দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

জ্বালানি সাশ্রয় ও বিচার দ্রুত করতে হাইকোর্টে সপ্তাহে দুই দিন ভার্চুয়াল শুনানি

জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করতে ভার্চুয়াল কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি জানিয়েছেন, ভার্চুয়ালি মামলা পরিচালনার ফলে অপ্রয়োজনীয় সময় নষ্ট কমছে এবং মামলার নিষ্পত্তিও দ্রুত হচ্ছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি জানান, বর্তমান জ্বালানি সংকটের বাস্তবতা বিবেচনায় আদালতের কার্যক্রমে ভার্চুয়াল পদ্ধতি চালু রাখা একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। এতে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি যেমন কমছে, তেমনি রাষ্ট্রের ব্যয়ও কমছে। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, শারীরিকভাবে আদালতে উপস্থিত হয়ে মামলা পরিচালনা করতে গেলে অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে বিচারকাজ বিলম্বিত হয়। কিন্তু ভার্চুয়াল কোর্টে এসব সমস্যা তুলনামূলক কম থাকে। ফলে বিচারপ্রক্রিয়ায় গতি আসে এবং আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা দ্রুত সেবা পান। তিনি আরও বলেন, ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে দেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আদালতে যাতায়াত কম হওয়ায় পরিবহন খাতে জ্বালানি ব্যবহার কমছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও পরিকল্পিতভাবে সাশ্রয় সম্ভব হচ্ছে। এর আগে গত ১৯ এপ্রিল এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকাজ সপ্তাহে দুই দিন—বুধবার ও বৃহস্পতিবার—ভার্চুয়ালি পরিচালিত হবে। বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়টি মাথায় রেখে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।  বাংলাদেশে প্রথমবার বড় পরিসরে ভার্চুয়াল কোর্ট চালু হয় করোনা মহামারির সময়। তখন আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ায় বিচারপ্রক্রিয়া সচল রাখতে অনলাইনে শুনানি শুরু করা হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও অনেক ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল শুনানির সুবিধা বজায় রাখা হয়। এতে দূরের জেলার আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের জন্য আদালতে অংশ নেওয়া সহজ হয়ে যায়। আইন সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই বিচারব্যবস্থা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হতে পারে। বিশেষ করে ছোটখাটো মামলার শুনানি এবং প্রাথমিক পর্যায়ের কার্যক্রম ভার্চুয়ালি সম্পন্ন করা গেলে আদালতের ওপর চাপ কমবে। এতে বিচারপ্রক্রিয়ার সময়ও কমে আসবে। এ ছাড়া বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘ সময় আদালত প্রাঙ্গণে অপেক্ষা করার প্রয়োজন কমে যাওয়ায় তাদের ভোগান্তিও কমছে। একই সঙ্গে পরিবহন খরচ ও সময় সাশ্রয় হওয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য এটি একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।  তবে অনেক আইনজীবীর মতে, সব ধরনের মামলার ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল পদ্ধতি পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব নয়। জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সরাসরি উপস্থিতি এখনও প্রয়োজনীয়। তাই ভার্চুয়াল ও সরাসরি—দুই পদ্ধতির সমন্বয় করেই বিচারপ্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়া উচিত। সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভার্চুয়াল কোর্ট চালুর উদ্যোগ বিচারব্যবস্থায় গতি আনার পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয়েও সহায়ক ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ আরও পরিকল্পিতভাবে সম্প্রসারণ করা গেলে বিচারপ্রার্থীরা আরও দ্রুত ও সহজ সেবা পাবেন বলে সংশ্লিষ্টদের আশা।

জ্বালানি সাশ্রয় ও বিচার দ্রুত করতে হাইকোর্টে সপ্তাহে দুই দিন ভার্চুয়াল শুনানি