রায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে যুবদলের দুই পক্ষ। এ ঘটনায় অন্তত তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন ১৩ বছর বয়সী শিশু। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিসিক শিল্পাঞ্চলের পাশের চাঁদনী হাউজিং এলাকায় এ সংঘর্ষ শুরু হয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে, যা পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। পুলিশ জানায়, স্থানীয় যুবদলের দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা দ্বন্দ্বের জেরেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত। একটি পক্ষ প্রায় ১৮ মাস ধরে একটি কারখানার ঝুট নামানোর কাজ নিয়ন্ত্রণ করছিল। এ নিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিরোধ ক্রমেই তীব্র হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হন—এনায়েতনগর ইউনিয়ন বিএনপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হোসেন খোকার ছেলে রাকিব (২৩), বিএনপি কর্মী রফিক (৪০) এবং স্থানীয় কিশোর ইমরান হোসেন (১৩)। আহতদের মধ্যে ইমরান গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ইমরানের বড় বোন ইশা মনি জানান, মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎ গুলিবিদ্ধ হয় ইমরান। গুলি তার পেটের বাম পাশে লাগে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। বর্তমানে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়েছে এবং চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার জন্য বিপুল পরিমাণ রক্তের প্রয়োজন। অন্য দুই আহতকে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘বেস্ট স্টাইল কম্পোজিট লিমিটেড’ নামের একটি কারখানার ঝুট সংগ্রহকে কেন্দ্র করে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির অনুসারীদের সঙ্গে ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমানের পক্ষের বিরোধ চলছিল। এ বিরোধই সংঘর্ষের মূল কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে পুরো এলাকা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন। এদিকে, মাসুদুর রহমানের পক্ষের লোকজন অভিযোগ করেছেন যে প্রতিপক্ষ আগে থেকে কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে হামলা চালায়। অপরদিকে মশিউর রহমান রনি দাবি করেছেন, এটি কোনো রাজনৈতিক বিরোধ নয়, বরং সম্পূর্ণ ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব এবং এ ঘটনার সঙ্গে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কে বা কারা গুলি চালিয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ⚠️ এ ঘটনায় পুরো এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি।

বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬
রায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে যুবদলের দুই পক্ষ। এ ঘটনায় অন্তত তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন ১৩ বছর বয়সী শিশু। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিসিক শিল্পাঞ্চলের পাশের চাঁদনী হাউজিং এলাকায় এ সংঘর্ষ শুরু হয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে, যা পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। পুলিশ জানায়, স্থানীয় যুবদলের দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা দ্বন্দ্বের জেরেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত। একটি পক্ষ প্রায় ১৮ মাস ধরে একটি কারখানার ঝুট নামানোর কাজ নিয়ন্ত্রণ করছিল। এ নিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিরোধ ক্রমেই তীব্র হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হন—এনায়েতনগর ইউনিয়ন বিএনপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হোসেন খোকার ছেলে রাকিব (২৩), বিএনপি কর্মী রফিক (৪০) এবং স্থানীয় কিশোর ইমরান হোসেন (১৩)। আহতদের মধ্যে ইমরান গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ইমরানের বড় বোন ইশা মনি জানান, মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎ গুলিবিদ্ধ হয় ইমরান। গুলি তার পেটের বাম পাশে লাগে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। বর্তমানে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়েছে এবং চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার জন্য বিপুল পরিমাণ রক্তের প্রয়োজন। অন্য দুই আহতকে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘বেস্ট স্টাইল কম্পোজিট লিমিটেড’ নামের একটি কারখানার ঝুট সংগ্রহকে কেন্দ্র করে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির অনুসারীদের সঙ্গে ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমানের পক্ষের বিরোধ চলছিল। এ বিরোধই সংঘর্ষের মূল কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে পুরো এলাকা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন। এদিকে, মাসুদুর রহমানের পক্ষের লোকজন অভিযোগ করেছেন যে প্রতিপক্ষ আগে থেকে কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে হামলা চালায়। অপরদিকে মশিউর রহমান রনি দাবি করেছেন, এটি কোনো রাজনৈতিক বিরোধ নয়, বরং সম্পূর্ণ ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব এবং এ ঘটনার সঙ্গে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কে বা কারা গুলি চালিয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ⚠️ এ ঘটনায় পুরো এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি।

আপনার মতামত লিখুন