দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬

ভূমধ্যসাগরে মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি: নৌকাডুবিতে নিখোঁজ অন্তত ৭০, বাংলাদেশিসহ ৩২ জন জীবিত উদ্ধার

ভূমধ্যসাগরে মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি: নৌকাডুবিতে নিখোঁজ অন্তত ৭০, বাংলাদেশিসহ ৩২ জন জীবিত উদ্ধার

জ্বালানি নিরাপত্তা: বাংলাদেশ সরকার মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও কাজাখস্তান থেকে তেল আমদানিতে জোর

“দ্রব্যমূল্য বাড়বেই—স্পষ্ট বার্তা অর্থমন্ত্রীর: জ্বালানি সংকটে চাপে পুরো অর্থনীতি”

কদমতলীর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: নিহত-আহতদের পাশে প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের জন্য ‘বড় চমক’! ইরানের রহস্যময় হুঁশিয়ারি ঘিরে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ

“প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এআইআইবি প্রতিনিধি দলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক: জ্বালানি সংকট ও অবকাঠামো উন্নয়নে সমন্বয়”

লক্ষ্মীপুরে কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক জোন গড়ে ‘স্বনির্ভর দেশ’ গঠনের উদ্যোগ

সুনামগঞ্জে বাঁধ কেটে দেওয়ার ঘটনায় সংঘর্ষ, ২০ জন আহত

পার্বত্য অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ধীরগতি: সময় পেরিয়ে ৮ বছরে, খরচ বেড়ে ৮৩৬ কোটি টাকা

পার্বত্য অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ধীরগতি: সময় পেরিয়ে ৮ বছরে, খরচ বেড়ে ৮৩৬ কোটি টাকা

দেশের তিন পার্বত্য জেলা—রাঙ্গামাটি, বান্দরবানখাগড়াছড়ি—এ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পটি অনুমোদন বিলম্ব ও ঠিকাদারদের ধীরগতির কারণে দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে। পাঁচ বছরের এ প্রকল্প এখন আট বছরেও শেষ হচ্ছে না, বরং সময় ও ব্যয়—দুটিই বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।



২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল এবং ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৪৯ কোটি টাকা।

কিন্তু বাস্তবতায় দেখা গেছে—

  • প্রকল্পের মেয়াদ ইতোমধ্যে দুই দফা বাড়ানো হয়েছে
  • সর্বশেষ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত
  • ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৩৬ কোটি টাকা

অর্থাৎ, সময় বেড়েছে ৩ বছর এবং ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৮৭ কোটি টাকা।



পরিকল্পনা কমিশন-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সাড়ে ৭ বছরে প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৯১.৭৪ শতাংশ।

এ সময়ের মধ্যে ব্যয় হয়েছে—

  • প্রায় ৬৯৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা
  • যা মোট অনুমোদিত ব্যয়ের ৮৩.৪২ শতাংশ

অর্থাৎ, অধিকাংশ কাজ শেষ হলেও বাকি অংশ সম্পন্ন করতে সময়মতো গতি পাওয়া যায়নি।



প্রকল্প পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের ধীরগতির পেছনে প্রধান কারণগুলো হলো—

১. অনুমোদনে দীর্ঘ বিলম্ব

দ্বিতীয় সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদন পেতে প্রায় এক বছর সময় লেগেছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে অনেক কাজ শুরুই করা যায়নি।

২. ঠিকাদারদের ধীরগতি

২০২৫ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে মাঠ পর্যায়ে কাজের গতি কমে যায়। এতে বেশ কিছু পূর্ত কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

৩. প্রাকৃতিক দুর্যোগ

অতিবৃষ্টি, ভূমিধস ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পার্বত্য অঞ্চলের সড়ক ও অবকাঠামো বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা কাজের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে।



প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত বানিয়াছড়া-গজালিয়া সড়কের একটি অংশ (আইডি: ৪০৩৫১৩১০) অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক জানিয়েছেন—

  • পূর্ব নির্ধারিত চেইনেজ পরিবর্তন করে জরুরি অংশে কাজ করা প্রয়োজন
  • এই অংশ দ্রুত সংস্কার না করলে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে


স্থানীয় সরকার বিভাগ ও পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন—

  • প্রকল্পের বাকি কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
  • গুণগত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করতে হবে
  • নির্ধারিত সময় ও ব্যয়ের মধ্যে শেষ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে

তবে বর্তমান অগ্রগতির ধারা বিবেচনায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে।



পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘসূত্রতা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং বাস্তবায়নে দুর্বলতার কারণে প্রকল্পটি কাঙ্ক্ষিত সময়ে শেষ হচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত, কঠোর তদারকি এবং ঠিকাদারদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রকল্প একই সমস্যায় পড়বে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬


পার্বত্য অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ধীরগতি: সময় পেরিয়ে ৮ বছরে, খরচ বেড়ে ৮৩৬ কোটি টাকা

প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশের তিন পার্বত্য জেলা—রাঙ্গামাটি, বান্দরবানখাগড়াছড়ি—এ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পটি অনুমোদন বিলম্ব ও ঠিকাদারদের ধীরগতির কারণে দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে। পাঁচ বছরের এ প্রকল্প এখন আট বছরেও শেষ হচ্ছে না, বরং সময় ও ব্যয়—দুটিই বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।



২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল এবং ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৪৯ কোটি টাকা।

কিন্তু বাস্তবতায় দেখা গেছে—

  • প্রকল্পের মেয়াদ ইতোমধ্যে দুই দফা বাড়ানো হয়েছে
  • সর্বশেষ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত
  • ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৩৬ কোটি টাকা

অর্থাৎ, সময় বেড়েছে ৩ বছর এবং ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৮৭ কোটি টাকা।



পরিকল্পনা কমিশন-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সাড়ে ৭ বছরে প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৯১.৭৪ শতাংশ।

এ সময়ের মধ্যে ব্যয় হয়েছে—

  • প্রায় ৬৯৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা
  • যা মোট অনুমোদিত ব্যয়ের ৮৩.৪২ শতাংশ

অর্থাৎ, অধিকাংশ কাজ শেষ হলেও বাকি অংশ সম্পন্ন করতে সময়মতো গতি পাওয়া যায়নি।



প্রকল্প পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের ধীরগতির পেছনে প্রধান কারণগুলো হলো—

১. অনুমোদনে দীর্ঘ বিলম্ব

দ্বিতীয় সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদন পেতে প্রায় এক বছর সময় লেগেছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে অনেক কাজ শুরুই করা যায়নি।

২. ঠিকাদারদের ধীরগতি

২০২৫ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে মাঠ পর্যায়ে কাজের গতি কমে যায়। এতে বেশ কিছু পূর্ত কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

৩. প্রাকৃতিক দুর্যোগ

অতিবৃষ্টি, ভূমিধস ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পার্বত্য অঞ্চলের সড়ক ও অবকাঠামো বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা কাজের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে।



প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত বানিয়াছড়া-গজালিয়া সড়কের একটি অংশ (আইডি: ৪০৩৫১৩১০) অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক জানিয়েছেন—

  • পূর্ব নির্ধারিত চেইনেজ পরিবর্তন করে জরুরি অংশে কাজ করা প্রয়োজন
  • এই অংশ দ্রুত সংস্কার না করলে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে


স্থানীয় সরকার বিভাগ ও পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন—

  • প্রকল্পের বাকি কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
  • গুণগত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করতে হবে
  • নির্ধারিত সময় ও ব্যয়ের মধ্যে শেষ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে

তবে বর্তমান অগ্রগতির ধারা বিবেচনায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে।



পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘসূত্রতা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং বাস্তবায়নে দুর্বলতার কারণে প্রকল্পটি কাঙ্ক্ষিত সময়ে শেষ হচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত, কঠোর তদারকি এবং ঠিকাদারদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রকল্প একই সমস্যায় পড়বে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর