দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : রোববার, ০৩ মে ২০২৬

সৌদি পৌঁছেছেন ৪৩ হাজারের বেশি হজযাত্রী, শুরু হয়েছে পবিত্র যাত্রার ব্যস্ততা

সৌদি পৌঁছেছেন ৪৩ হাজারের বেশি হজযাত্রী, শুরু হয়েছে পবিত্র যাত্রার ব্যস্ততা

যুক্তরাষ্ট্রে নিহত লিমনের মরদেহ দেশে পথে, বৃষ্টির মরদেহ পাঠানোর প্রক্রিয়া দ্রুততর

মক্কা-মদিনায় বাংলাদেশি হাজিদের মৃত্যু বাড়ছে, পৌঁছেছেন ৩৮ হাজারের বেশি

সৌদিতে আরও দুই বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু, সংখ্যা বেড়ে ৬

ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে মালয়েশিয়ায় ধরা পড়লেন ৫৬ বাংলাদেশি

হজযাত্রা জমে উঠছে: ইতোমধ্যে সৌদিতে ৩২৫৩২ বাংলাদেশি, দুইজনের মৃত্যু

প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় সৌদি আরবে দেশবন্ধুর কমিটি গঠন

অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবার এমআইএসটি অ্যালামনাই পুনর্মিলনী, মেলবোর্নে জমল প্রবাসী প্রাক্তনদের মিলনমেলা

সৌদি পৌঁছেছেন ৪৩ হাজারের বেশি হজযাত্রী, শুরু হয়েছে পবিত্র যাত্রার ব্যস্ততা

সৌদি পৌঁছেছেন ৪৩ হাজারের বেশি হজযাত্রী, শুরু হয়েছে পবিত্র যাত্রার ব্যস্ততা
-ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে হজযাত্রীদের যাত্রা এখন পুরোদমে চলছে। ইতোমধ্যে ১০৮টি ফ্লাইটে ৪৩ হাজার ১৯ জন হাজি সৌদি আরবে পৌঁছেছেন—যা চলতি বছরের হজ ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রবিবার (৩ মে) সকালে প্রকাশিত সর্বশেষ হজ বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অধিকাংশ হজযাত্রীকে নিরাপদে সৌদি আরবে পৌঁছে দিতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।


ফ্লাইট অনুযায়ী যাত্রী পরিবহন

হজ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত তিনটি এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশি হজযাত্রীরা সৌদি আরবে গেছেন। এর মধ্যে—

এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থাই সবচেয়ে বেশি যাত্রী পরিবহন করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ফ্লাইট ব্যবস্থাপনা এখন পর্যন্ত পরিকল্পনা অনুযায়ীই এগোচ্ছে।


প্রথম ফ্লাইট ও যাত্রার সূচনা

চলতি বছরের হজ ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু হয় গত ১৭ এপ্রিল রাতে। ওইদিন রাত ১১টা ৫৭ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪১৯ জন যাত্রী নিয়ে প্রথম ফ্লাইটটি জেদ্দার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

এরপর থেকে প্রতিদিন একাধিক ফ্লাইটে হজযাত্রীরা সৌদি আরবে পৌঁছাচ্ছেন। যাত্রাপথে যাত্রীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দর ও হজ ক্যাম্পে বাড়তি নজরদারি রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।


মোট হজযাত্রী ও ব্যবস্থাপনা

চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালনের অনুমতি পেয়েছেন। এর মধ্যে—

এই বিশাল সংখ্যক যাত্রী ব্যবস্থাপনায় কাজ করছে ৬৬০টি হজ এজেন্সি। এর মধ্যে ৩০টি প্রধান এবং ৬৩০টি সমন্বয়কারী এজেন্সি রয়েছে।

একজন হজ এজেন্সির কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থেকে বলেন, “এবার যাত্রী সংখ্যা বেশি হলেও সমন্বয় আগের তুলনায় ভালো। তবে শেষ সময়ের চাপ সামলাতে বাড়তি প্রস্তুতি জরুরি।”


হজে গিয়ে মৃত্যুর খবর

এদিকে হজ পালন করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৭ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ৫ জন মক্কায় এবং ২ জন মদিনায় মারা গেছেন বলে বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ ভ্রমণ, আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং শারীরিক দুর্বলতার কারণে অনেক সময় হজযাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাই আগে থেকেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একজন চিকিৎসক জানান, “বয়স্ক হজযাত্রীদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা দরকার। নিয়মিত পানি পান, বিশ্রাম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি।”


সম্ভাব্য হজের তারিখ ও প্রস্তুতি

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে, আগামী ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই হিসেবে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা ঘিরে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষও বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা, পরিবহন ও স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানা গেছে।


বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য মক্কা ও মদিনায় আবাসন, খাবার ও গাইডলাইন নিশ্চিত করতে হজ মিশন কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


ফিরতি ফ্লাইটের সময়সূচি

হজ শেষে দেশে ফেরার কার্যক্রমও নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পরিচালিত হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী—

  • আগামী ৩০ মে জেদ্দা থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে
  • শেষ ফ্লাইটটি ৩০ জুন ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবে

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফিরতি যাত্রায় যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না হয়, সেজন্য আগেভাগেই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।


চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড় সংখ্যক মানুষের আন্তর্জাতিক যাত্রা একটি বড় লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ। বিমান ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, আবাসন—সবকিছুই সমন্বিতভাবে পরিচালনা করতে হয়।

একজন বিশ্লেষক বলেন, “হজ শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি একটি বৃহৎ ব্যবস্থাপনার পরীক্ষা। এখানে ছোট একটি ত্রুটিও বড় সমস্যার কারণ হতে পারে।”

তবে এখন পর্যন্ত যাত্রা নির্বিঘ্ন থাকায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে স্বস্তি দেখা যাচ্ছে।


প্রশাসনের ভূমিকা ও করণীয়

হজ ব্যবস্থাপনায় সরকারের বিভিন্ন সংস্থা একযোগে কাজ করছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং স্বাস্থ্য বিভাগ সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে।

তবে কিছু যাত্রী অভিযোগ করেছেন, বিমানবন্দরে দীর্ঘ অপেক্ষা ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সময় বেশি লাগছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে—

  • দ্রুত ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া
  • পর্যাপ্ত তথ্যসেবা
  • স্বাস্থ্য সহায়তা বাড়ানো

এসব বিষয়ে আরও জোর দেওয়া প্রয়োজন।


উপসংহার

সব মিলিয়ে, চলতি বছরের হজ যাত্রা এখন পর্যন্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে। ইতোমধ্যে ৪৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছানো একটি বড় অগ্রগতি। তবে সামনে এখনও বড় একটি অংশের যাত্রা বাকি।

সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং সময়মতো সমন্বয়ের মাধ্যমে পুরো হজ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষয় : বাংলাদেশ হজযাত্রী ২০২৬ সৌদি আরব হজ আপডেট মক্কা মদিনা হজ খবর

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ০৩ মে ২০২৬


সৌদি পৌঁছেছেন ৪৩ হাজারের বেশি হজযাত্রী, শুরু হয়েছে পবিত্র যাত্রার ব্যস্ততা

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬

featured Image

পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে হজযাত্রীদের যাত্রা এখন পুরোদমে চলছে। ইতোমধ্যে ১০৮টি ফ্লাইটে ৪৩ হাজার ১৯ জন হাজি সৌদি আরবে পৌঁছেছেন—যা চলতি বছরের হজ ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রবিবার (৩ মে) সকালে প্রকাশিত সর্বশেষ হজ বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অধিকাংশ হজযাত্রীকে নিরাপদে সৌদি আরবে পৌঁছে দিতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।


ফ্লাইট অনুযায়ী যাত্রী পরিবহন

হজ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত তিনটি এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশি হজযাত্রীরা সৌদি আরবে গেছেন। এর মধ্যে—

  • বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৫০টি ফ্লাইটে গেছেন ২০ হাজার ৪৮৩ জন
  • সৌদি এয়ারলাইন্সের ৩৯টি ফ্লাইটে গেছেন ১৪ হাজার ৬৪৬ জন

  • ফ্লাইনাসের ১৯টি ফ্লাইটে গেছেন ৭ হাজার ৮৯০ জন

এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থাই সবচেয়ে বেশি যাত্রী পরিবহন করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ফ্লাইট ব্যবস্থাপনা এখন পর্যন্ত পরিকল্পনা অনুযায়ীই এগোচ্ছে।


প্রথম ফ্লাইট ও যাত্রার সূচনা

চলতি বছরের হজ ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু হয় গত ১৭ এপ্রিল রাতে। ওইদিন রাত ১১টা ৫৭ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪১৯ জন যাত্রী নিয়ে প্রথম ফ্লাইটটি জেদ্দার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

এরপর থেকে প্রতিদিন একাধিক ফ্লাইটে হজযাত্রীরা সৌদি আরবে পৌঁছাচ্ছেন। যাত্রাপথে যাত্রীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দর ও হজ ক্যাম্পে বাড়তি নজরদারি রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।


মোট হজযাত্রী ও ব্যবস্থাপনা

চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালনের অনুমতি পেয়েছেন। এর মধ্যে—

  • সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাচ্ছেন ৪ হাজার ৫৬৫ জন
  • বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাচ্ছেন ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন

এই বিশাল সংখ্যক যাত্রী ব্যবস্থাপনায় কাজ করছে ৬৬০টি হজ এজেন্সি। এর মধ্যে ৩০টি প্রধান এবং ৬৩০টি সমন্বয়কারী এজেন্সি রয়েছে।

একজন হজ এজেন্সির কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থেকে বলেন, “এবার যাত্রী সংখ্যা বেশি হলেও সমন্বয় আগের তুলনায় ভালো। তবে শেষ সময়ের চাপ সামলাতে বাড়তি প্রস্তুতি জরুরি।”


হজে গিয়ে মৃত্যুর খবর

এদিকে হজ পালন করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৭ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ৫ জন মক্কায় এবং ২ জন মদিনায় মারা গেছেন বলে বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ ভ্রমণ, আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং শারীরিক দুর্বলতার কারণে অনেক সময় হজযাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাই আগে থেকেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একজন চিকিৎসক জানান, “বয়স্ক হজযাত্রীদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা দরকার। নিয়মিত পানি পান, বিশ্রাম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি।”


সম্ভাব্য হজের তারিখ ও প্রস্তুতি

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে, আগামী ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই হিসেবে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা ঘিরে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষও বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা, পরিবহন ও স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানা গেছে।


বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য মক্কা ও মদিনায় আবাসন, খাবার ও গাইডলাইন নিশ্চিত করতে হজ মিশন কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


ফিরতি ফ্লাইটের সময়সূচি

হজ শেষে দেশে ফেরার কার্যক্রমও নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পরিচালিত হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী—

  • আগামী ৩০ মে জেদ্দা থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে
  • শেষ ফ্লাইটটি ৩০ জুন ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবে

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফিরতি যাত্রায় যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না হয়, সেজন্য আগেভাগেই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।


চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড় সংখ্যক মানুষের আন্তর্জাতিক যাত্রা একটি বড় লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ। বিমান ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, আবাসন—সবকিছুই সমন্বিতভাবে পরিচালনা করতে হয়।

একজন বিশ্লেষক বলেন, “হজ শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি একটি বৃহৎ ব্যবস্থাপনার পরীক্ষা। এখানে ছোট একটি ত্রুটিও বড় সমস্যার কারণ হতে পারে।”

তবে এখন পর্যন্ত যাত্রা নির্বিঘ্ন থাকায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে স্বস্তি দেখা যাচ্ছে।


প্রশাসনের ভূমিকা ও করণীয়

হজ ব্যবস্থাপনায় সরকারের বিভিন্ন সংস্থা একযোগে কাজ করছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং স্বাস্থ্য বিভাগ সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে।

তবে কিছু যাত্রী অভিযোগ করেছেন, বিমানবন্দরে দীর্ঘ অপেক্ষা ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সময় বেশি লাগছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে—

  • দ্রুত ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া
  • পর্যাপ্ত তথ্যসেবা
  • স্বাস্থ্য সহায়তা বাড়ানো

এসব বিষয়ে আরও জোর দেওয়া প্রয়োজন।


উপসংহার

সব মিলিয়ে, চলতি বছরের হজ যাত্রা এখন পর্যন্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে। ইতোমধ্যে ৪৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছানো একটি বড় অগ্রগতি। তবে সামনে এখনও বড় একটি অংশের যাত্রা বাকি।

সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং সময়মতো সমন্বয়ের মাধ্যমে পুরো হজ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর