দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

ইসলামাবাদে ইরানের প্রতিনিধি, যুক্তরাষ্ট্রের দূত আসছেন—শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির আশা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের টানাপোড়েনের মধ্যেই হঠাৎ করে পাকিস্তানকে ঘিরে বাড়ছে কূটনৈতিক তৎপরতা। একদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ সেখানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে—পর্দার আড়ালে কোনো সমাধানের চেষ্টা চলছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ইরানের প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের রাজধানীতে পৌঁছায়। এই দলে নেতৃত্ব দেন আরাঘচি। তার সঙ্গে ছিলেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি। ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর বাঘায়ি জানান, তারা পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের অবস্থান তুলে ধরবেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, পাকিস্তানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও কূটনৈতিক বার্তা আসছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ইরান চাইলে একটি ‘ভালো চুক্তি’ করার সুযোগ এখনো রয়েছে। তার মতে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পুরোপুরি ত্যাগ করতে হবে এবং তা হতে হবে যাচাইযোগ্য উপায়ে। একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী। তিনি বলেন, আলোচনা এগোলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নিজেও এতে অংশ নিতে পারেন। তবে এবার তিনি আলোচনায় যোগ দেবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পটভূমিতে রয়েছে সাম্প্রতিক উত্তেজনা। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর থেকেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তেল পরিবহন হয়। ফলে এখানে কোনো উত্তেজনা তৈরি হলেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, পাকিস্তানের ভূমিকা। ঐতিহাসিকভাবে পাকিস্তান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে চলে। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই পক্ষের সঙ্গেই তাদের যোগাযোগ রয়েছে। তাই এমন সংকটময় সময়ে ইসলামাবাদকে আলোচনার সম্ভাব্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের দিক থেকেও কিছু শর্ত সামনে আনা হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তারা আলোচনায় আগ্রহী, তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ, হুমকি এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ—এসব বড় বাধা। একইসঙ্গে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সতর্ক করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া সম্ভব নয়। এই অবস্থার মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধবিরতির সময়সীমা অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়েছে। এর ফলে বোঝা যাচ্ছে, তারা সামরিক সংঘাতের বদলে আলোচনার পথ খোলা রাখতে চাইছে। যদিও প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান দেখানো হচ্ছে, ভেতরে ভেতরে সমঝোতার চেষ্টা চলছে—এমন ধারণা বিশ্লেষকদের। সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি বেশ জটিল হলেও একটি বিষয় পরিষ্কার—উভয় পক্ষই পুরোপুরি সংঘাতে যেতে চাইছে না। পাকিস্তানে এই কূটনৈতিক তৎপরতা সেই প্রচেষ্টারই অংশ। এখন দেখার বিষয়, এই আলোচনা থেকে বাস্তব কোনো অগ্রগতি আসে কি না, নাকি এটি কেবল সময়ক্ষেপণের আরেকটি অধ্যায় হয়ে থাকে।

ইসলামাবাদে ইরানের প্রতিনিধি, যুক্তরাষ্ট্রের দূত আসছেন—শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির আশা