইসেন্সও পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, বেলাল পূর্বে এলিফ্যান্ট রোডের মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারে ব্যবসা করার সময় অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও চুরির অভিযোগে বহিষ্কৃত হন। বর্তমানে তিনি সুবাস্তু নজর ভ্যালিকে নতুন করে অপরাধের আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছেন।
ম্যানেজারের রহস্যময় ভূমিকা
এ ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন শপিংমলের ম্যানেজার তৌহিদ। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, তিনি সবকিছু জেনেও ব্যক্তিগত সুবিধার বিনিময়ে চক্রটিকে আশ্রয় দিচ্ছেন।
একজন ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“ম্যানেজার সবকিছু দেখেও না দেখার ভান করছেন। ফলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান
স্থানীয় থানা পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সকলকে—মালিক, ভাড়াটিয়া কিংবা নেপথ্যের মদদদাতা—আইনের আওতায় আনা হবে।
পুলিশ আরও জানায়, বাণিজ্যিক এলাকায় এ ধরনের জালিয়াতি ও চোরাই পণ্যের কারবার বন্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হবে।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
শপিংমলের সুনাম রক্ষা এবং সাধারণ ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।
তাদের দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে এই বাণিজ্যিক কেন্দ্রটিকে দুর্নীতি ও অনিয়মমুক্ত করা হোক।

রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকার শাহজাদপুরে অবস্থিত অভিজাত শপিংমল ‘সুবাস্তু নজর ভ্যালি’ এখন এক শ্রেণির অসাধু সিন্ডিকেটের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শপিংমলটির শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার তৌহিদের সরাসরি মদদে এখানে অবৈধ দোকান ভাড়া, সাইনবোর্ড জালিয়াতি এবং চোরাই পণ্যের কারবার চলছে বলে জানা গেছে।
এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে তারেক এবং তার সহযোগী বেলাল ও ফরিদের নাম উঠে এসেছে।
এক দোকানে দুই পরিচয়: অভিনব জালিয়াতি
অনুসন্ধানে জানা যায়, শপিংমলের ৫ম তলার (লিফটের ৪) ৫৭ নম্বর দোকানের মূল ভাড়াটিয়া তারেক। তিনি মূল মালিকের কাছ থেকে কম দামে দোকান ভাড়া নিয়ে গোপনে বেশি দামে সাবলেট দিয়েছেন বেলাল ও ফরিদকে।
এই জালিয়াতি আড়াল করতে দোকানের বাইরে ‘সেইফ কম্পিউটার’ (তারেকের প্রতিষ্ঠান) নাম ব্যবহার করা হলেও ভেতরে ‘বি প্লাস কম্পিউটার’ নামে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। তাদের ভিজিটিং কার্ড ও ফেসবুক পেজেও ‘বি প্লাস কম্পিউটার’ নাম ব্যবহার করে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।
নেই ডিড, নেই ট্রেড লাইসেন্স
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দোকানটি পরিচালনাকারী বেলালের নামে কোনো বৈধ ডিড (চুক্তিপত্র) নেই। এমনকি প্রতিষ্ঠানটির কোনো বৈধ ট্রেড লাইসেন্সও পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, বেলাল পূর্বে এলিফ্যান্ট রোডের মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারে ব্যবসা করার সময় অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও চুরির অভিযোগে বহিষ্কৃত হন। বর্তমানে তিনি সুবাস্তু নজর ভ্যালিকে নতুন করে অপরাধের আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছেন।
ম্যানেজারের রহস্যময় ভূমিকা
এ ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন শপিংমলের ম্যানেজার তৌহিদ। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, তিনি সবকিছু জেনেও ব্যক্তিগত সুবিধার বিনিময়ে চক্রটিকে আশ্রয় দিচ্ছেন।
একজন ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“ম্যানেজার সবকিছু দেখেও না দেখার ভান করছেন। ফলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান
স্থানীয় থানা পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সকলকে—মালিক, ভাড়াটিয়া কিংবা নেপথ্যের মদদদাতা—আইনের আওতায় আনা হবে।
পুলিশ আরও জানায়, বাণিজ্যিক এলাকায় এ ধরনের জালিয়াতি ও চোরাই পণ্যের কারবার বন্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হবে।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
শপিংমলের সুনাম রক্ষা এবং সাধারণ ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।
তাদের দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে এই বাণিজ্যিক কেন্দ্রটিকে দুর্নীতি ও অনিয়মমুক্ত করা হোক।

আপনার মতামত লিখুন