দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

নীলক্ষেত ব্যবসায়ী হত্যা মামলা: সাবেক ডিজিএফআই কর্মকর্তা মেজর (অব.) মাঞ্জিল হায়দার আবারও তিন দিনের রিমান্ডে

জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর নীলক্ষেতে সংঘটিত বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ড মামলায় নতুন মোড়। সাবেক ডিজিএফআই কর্মকর্তা মেজর (অব.) মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরীকে আবারও তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্তে এটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।আদালতের নতুন আদেশসোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম এই রিমান্ডের আদেশ দেন।এর আগে তদন্তের ধারাবাহিকতায় তাকে ফের আদালতে হাজির করা হলে নতুন করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।গ্রেপ্তার ও আগের রিমান্ডমামলার নথি অনুযায়ী, গত ৯ এপ্রিল রাজধানীর মহাখালীর ডিওএইচএস এলাকা থেকে মেজর (অব.) মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়।পরদিন আদালত তাকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠান। সেই রিমান্ড শেষে পুনরায় তাকে আদালতে হাজির করা হলে নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হয়।[TECHTARANGA-POST:1111]আদালতে দুই পক্ষের যুক্তিশুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর জামাল উদ্দিন মারজিন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।অন্যদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী কামাল হোসেন রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন জানান। তবে আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে তিন দিনের রিমান্ডের সিদ্ধান্ত দেন।হত্যাকাণ্ডের পটভূমিমামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর নিউমার্কেটের নীলক্ষেত এলাকায় চলমান জুলাই আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ নিহত হন।ঘটনার পর নিহতের শ্যালক আব্দুর রব নিউমার্কেট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।বহুল আলোচিত ১৩০ আসামির মামলাএই মামলাটি ইতোমধ্যে দেশের আলোচিত রাজনৈতিক ও সহিংসতা সংক্রান্ত মামলাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ মোট ১৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।তদন্তে নতুন অগ্রগতির ইঙ্গিততদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সাবেক ডিজিএফআই কর্মকর্তার দ্বিতীয় দফা রিমান্ড মামলার তদন্তে নতুন তথ্য উদঘাটনে সহায়ক হতে পারে।তার জিজ্ঞাসাবাদ থেকে ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং সম্ভাব্য অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।আইনগত প্রক্রিয়া কী বলছেআইন বিশেষজ্ঞদের মতে, রিমান্ড সাধারণত কোনো ঘটনার গভীর অনুসন্ধান, পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সংযোগ উদঘাটনের জন্য ব্যবহৃত হয়।তবে রিমান্ড মঞ্জুরের ক্ষেত্রে আদালত রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দেন। এটি একটি নিয়মিত বিচারিক প্রক্রিয়া।মামলার গুরুত্ব ও প্রভাববিশ্লেষকদের মতে, জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড মামলা শুধু একটি ফৌজদারি ঘটনা নয়, বরং এটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।একাধিক উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তির নাম যুক্ত থাকায় মামলাটি এখন জাতীয় পর্যায়ের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।[TECHTARANGA-POST:1115]উপসংহারসব মিলিয়ে নীলক্ষেত ব্যবসায়ী হত্যা মামলায় সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তার পুনরায় রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ায় তদন্ত নতুন দিকে এগোতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন সবার দৃষ্টি তদন্তের পরবর্তী ধাপের দিকে—কী তথ্য বেরিয়ে আসে এবং মামলাটি কোন পথে অগ্রসর হয়, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।

নীলক্ষেত ব্যবসায়ী হত্যা মামলা: সাবেক ডিজিএফআই কর্মকর্তা মেজর (অব.) মাঞ্জিল হায়দার আবারও তিন দিনের রিমান্ডে