দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

নওগাঁয় বাসশ্রমিক-অটোচালক দ্বন্দ্বে যান চলাচল বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

নওগাঁ শহরে বাসশ্রমিক ও অটোরিকশাচালকদের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। রোববার দুপুরে বালুডাঙ্গা বাস টার্মিনাল এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন বাসশ্রমিকেরা, এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।[TECHTARANGA-POST:911]ঘটনাস্থল থেকে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বাসশ্রমিক ও অটোরিকশাচালকদের মধ্যে যাত্রী ওঠানো নিয়ে বিরোধ চলছিল। রোববার সকালে সেই বিরোধ নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে বাসশ্রমিকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন এবং টার্মিনাল এলাকায় ব্যারিকেড সৃষ্টি করেন।বাসশ্রমিকদের দাবি, প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বালুডাঙ্গা বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে অটোরিকশায় যাত্রী ওঠানো নিষিদ্ধ। কিন্তু অটোরিকশাচালকেরা সেই নিয়ম মানছেন না। তারা টার্মিনাল এলাকা থেকেই যাত্রী তুলছেন, এতে বাসশ্রমিকদের আয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।[TECHTARANGA-POST:894]শ্রমিকদের অভিযোগ, অটোরিকশাচালকেরা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন এবং বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তাদের বাধা দিলে উল্টো গালিগালাজ করেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি থেকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর প্রতিবাদেই বাসশ্রমিকেরা পরিবহন বন্ধ রেখেছেন বলে জানিয়েছেন তারা।অন্যদিকে অটোরিকশাচালকদের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা নেই; বরং সীমিতভাবে যাত্রী বহনের অনুমতি রয়েছে। তারা বলছেন, বাসশ্রমিকেরা জোরপূর্বক তাদের যাত্রী তুলতে বাধা দেন এবং সড়কে চাঁদাবাজি করেন। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে লাঠিয়াল বাহিনী ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।অটোরিকশাচালকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে তারা নিরাপদে কাজ করতে পারছেন না। তাই সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারা নিজেরাও যানবাহন চালানো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে শহরের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে।[TECHTARANGA-POST:899]এদিকে হঠাৎ করে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। কেউ অফিস, কেউ আদালত, আবার কেউ ব্যক্তিগত কাজে বের হয়ে মাঝপথে আটকে পড়েছেন।মোহাম্মদ বিন ইয়ামিন নামে এক যাত্রী বলেন, তিনি একটি মাহফিলে যোগ দিতে এসেছিলেন, কিন্তু এসে দেখেন কোনো যানবাহন চলছে না। এখন কীভাবে গন্তব্যে পৌঁছাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।নিয়ামতপুর থেকে আদালতের কাজে আসা মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, সকালে নওগাঁ এসে বাসস্ট্যান্ডে এসে দেখেন সব বন্ধ। কখন আবার বাস চলবে, তা কেউ বলতে পারছে না। এতে তার সময় নষ্ট হচ্ছে এবং বাড়ি ফিরতে দেরি হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।নওগাঁ মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক নেতা এস এম মতিউজ্জামান মতি জানান, সকালে যাত্রী ওঠানো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঝামেলা হলেও পরে সেটি মিটমাট করা হয়েছিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়।অন্যদিকে সিএনজি মালিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ আব্দুস সালাম বলেন, বাসশ্রমিকেরা তাদের গাড়ি থামিয়ে চাঁদাবাজি করে এবং পুরো পরিবহন খাত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চায়। এই অবস্থায় তারা সড়কে নামতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।এই ধরনের বিরোধ নতুন নয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। নওগাঁসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বাস, অটো ও সিএনজি চালকদের মধ্যে যাত্রী তোলা ও ভাড়া নিয়ে প্রায়ই দ্বন্দ্ব দেখা যায়। বিশেষ করে বাসস্ট্যান্ড বা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কে যাত্রী তুলবে—এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়।এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন উদ্যোগ নিয়েছে। নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অল্প সময়ের মধ্যেই যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসবে।সব মিলিয়ে, এই সংঘাত শুধু দুই পক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই—এতে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। তাই দ্রুত সমাধান এবং সবার জন্য গ্রহণযোগ্য একটি নিয়ম চালু করা এখন সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপই পারে এই ধরনের সমস্যা স্থায়ীভাবে কমাতে।

নওগাঁয় বাসশ্রমিক-অটোচালক দ্বন্দ্বে যান চলাচল বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা