দেশের তিন পার্বত্য জেলা—রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি—এ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পটি অনুমোদন বিলম্ব ও ঠিকাদারদের ধীরগতির কারণে দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে। পাঁচ বছরের এ প্রকল্প এখন আট বছরেও শেষ হচ্ছে না, বরং সময় ও ব্যয়—দুটিই বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল এবং ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৪৯ কোটি টাকা।
কিন্তু বাস্তবতায় দেখা গেছে—
অর্থাৎ, সময় বেড়েছে ৩ বছর এবং ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৮৭ কোটি টাকা।
পরিকল্পনা কমিশন-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সাড়ে ৭ বছরে প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৯১.৭৪ শতাংশ।
এ সময়ের মধ্যে ব্যয় হয়েছে—
অর্থাৎ, অধিকাংশ কাজ শেষ হলেও বাকি অংশ সম্পন্ন করতে সময়মতো গতি পাওয়া যায়নি।
প্রকল্প পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের ধীরগতির পেছনে প্রধান কারণগুলো হলো—
দ্বিতীয় সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদন পেতে প্রায় এক বছর সময় লেগেছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে অনেক কাজ শুরুই করা যায়নি।
২০২৫ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে মাঠ পর্যায়ে কাজের গতি কমে যায়। এতে বেশ কিছু পূর্ত কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
অতিবৃষ্টি, ভূমিধস ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পার্বত্য অঞ্চলের সড়ক ও অবকাঠামো বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা কাজের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত বানিয়াছড়া-গজালিয়া সড়কের একটি অংশ (আইডি: ৪০৩৫১৩১০) অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক জানিয়েছেন—
স্থানীয় সরকার বিভাগ ও পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন—
তবে বর্তমান অগ্রগতির ধারা বিবেচনায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে।
পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘসূত্রতা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং বাস্তবায়নে দুর্বলতার কারণে প্রকল্পটি কাঙ্ক্ষিত সময়ে শেষ হচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত, কঠোর তদারকি এবং ঠিকাদারদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রকল্প একই সমস্যায় পড়বে।

সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬
দেশের তিন পার্বত্য জেলা—রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি—এ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পটি অনুমোদন বিলম্ব ও ঠিকাদারদের ধীরগতির কারণে দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে। পাঁচ বছরের এ প্রকল্প এখন আট বছরেও শেষ হচ্ছে না, বরং সময় ও ব্যয়—দুটিই বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল এবং ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৪৯ কোটি টাকা।
কিন্তু বাস্তবতায় দেখা গেছে—
অর্থাৎ, সময় বেড়েছে ৩ বছর এবং ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৮৭ কোটি টাকা।
পরিকল্পনা কমিশন-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সাড়ে ৭ বছরে প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৯১.৭৪ শতাংশ।
এ সময়ের মধ্যে ব্যয় হয়েছে—
অর্থাৎ, অধিকাংশ কাজ শেষ হলেও বাকি অংশ সম্পন্ন করতে সময়মতো গতি পাওয়া যায়নি।
প্রকল্প পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের ধীরগতির পেছনে প্রধান কারণগুলো হলো—
দ্বিতীয় সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদন পেতে প্রায় এক বছর সময় লেগেছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে অনেক কাজ শুরুই করা যায়নি।
২০২৫ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে মাঠ পর্যায়ে কাজের গতি কমে যায়। এতে বেশ কিছু পূর্ত কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
অতিবৃষ্টি, ভূমিধস ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পার্বত্য অঞ্চলের সড়ক ও অবকাঠামো বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা কাজের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত বানিয়াছড়া-গজালিয়া সড়কের একটি অংশ (আইডি: ৪০৩৫১৩১০) অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক জানিয়েছেন—
স্থানীয় সরকার বিভাগ ও পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন—
তবে বর্তমান অগ্রগতির ধারা বিবেচনায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে।
পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘসূত্রতা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং বাস্তবায়নে দুর্বলতার কারণে প্রকল্পটি কাঙ্ক্ষিত সময়ে শেষ হচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত, কঠোর তদারকি এবং ঠিকাদারদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রকল্প একই সমস্যায় পড়বে।

আপনার মতামত লিখুন