দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

স্বাধীনতার ৫৬ বছরেও অনেক পথ বাকি, তবে তরুণদের উদ্যোগে আশার আলো দেখছেন ফখরুল

বাংলাদেশ স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পার করলেও দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়ন এখনও প্রত্যাশিত জায়গায় পৌঁছাতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, দেশের তরুণদের নতুন উদ্যোগ, কৃষিভিত্তিক কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা সংস্কৃতির বিস্তার ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) যুব নেতৃত্ব ও উন্নয়নমূলক সংগঠন Junior Chamber International (জেসিআই) আয়োজিত এক কার্নিভালে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি দেশের বর্তমান বাস্তবতা, উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ এবং তরুণদের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের তরুণ উদ্যোক্তা, সংগঠক ও পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন, সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদবক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, স্বাধীনতার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৬ বছর পরও দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী এগোয়নি বলে তার দাবি। অর্থনৈতিক বৈষম্য, কর্মসংস্থানের সংকট এবং শিক্ষার মান নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ও মাথাপিছু আয় বাড়লেও সেই উন্নয়নের সুফল সব মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছায়নি। তিনি দাবি করেন, এখনও দেশের একটি বড় অংশ দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে এবং অনেক মানুষ মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত।অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “স্বাধীনতা শুধু রাজনৈতিক অর্জন নয়, মানুষের জীবনমান উন্নয়নও এর বড় লক্ষ্য ছিল। সেই জায়গায় এখনও আমাদের অনেক কাজ বাকি।”[TECHTARANGA-POST:1130]খাদ্য উৎপাদনে পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরেনদেশের কৃষি খাতের অগ্রগতিকে ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, একসময় খাদ্য সংকটের কারণে বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হতো বাংলাদেশকে। কিন্তু এখন কৃষি উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে এগিয়েছে।তার মতে, কৃষকদের পরিশ্রম, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে তরুণদের খামারভিত্তিক উদ্যোগ ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনায় আগ্রহ দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি আনতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।চাকরির অপেক্ষা নয়, উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবণতা বাড়ছেতরুণ সমাজের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্যের বড় একটি অংশ জুড়ে ছিল তার আশাবাদ। তিনি বলেন, এখন অনেক তরুণ শুধু চাকরির জন্য অপেক্ষা করছে না; বরং নিজেরাই ছোট-বড় উদ্যোগ গড়ে তুলছে। কেউ অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা শুরু করছে, কেউ কৃষিভিত্তিক খামার গড়ে তুলছে, আবার কেউ প্রযুক্তিনির্ভর নতুন উদ্যোগে যুক্ত হচ্ছে।তার মতে, এই পরিবর্তন দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উদ্যোক্তা তৈরি হলে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগও সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, তরুণদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্ব তৈরির সুযোগ বাড়াতে হবে, যাতে তারা দেশের উন্নয়নে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।জেসিআইয়ের কার্যক্রম নিয়ে প্রশংসাঅনুষ্ঠানে জেসিআইয়ের কার্যক্রমেরও প্রশংসা করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরিতে সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। এসব উদ্যোগ তরুণদের ইতিবাচক কাজে যুক্ত হতে উৎসাহ দেয়।জেসিআই একটি আন্তর্জাতিক যুব সংগঠন, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নেতৃত্ব উন্নয়ন, উদ্যোক্তা তৈরির প্রশিক্ষণ এবং সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। বাংলাদেশেও সংগঠনটি নিয়মিত কর্মশালা, প্রশিক্ষণ এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম আয়োজন করে আসছে।অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজন তরুণ উদ্যোক্তাও নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অর্থায়ন ও প্রশিক্ষণের সুযোগ। তবে প্রযুক্তির বিস্তার নতুন প্রজন্মকে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার সুযোগও তৈরি করেছে।উন্নয়ন ও বাস্তবতার দ্বৈত চিত্রবাংলাদেশ স্বাধীনতার পর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়ন এবং কৃষি খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে—এমন স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থাও দিয়েছে। শিশু মৃত্যুহার কমানো, গড় আয়ু বৃদ্ধি এবং নারীদের কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণ বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসিত হয়েছে।তবে একই সঙ্গে বেকারত্ব, আয় বৈষম্য, উচ্চশিক্ষার মান এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির ঘাটতি এখনও আলোচনার বড় বিষয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ করে তুলতে না পারলে ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে।মির্জা ফখরুলের বক্তব্যেও সেই বাস্তবতার প্রতিফলন দেখা গেছে। তিনি সরাসরি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সমালোচনা না করলেও দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং একই সঙ্গে সম্ভাবনার দিকও তুলে ধরেছেন।[TECHTARANGA-POST:1113]তরুণদের ঘিরে ভবিষ্যতের প্রত্যাশাঅনুষ্ঠানের শেষদিকে তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে হতাশার পাশাপাশি আশার জায়গাও রয়েছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম যদি আরও বেশি উদ্ভাবনী চিন্তা, দক্ষতা ও উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসে, তাহলে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে আরও শক্ত অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে।তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, সমাজ ও দেশের উন্নয়নেও অবদান রাখার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। তাহলেই স্বাধীনতার প্রকৃত লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন। বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে তরুণদের ভূমিকা ও সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্বাধীনতার ৫৬ বছরেও অনেক পথ বাকি, তবে তরুণদের উদ্যোগে আশার আলো দেখছেন ফখরুল