দুই সপ্তাহের শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও সতর্কতা থেকে একচুলও সরে আসেনি ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সামরিক বাহিনীকে সাময়িকভাবে গুলি চালানো বন্ধের নির্দেশ দিলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন—এটি যুদ্ধের সমাপ্তি নয়, বরং একটি কৌশলগত বিরতি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-এ প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সব সামরিক ইউনিটকে অস্ত্র ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন পরিস্থিতি বদলালে তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়া যায়। সংক্ষেপে, “আঙুল ট্রিগারেই থাকবে”—এই বার্তাই জোর দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে।
একই অবস্থান ব্যক্ত করেছে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদও। তাদের ভাষায়, যুদ্ধ শেষ হয়নি; বরং এটি একটি সংক্ষিপ্ত বিরতি। শত্রুপক্ষের যেকোনো সামান্য ভুলের জবাব পূর্ণ শক্তিতে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের হামলা বন্ধ রাখে, তবে তেহরানও যুদ্ধবিরতিতে যেতে প্রস্তুত। পাশাপাশি তিনি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন যে, এই সময়ের মধ্যে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা হবে—যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির-এর অনুরোধে ইরানের ওপর পরিকল্পিত বড় ধরনের হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।
নিজের মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্ম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক লক্ষ্য অনেকটাই অর্জন করেছে এবং এখন একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির দিকে এগোতে চায়। তবে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, এই যুদ্ধবিরতির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো—হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ নিরাপদ ও উন্মুক্ত রাখা।
সব মিলিয়ে, দুই পক্ষই আপাতত সংঘর্ষ থেকে সরে এসে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে। কিন্তু পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত ভঙ্গুর। সামান্য উত্তেজনাই আবার বড় সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলে।

বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬
দুই সপ্তাহের শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও সতর্কতা থেকে একচুলও সরে আসেনি ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সামরিক বাহিনীকে সাময়িকভাবে গুলি চালানো বন্ধের নির্দেশ দিলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন—এটি যুদ্ধের সমাপ্তি নয়, বরং একটি কৌশলগত বিরতি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-এ প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সব সামরিক ইউনিটকে অস্ত্র ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন পরিস্থিতি বদলালে তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়া যায়। সংক্ষেপে, “আঙুল ট্রিগারেই থাকবে”—এই বার্তাই জোর দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে।
একই অবস্থান ব্যক্ত করেছে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদও। তাদের ভাষায়, যুদ্ধ শেষ হয়নি; বরং এটি একটি সংক্ষিপ্ত বিরতি। শত্রুপক্ষের যেকোনো সামান্য ভুলের জবাব পূর্ণ শক্তিতে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের হামলা বন্ধ রাখে, তবে তেহরানও যুদ্ধবিরতিতে যেতে প্রস্তুত। পাশাপাশি তিনি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন যে, এই সময়ের মধ্যে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা হবে—যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির-এর অনুরোধে ইরানের ওপর পরিকল্পিত বড় ধরনের হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।
নিজের মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্ম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক লক্ষ্য অনেকটাই অর্জন করেছে এবং এখন একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির দিকে এগোতে চায়। তবে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, এই যুদ্ধবিরতির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো—হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ নিরাপদ ও উন্মুক্ত রাখা।
সব মিলিয়ে, দুই পক্ষই আপাতত সংঘর্ষ থেকে সরে এসে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে। কিন্তু পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত ভঙ্গুর। সামান্য উত্তেজনাই আবার বড় সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলে।

আপনার মতামত লিখুন