মরদেহ বিকৃত করে গোপন করার চেষ্টা: কক্সবাজারে স্বামীর স্বীকারোক্তি
কক্সবাজারে এক নারীকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। গলা কাটা এবং হাতের কব্জিবিহীন মরদেহ উদ্ধারের রহস্য শেষ পর্যন্ত উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহতের স্বামীকেই গ্রেফতার করা হয়েছে, যা পুরো এলাকাকে নাড়িয়ে দিয়েছে।পুলিশ জানায়, গত ১১ এপ্রিল ২০২৬ বিকেল প্রায় ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের জানার ঘোনা এলাকার একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি ছিল মস্তকবিহীন এবং দুই হাতের কব্জি কাটা। এমন ভয়াবহ অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।ঘটনার পরপরই কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং স্থানীয়দের সহায়তায় কয়েকদিনের মধ্যেই নিহত নারীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তিনি শাহিদা আক্তার রিপা (মুন্নি) নামে পরিচিত। এরপর তদন্তের গতি বাড়ানো হলে সন্দেহের তীর যায় তার স্বামী সাইফুল ইসলাম তারেকের দিকে।পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাইফুল ইসলাম তারেককে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটান। ঘটনার দিন তিনি রসমালাইয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্ত্রীকে খাওয়ান। স্ত্রী অচেতন হয়ে পড়লে ধারালো ছুরি দিয়ে তাকে হত্যা করেন।হত্যার পর ঘটনাটি গোপন করতে তিনি মরদেহের মাথা এবং দুই হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন করেন। পরদিন তিনি মস্তকবিহীন মরদেহটি একটি ডোবায় ফেলে দেন। আর বিচ্ছিন্ন মাথা ও হাতের কব্জি খুরুশকুল নতুন ব্রিজ এলাকা থেকে বাঁকখালী নদীতে ফেলে দেন বলে স্বীকার করেছেন।ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ আসামির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি এবং ঘুমের ওষুধ মেশানো রসমালাইয়ের কিছু অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করেছে। বর্তমানে বাঁকখালী নদীতে নিহতের বিচ্ছিন্ন অঙ্গ উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, পারিবারিক বিরোধ বা ব্যক্তিগত সমস্যার জেরে এমন ভয়াবহ অপরাধ দিন দিন বাড়ছে, যা সমাজের জন্য বড় হুমকি।উল্লেখ্য, কক্সবাজার জেলায় এর আগেও বিচ্ছিন্নভাবে কিছু হত্যা ও লাশ গুমের ঘটনা সামনে এসেছে। তবে এই ঘটনার নির্মমতা এবং পরিকল্পিত দিকটি বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত অপরাধী আগে থেকেই পরিকল্পনা করে এবং প্রমাণ লুকানোর চেষ্টা করে, যা তদন্তকে জটিল করে তোলে।পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং মামলার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
সব মিলিয়ে, এই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্য একটি সতর্কবার্তা। ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব বা রাগ থেকে এমন ভয়াবহ অপরাধ যেন আর না ঘটে—এটাই এখন সবার প্রত্যাশা।