দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

পোরশার গাংগুরিয়া হাটে ৭০ কেজি নিষিদ্ধ আফ্রিকান মাগুর জব্দ, এতিমখানায় বিতরণ

নওগাঁর পোরশা উপজেলার গাংগুরিয়া হাটে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ বিদেশি মাগুর মাছ জব্দ করা হয়েছে। সোমবার পরিচালিত এ অভিযানে প্রায় ৭০ কেজি আফ্রিকান মাগুর উদ্ধার করা হয়, যা পরে এতিমখানা ও মাদ্রাসায় বিতরণ করা হয়েছে।উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বাজারে গোপনে নিষিদ্ধ মাছ বিক্রির খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাকিবুল ইসলাম সরাসরি অভিযান পরিচালনা করেন। হাটের বিভিন্ন দোকান ও অস্থায়ী স্টল ঘুরে এই মাছ জব্দ করা হয়। এ সময় স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসে। ভিডিও ফুটেজঃঅভিযানের সময় একজন বিক্রেতাকে শনাক্ত করে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৫০০ টাকা জরিমানা করে। পাশাপাশি তাকে ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ ব্যবসা থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি শুধুমাত্র একটি প্রাথমিক ব্যবস্থা, ভবিষ্যতে এমন অপরাধে আরও কঠোর শাস্তি দেওয়া হতে পারে।জব্দ করা মাছগুলো নষ্ট না করে মানবিক কারণে স্থানীয় এতিমখানা ও মাদ্রাসায় বিতরণ করা হয়েছে। এতে একদিকে যেমন খাদ্যের অপচয় রোধ হয়েছে, অন্যদিকে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা উপকৃত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে স্থানীয়রা ইতিবাচকভাবে দেখছেন।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, নিষিদ্ধ বিদেশি মাগুর মাছ চাষ, পরিবহন ও বিক্রি সম্পূর্ণ অবৈধ। এসব মাছ স্থানীয় পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এবং মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় এমন অভিযান নিয়মিতভাবে চালানো হবে।বিশেষজ্ঞদের মতে, আফ্রিকান মাগুর মাছ খুব দ্রুত বংশবিস্তার করে এবং দেশীয় প্রজাতির মাছের জন্য হুমকি তৈরি করে। এটি জলাশয়ে ছেড়ে দিলে অন্যান্য মাছের খাদ্য ও বাসস্থান দখল করে নেয়। ফলে দেশীয় মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই কারণেই বাংলাদেশে বহু বছর আগে থেকেই এ মাছ চাষ ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।বাংলাদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত ব্যবস্থা মূলত তাৎক্ষণিকভাবে আইন প্রয়োগ ও ছোটখাটো অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা এই আদালত পরিচালনা করেন। বাজারে ভেজাল, অবৈধ পণ্য কিংবা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কিছু পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এই আদালত কার্যকর হিসেবে পরিচিত।পোরশা উপজেলার মতো সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে মাঝে মাঝে অবৈধভাবে বিদেশি মাছ বা পণ্য ঢুকে পড়ে বলে স্থানীয়রা জানান। এ কারণে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান চালানো জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।এই অভিযানের পর স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যেও এক ধরনের সতর্কতা তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, প্রশাসনের এমন উদ্যোগ থাকলে বাজারে অবৈধ পণ্য কমে যাবে এবং ক্রেতারাও নিরাপদ খাবার পাবে।স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা চান, শুধু একদিনের অভিযান নয়, বরং নিয়মিতভাবে এ ধরনের কার্যক্রম চলমান থাকুক। এতে বাজার ব্যবস্থাপনা আরও স্বচ্ছ হবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকবে। গাংগুরিয়া হাটে পরিচালিত এই অভিযান শুধু অবৈধ মাছ জব্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি সচেতনতামূলক বার্তাও দিয়েছে। আইন অমান্য করে ব্যবসা করলে তার পরিণতি কী হতে পারে, সেটি স্পষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে জব্দকৃত মাছ বিতরণ একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

পোরশার গাংগুরিয়া হাটে ৭০ কেজি নিষিদ্ধ আফ্রিকান মাগুর জব্দ, এতিমখানায় বিতরণ