দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬

নতুন সরকারের প্রথম একনেক বৈঠক আজ: ১১ হাজার কোটি টাকার ১৭ প্রকল্পে বড় চমক!

নতুন সরকারের প্রথম একনেক বৈঠক আজ: ১১ হাজার কোটি টাকার ১৭ প্রকল্পে বড় চমক!

জ্বালানি সংকটে থমকে দেশ: অর্ধেকে নেমেছে বাস, তিনগুণ ভাড়া—যাত্রী দুর্ভোগ চরমে

জ্বালানি সংকটে পানি সরবরাহে শঙ্কা: চাপে ঢাকা ওয়াসা, প্রস্তুতি নিতে বলা হচ্ছে নাগরিকদের

“ধ্বংস না সংলাপ? ট্রাম্পের দ্বিমুখী কূটনীতি ঘিরে তুমুল বিতর্ক”

“মার্কিন ‘সাহসী অভিযান’ নাকি ব্যর্থ মিশন? নিখোঁজ পাইলট ইস্যুতে তীব্র মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

????️ ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা: দেশের ১৫ জেলায় ঘণ্টায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আশঙ্কা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক—ঐতিহাসিক ছবি ও হোয়াইট হাউসের রেপ্লিকা উপহার

রাজধানীর মাছ ও মাংসের বাজারে স্বস্তির কোন চিহ্ন নেই, ক্রেতাদের ভোগান্তি তুঙ্গে

জ্বালানি সংকটে পানি সরবরাহে শঙ্কা: চাপে ঢাকা ওয়াসা, প্রস্তুতি নিতে বলা হচ্ছে নাগরিকদের

জ্বালানি সংকটে পানি সরবরাহে শঙ্কা: চাপে ঢাকা ওয়াসা, প্রস্তুতি নিতে বলা হচ্ছে নাগরিকদের

রাজধানীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জ্বালানি সংকট ও সম্ভাব্য বাড়তি লোডশেডিংয়ের কারণে দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে—এমন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ঢাকা ওয়াসা সংশ্লিষ্ট মহলে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে পানির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে ঢাকা ওয়াসার দৈনিক পানি উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৮৯ কোটি লিটার, যেখানে চাহিদা রয়েছে প্রায় ১৯৩ কোটি লিটার। অর্থাৎ সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় বেশি থাকলেও পুরো ব্যবস্থাটি বিদ্যুৎনির্ভর হওয়ায় জ্বালানি সংকট বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। ১ হাজারের বেশি পাম্প নিয়মিত চালু রাখতে না পারলে উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, মোট ১,২৬১টি পাম্পের মধ্যে বর্তমানে ১,২২৩টি চালু রয়েছে। এসব পাম্পের একটি বড় অংশ গভীর নলকূপনির্ভর, যেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলেই তাৎক্ষণিকভাবে পানি উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে লোডশেডিং বাড়লে সরাসরি প্রভাব পড়বে পানির সরবরাহে।

রাজধানী ঢাকা এবং নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ মানুষের জন্য পানি সরবরাহ করে ঢাকা ওয়াসা। ৯৬০টি গভীর নলকূপের পাশাপাশি সায়েদাবাদ, চাঁদনীঘাট, পদ্মা, সাভারের ভাকুর্তা-তেঁতুলঝোড়া এবং মেঘনা পানি শোধনাগার থেকে পানি সরবরাহ করা হয়।

মোট পানির প্রায় ৬৫ থেকে ৮২ শতাংশ আসে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে এবং বাকি ১৮ থেকে ৩৫ শতাংশ আসে নদীর পানি পরিশোধনের মাধ্যমে। পুরো সরবরাহ প্রক্রিয়াটিই বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বিদ্যুৎ সংকট পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাকা ওয়াসা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে এবং পাম্প সচল রাখতে পর্যাপ্ত জ্বালানির নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সায়েদাবাদ পানি শোধনাগারে আগে যেখানে ৮ দিনের জ্বালানি মজুদ রাখা হতো, সেখানে এখন অন্তত ১০ দিনের মজুদের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সংকট মাথায় রেখেই একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। পানি সরবরাহকে জরুরি সেবা হিসেবে ধরে রাখতে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

তবে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলছেন, জ্বালানি সংকট গভীর হলে নির্দিষ্ট এলাকায় পানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে পানির ট্যাংকার বা গাড়ির মাধ্যমে সরবরাহ করতে হতে পারে।

এ অবস্থায় নাগরিকদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় পানি ব্যবহার কমানো, সংরক্ষণ বাড়ানো এবং অপচয় রোধের মাধ্যমে সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় সবাইকে এগিয়ে আসার পরামর্শ দিয়েছে ওয়াসা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আতঙ্কিত না হয়ে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তুত থাকাই এখন সবচেয়ে জরুরি। কারণ পানি শুধু একটি সেবা নয়—এটি প্রতিদিনের জীবনের অপরিহার্য উপাদান।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬


জ্বালানি সংকটে পানি সরবরাহে শঙ্কা: চাপে ঢাকা ওয়াসা, প্রস্তুতি নিতে বলা হচ্ছে নাগরিকদের

প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

রাজধানীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জ্বালানি সংকট ও সম্ভাব্য বাড়তি লোডশেডিংয়ের কারণে দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে—এমন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ঢাকা ওয়াসা সংশ্লিষ্ট মহলে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে পানির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে ঢাকা ওয়াসার দৈনিক পানি উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৮৯ কোটি লিটার, যেখানে চাহিদা রয়েছে প্রায় ১৯৩ কোটি লিটার। অর্থাৎ সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় বেশি থাকলেও পুরো ব্যবস্থাটি বিদ্যুৎনির্ভর হওয়ায় জ্বালানি সংকট বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। ১ হাজারের বেশি পাম্প নিয়মিত চালু রাখতে না পারলে উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, মোট ১,২৬১টি পাম্পের মধ্যে বর্তমানে ১,২২৩টি চালু রয়েছে। এসব পাম্পের একটি বড় অংশ গভীর নলকূপনির্ভর, যেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলেই তাৎক্ষণিকভাবে পানি উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে লোডশেডিং বাড়লে সরাসরি প্রভাব পড়বে পানির সরবরাহে।

রাজধানী ঢাকা এবং নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ মানুষের জন্য পানি সরবরাহ করে ঢাকা ওয়াসা। ৯৬০টি গভীর নলকূপের পাশাপাশি সায়েদাবাদ, চাঁদনীঘাট, পদ্মা, সাভারের ভাকুর্তা-তেঁতুলঝোড়া এবং মেঘনা পানি শোধনাগার থেকে পানি সরবরাহ করা হয়।

মোট পানির প্রায় ৬৫ থেকে ৮২ শতাংশ আসে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে এবং বাকি ১৮ থেকে ৩৫ শতাংশ আসে নদীর পানি পরিশোধনের মাধ্যমে। পুরো সরবরাহ প্রক্রিয়াটিই বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বিদ্যুৎ সংকট পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাকা ওয়াসা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে এবং পাম্প সচল রাখতে পর্যাপ্ত জ্বালানির নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সায়েদাবাদ পানি শোধনাগারে আগে যেখানে ৮ দিনের জ্বালানি মজুদ রাখা হতো, সেখানে এখন অন্তত ১০ দিনের মজুদের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সংকট মাথায় রেখেই একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। পানি সরবরাহকে জরুরি সেবা হিসেবে ধরে রাখতে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

তবে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলছেন, জ্বালানি সংকট গভীর হলে নির্দিষ্ট এলাকায় পানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে পানির ট্যাংকার বা গাড়ির মাধ্যমে সরবরাহ করতে হতে পারে।

এ অবস্থায় নাগরিকদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় পানি ব্যবহার কমানো, সংরক্ষণ বাড়ানো এবং অপচয় রোধের মাধ্যমে সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় সবাইকে এগিয়ে আসার পরামর্শ দিয়েছে ওয়াসা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আতঙ্কিত না হয়ে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তুত থাকাই এখন সবচেয়ে জরুরি। কারণ পানি শুধু একটি সেবা নয়—এটি প্রতিদিনের জীবনের অপরিহার্য উপাদান।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর