মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ঘিরে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কয়েক ঘণ্টা জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার পর পুনরায় এই জলপথে কড়াকড়ি আরোপের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এতে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।পুনরায় কড়াকড়ি, সামরিক নিয়ন্ত্রণ জোরদারশনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর যৌথ সামরিক কমান্ড জানায়, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এখন থেকে পুরো জলপথের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা সামরিক বাহিনীর অধীনেই থাকবে।তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচলে আগের মতোই কঠোর নজরদারি ও বিধিনিষেধ বজায় থাকবে। এতে আন্তর্জাতিক শিপিং খাতে অনিশ্চয়তা বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।[TECHTARANGA-POST:1069]ইরানের শর্ত: নিজস্ব জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতাইরান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশটির বন্দরমুখী এবং দেশ থেকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজগুলোর পূর্ণ নিরাপত্তা ও চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই কড়াকড়ি শিথিল করা হবে না।এদিকে যুক্তরাষ্ট্র–এর ভূমিকার দিকেও ইঙ্গিত করা হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে পরিস্থিতি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।অল্প সময়ের স্বস্তির পর নতুন অনিশ্চয়তাএর আগে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরান—উভয় পক্ষ থেকেই জানানো হয়েছিল যে প্রণালিটি জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে। সেই ঘোষণায় আন্তর্জাতিক মহলে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল।তবে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নতুন করে কড়াকড়ি আরোপের ঘোষণা আসায় পরিস্থিতি আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিবিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট। সমুদ্রপথে পরিবাহিত বৈশ্বিক তেলের একটি বড় অংশ—প্রায় এক-পঞ্চমাংশ—এই পথ দিয়ে যায়।ফলে এই জলপথে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা বা বাধা সৃষ্টি হলে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে সরাসরি প্রভাব পড়ে। এর প্রভাব পড়ে জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর অর্থনীতিতেও।ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার পুরনো কেন্দ্রঐতিহাসিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লেই হরমুজ প্রণালি ঘিরে উদ্বেগ দেখা যায়। অতীতেও একাধিকবার ইরান এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার ইঙ্গিত দিয়েছে।বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়লে এই প্রণালিকে কৌশলগত চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয় বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।শিপিং ও জ্বালানি খাতে সতর্কতাবর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান বিকল্প রুট ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করছে বলে জানা গেছে।একই সঙ্গে জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, যাতে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া যায়।প্রভাব: বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপের আশঙ্কাবিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে পারে। এর ফলে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া এবং সামগ্রিকভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।এছাড়া উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি প্রভাবের মুখে পড়তে পারে, কারণ তাদের জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা বেশি।[TECHTARANGA-POST:1056]কূটনৈতিক সমাধানের প্রত্যাশাএ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর।উপসংহারসব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন এই সিদ্ধান্ত শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে অবস্থান পরিবর্তন আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। এখন নজর রয়েছে—এই উত্তেজনা কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে কমবে, নাকি আরও জটিল পরিস্থিতির দিকে এগোবে।[TECHTARANGA-POST:1066]