দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

নতুন রূপে ফিরছে প্যাকেজ ভ্যাট, অনলাইনে মিলবে তাৎক্ষণিক বিআইএন

নতুন রূপে ফিরছে প্যাকেজ ভ্যাট, অনলাইনে মিলবে তাৎক্ষণিক বিআইএন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবারও নেই ম্যাংগো ক্যালেন্ডার, পাকা হলেই বিক্রি করা যাবে আম

জানালার গ্রীল কেটে রাণীনগরের দোকানে চুরি, নগদসহ প্রায় ৭ লাখ টাকার মালামাল উধাও

কলেজ ফাঁকি দিয়ে নরসিংদী ভ্রমণ, মেঘনায় নিখোঁজ বিএএফ শাহীন কলেজের শিক্ষার্থী

টেকনাফে কোস্ট গার্ডের অভিযানে বিদেশি রাইফেল ও ৭০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার

তুরাগে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ পরিবারের

শার্শার গিলাপোলে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া

সোনারামপুরে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, গ্রাহকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক

“কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পে ৫১৭ কোটি টাকার ভর্তুকি লোপাট: অভিযুক্তদের বাঁচাতে ‘প্রকল্প বন্ধের চক্রান্ত’!”

“কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পে ৫১৭ কোটি টাকার ভর্তুকি লোপাট: অভিযুক্তদের বাঁচাতে ‘প্রকল্প বন্ধের চক্রান্ত’!”
-ছবি: সংগৃহীত

কৃষির আধুনিকায়নের লক্ষ্যে নেওয়া বৃহৎ সরকারি প্রকল্প—কৃষি যান্ত্রিকীকরণ কর্মসূচিতে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ তদন্তে জানা গেছে, বিভিন্ন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে অন্তত ৫১৭ কোটি টাকার ভর্তুকি আত্মসাৎ করা হয়েছে। অথচ বিস্ময়করভাবে এখনো অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি; বরং একটি প্রভাবশালী মহল তাদের রক্ষায় সক্রিয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

তদন্তে দেখা গেছে,

  • ১৩টি প্রতিষ্ঠান ৮৫০টি কম্বাইন হারভেস্টর যন্ত্রের বিপরীতে একাধিকবার বিল তুলেছে।
  • আরও ৯৭১টি যন্ত্রের নামে ভর্তুকি নেওয়া হয়েছে, যেগুলোর বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই।
  • অর্থাৎ, কাগজে-কলমে যন্ত্র দেখিয়ে শত শত কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি অনিয়ম করেছে:

  • বাংলামার্ক করপোরেশন – আমদানির চেয়ে ৭৩২টি বেশি যন্ত্র দেখিয়ে বিল উত্তোলন
  • এসকিউ ট্রেডিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং – ৫৮৩টি বেশি যন্ত্র দেখানো
    এছাড়া আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান শতাধিক ভুয়া যন্ত্র দেখিয়ে ভর্তুকি নিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অনিয়মকারীদের আড়াল করতেই প্রকল্পটি বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • পরিকল্পনা কমিশনের সাম্প্রতিক সভায় প্রকল্পটি বন্ধের সুপারিশ করা হয়েছে।
  • অথচ প্রকল্পে এখনো ৫০০ কোটির বেশি টাকা অবশিষ্ট রয়েছে।
  • নিয়ম অনুযায়ী সময়মতো সংশোধনের প্রস্তাব না দেওয়াও ছিল ‘ইচ্ছাকৃত’ বলে অভিযোগ।

এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রকল্পের প্রায় ১০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী, যারা ৭ মাসের বেশি সময় ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না, অথচ তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এই দুর্নীতিতে।



  • অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বরং তাদের সুবিধা দিয়েছেন
  • প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করেছেন
  • এমন সময় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, যখন নিয়ম অনুযায়ী তা গ্রহণযোগ্য নয়

এছাড়া রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা এখনো প্রকল্পটি পুনরায় চালু না হওয়ার জন্য তৎপর বলে জানা গেছে।


অভিযোগ রয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে, তারাই আবার বকেয়া বিল তুলতে সক্রিয় তদবির চালাচ্ছে।

  • মোট বকেয়া দাবি: ১০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা
  • এর মধ্যে একাই প্রায় ৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা দাবি করেছে বাংলামার্ক করপোরেশন

কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:

  • প্রকল্প বন্ধ করা সমাধান নয়
  • কারা কীভাবে ভর্তুকি আত্মসাৎ করেছে তা চিহ্নিত করা হবে
  • দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে

এছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীও বলেছেন,

“দুর্নীতি হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না, জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।”


বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটি পুনরায় চালু করলে—

  • অবশিষ্ট ৫২৮ কোটি টাকা স্বচ্ছভাবে ব্যয় করা সম্ভব
  • ভুয়া বিলের মাধ্যমে নেওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার করা যেতে পারে
  • সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে

কৃষির উন্নয়নের নামে নেওয়া এই বড় প্রকল্প এখন দুর্নীতির এক বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রকল্প বন্ধ করে দায় এড়ানো নয়—বরং স্বচ্ছ তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণই এখন সময়ের দাবি। না হলে কৃষি খাতের উন্নয়ন যেমন ব্যাহত হবে, তেমনি জনগণের আস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬


“কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পে ৫১৭ কোটি টাকার ভর্তুকি লোপাট: অভিযুক্তদের বাঁচাতে ‘প্রকল্প বন্ধের চক্রান্ত’!”

প্রকাশের তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

কৃষির আধুনিকায়নের লক্ষ্যে নেওয়া বৃহৎ সরকারি প্রকল্প—কৃষি যান্ত্রিকীকরণ কর্মসূচিতে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ তদন্তে জানা গেছে, বিভিন্ন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে অন্তত ৫১৭ কোটি টাকার ভর্তুকি আত্মসাৎ করা হয়েছে। অথচ বিস্ময়করভাবে এখনো অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি; বরং একটি প্রভাবশালী মহল তাদের রক্ষায় সক্রিয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

তদন্তে দেখা গেছে,

  • ১৩টি প্রতিষ্ঠান ৮৫০টি কম্বাইন হারভেস্টর যন্ত্রের বিপরীতে একাধিকবার বিল তুলেছে।
  • আরও ৯৭১টি যন্ত্রের নামে ভর্তুকি নেওয়া হয়েছে, যেগুলোর বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই।
  • অর্থাৎ, কাগজে-কলমে যন্ত্র দেখিয়ে শত শত কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি অনিয়ম করেছে:

  • বাংলামার্ক করপোরেশন – আমদানির চেয়ে ৭৩২টি বেশি যন্ত্র দেখিয়ে বিল উত্তোলন
  • এসকিউ ট্রেডিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং – ৫৮৩টি বেশি যন্ত্র দেখানো
    এছাড়া আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান শতাধিক ভুয়া যন্ত্র দেখিয়ে ভর্তুকি নিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অনিয়মকারীদের আড়াল করতেই প্রকল্পটি বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • পরিকল্পনা কমিশনের সাম্প্রতিক সভায় প্রকল্পটি বন্ধের সুপারিশ করা হয়েছে।
  • অথচ প্রকল্পে এখনো ৫০০ কোটির বেশি টাকা অবশিষ্ট রয়েছে।
  • নিয়ম অনুযায়ী সময়মতো সংশোধনের প্রস্তাব না দেওয়াও ছিল ‘ইচ্ছাকৃত’ বলে অভিযোগ।

এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রকল্পের প্রায় ১০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী, যারা ৭ মাসের বেশি সময় ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না, অথচ তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এই দুর্নীতিতে।



  • অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বরং তাদের সুবিধা দিয়েছেন
  • প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করেছেন
  • এমন সময় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, যখন নিয়ম অনুযায়ী তা গ্রহণযোগ্য নয়

এছাড়া রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা এখনো প্রকল্পটি পুনরায় চালু না হওয়ার জন্য তৎপর বলে জানা গেছে।


অভিযোগ রয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে, তারাই আবার বকেয়া বিল তুলতে সক্রিয় তদবির চালাচ্ছে।

  • মোট বকেয়া দাবি: ১০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা
  • এর মধ্যে একাই প্রায় ৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা দাবি করেছে বাংলামার্ক করপোরেশন

কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:

  • প্রকল্প বন্ধ করা সমাধান নয়
  • কারা কীভাবে ভর্তুকি আত্মসাৎ করেছে তা চিহ্নিত করা হবে
  • দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে

এছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীও বলেছেন,

“দুর্নীতি হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না, জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।”


বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটি পুনরায় চালু করলে—

  • অবশিষ্ট ৫২৮ কোটি টাকা স্বচ্ছভাবে ব্যয় করা সম্ভব
  • ভুয়া বিলের মাধ্যমে নেওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার করা যেতে পারে
  • সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে

কৃষির উন্নয়নের নামে নেওয়া এই বড় প্রকল্প এখন দুর্নীতির এক বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রকল্প বন্ধ করে দায় এড়ানো নয়—বরং স্বচ্ছ তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণই এখন সময়ের দাবি। না হলে কৃষি খাতের উন্নয়ন যেমন ব্যাহত হবে, তেমনি জনগণের আস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর