দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

ক্ষতিকর রং মিশিয়ে আইসক্রিম প্রস্তুত: নকলায় মোবাইল কোর্টের অভিযানে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

শেরপুরের নকলায় ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি করে এমন এক অভিযোগের ভিত্তিতে মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে ক্ষতিকর রং মিশিয়ে আইসক্রিমের কোন তৈরির অভিযোগে একটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ পণ্য ধ্বংস করা হয়েছে।এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে শিশুদের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।কোথায় কী ঘটেছেবৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ২০২৬) শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার গনপদ্দী ইউনিয়নের খারজান মধ্যপাড়া এলাকায় সহকারী কমিশনার (ভূমি), নকলা কর্তৃক একটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।অভিযানে অভিযোগ উঠে যে, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত আইসক্রিমের কোন তৈরিতে ক্ষতিকর রং ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।[TECHTARANGA-POST:997]এই অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে রংমিশ্রিত আইসক্রিমের কোন জব্দ করে তাৎক্ষণিকভাবে বিনষ্ট করা হয়।কীভাবে পরিচালিত হয় অভিযানঅভিযানে উপস্থিত সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রশাসন ওই এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, আইসক্রিমের কোন তৈরিতে এমন কিছু রং ব্যবহার করা হচ্ছে, যা খাদ্যমানের অনুমোদিত নয় বলে সন্দেহ করা হয়।এ সময় সহকারী পরিচালক, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, শেরপুর, স্যানিটারি ইন্সপেক্টরসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নমুনা যাচাই এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় জরিমানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।একজন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, “ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে এমন কোনো কার্যক্রম সহ্য করা হবে না। নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।”[TECHTARANGA-POST:988]এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়াস্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এই ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই প্রশাসনের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।খারজান মধ্যপাড়ার এক বাসিন্দা, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, বলেন—“আমরা তো এসব বিষয় বুঝি না। বাচ্চারা দোকান থেকে আইসক্রিম কিনে খায়। যদি এতে ক্ষতিকর কিছু মেশানো হয়, তাহলে সেটা খুবই উদ্বেগজনক।”আরেকজন অভিভাবক বলেন, “গ্রামে এসব জিনিসের তেমন নজরদারি থাকে না। আজকের অভিযানের পর অন্তত সচেতনতা বাড়বে।”[TECHTARANGA-POST:981]স্বাস্থ্যঝুঁকি ও প্রভাবখাদ্যে অননুমোদিত বা ক্ষতিকর রং ব্যবহারের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় উদ্বেগ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব রং নিয়মিত গ্রহণ করলে শিশুদের ক্ষেত্রে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।বিশেষ করে আইসক্রিমের মতো জনপ্রিয় খাবার শিশুদের মধ্যে বেশি গ্রহণযোগ্য হওয়ায় ঝুঁকিটা আরও বেশি।এ ধরনের ঘটনায় শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, পুরো এলাকার খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন উঠে।এছাড়া স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যেও এর প্রভাব পড়তে পারে। অনেকেই এখন তাদের পণ্যের মান ও উপাদান নিয়ে আরও সতর্ক হতে বাধ্য হবেন।প্রশাসনের ভূমিকা ও করণীয়প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোক্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।খাদ্যে ভেজাল বা ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন খাদ্য উৎপাদনে অনুমোদিত উপাদান ব্যবহার করেন এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন। অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।একই সঙ্গে ভোক্তাদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে— সন্দেহজনক কোনো পণ্য দেখলে দ্রুত প্রশাসনকে জানাতে বলা হয়েছে।সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যঅভিযানে জরিমানার মুখে পড়া প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।উপসংহারনকলায় পরিচালিত এই মোবাইল কোর্ট অভিযান আবারও মনে করিয়ে দিল, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়— এতে ব্যবসায়ী ও ভোক্তা উভয়ের সচেতনতা জরুরি।ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহারের মতো অভিযোগগুলো যদি সময়মতো প্রতিরোধ করা যায়, তাহলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।এই ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে সচেতনতা বাড়বে বলে আশা করছেন অনেকে। তবে এমন অভিযান নিয়মিত না হলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান কঠিন— এমন মতও রয়েছে সচেতন মহলের।

ক্ষতিকর রং মিশিয়ে আইসক্রিম প্রস্তুত: নকলায় মোবাইল কোর্টের অভিযানে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা