ডোরিয়েল্টনের চার গোল, সৌরভের হ্যাটট্রিকে প্লে-অফে বসুন্ধরা কিংস ও মোহামেডান
ফেডারেশন কাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জিতলেই প্লে-অফ—এমন কঠিন সমীকরণের ম্যাচে দারুণ জয় তুলে নিয়ে শেষ পর্যন্ত নকআউট নিশ্চিত করেছে বসুন্ধরা কিংস ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। এক ম্যাচে চার গোল করে কিংসকে জিতিয়েছেন ডোরিয়েল্টন গোমেজ, আর হ্যাটট্রিক করে মোহামেডানকে প্লে-অফে তুলেছেন সৌরভ দেওয়ান।গ্রুপ ‘বি’-এর শেষ রাউন্ডে চার দলেরই সামনে ছিল প্লে-অফে ওঠার সুযোগ। পুলিশ এফসি ছিল ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে, আর বসুন্ধরা কিংস, মোহামেডান ও ফর্টিস এফসি—এই তিন দলের পয়েন্ট ছিল ৫ করে। ফলে শেষ ম্যাচের ফলাফলই নির্ধারণ করছিল কারা যাবে পরের ধাপে। শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে সমান ৮ পয়েন্ট হলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে গ্রুপ সেরা হয়েছে বসুন্ধরা কিংস। রানার্সআপ হিসেবে প্লে-অফে উঠেছে মোহামেডান।মঙ্গলবার বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় পুলিশ এফসির বিপক্ষে ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলেছে কিংস। ম্যাচের ৩৫ মিনিটে পুলিশ এফসি পেনাল্টি পেলেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ফরোয়ার্ড পাওলো এনরিক। তার নেওয়া শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। এই সুযোগ হাতছাড়া হওয়াই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে কিংস পায় পেনাল্টি। গোলকিপারকে ফাঁকি দিয়ে সহজেই গোল করেন ডোরিয়েল্টন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় কিংস। ৫২ মিনিটে রাকিব হোসেনের পাস ধরে দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টায় দ্বিতীয় গোল করেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। এরপর ৮২ মিনিটে রাকিবের ক্রসে হেড করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। ম্যাচের শেষ দিকে আরও একটি গোল করে নিজের চার গোল পূর্ণ করেন ডোরিয়েল্টন। যদিও যোগ করা সময়ে এম এস বাবলু একটি গোল শোধ করেন পুলিশ এফসির হয়ে।অন্যদিকে ময়মনসিংহের ভাষা শহীদ রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া স্টেডিয়ামে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের বিপক্ষে শুরুতে গোল পেতে কিছুটা সময় নেয় মোহামেডান। ম্যাচের প্রথমার্ধে কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও গোল করতে পারছিল না সাদা-কালোরা। ৩৬ মিনিটে এলি কেকের ফ্রি-কিক অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়।এরপর ৩৯ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে এলি কেকের দারুণ পাস ধরে গোল করেন জুয়েল মিয়া। এতে এগিয়ে যায় মোহামেডান। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করে নেয় দলটি। ৭৫ মিনিটে বক্সের ভেতরে সুযোগ পেয়ে হেডে গোল করেন সৌরভ। এরপর অল্প সময়ের ব্যবধানে আরও একটি গোল করেন তিনি। শেষ দিকে অফসাইড ট্র্যাপ ভেঙে বেরিয়ে এসে বাম পায়ের শটে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এই ফরোয়ার্ড। ফলে ৪-০ গোলের বড় জয় নিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করে মোহামেডান।উল্লেখ্য, দেশের অন্যতম জনপ্রিয় এই ফেডারেশন কাপ দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট হিসেবে পরিচিত। এখানে ভালো ফল করলে দলগুলো মৌসুমের শুরুতেই আত্মবিশ্বাস পায় এবং সমর্থকদের প্রত্যাশাও বাড়ে। গত আসরে শিরোপা জিতেছিল বসুন্ধরা কিংস, তাই এবারও দলটির দিকে বাড়তি নজর ছিল ফুটবলপ্রেমীদের।আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোতে মোহামেডান আবারও নিজেদের পুরোনো ছন্দে ফেরার চেষ্টা করছে। তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের মিশেলে দলটি ধীরে ধীরে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে ফিরছে—যার বড় প্রমাণ এই প্লে-অফ নিশ্চিত করা জয়।
সব মিলিয়ে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে নকআউট পর্বে উঠেছে বসুন্ধরা কিংস ও মোহামেডান। সামনে আরও কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে দুই দলের জন্য, তবে ডোরিয়েল্টন ও সৌরভের এমন পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারলে শিরোপার লড়াইয়ে তারা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই থাকবে।