দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

দীর্ঘ সীমাবদ্ধতার অবসান: দেশে আবার চালু ফেসবুক–টিকটক, স্বস্তিতে ব্যবহারকারীরা

দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর দেশে আবার সচল হয়েছে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো। বুধবার দুপুরের পর থেকে ব্যবহারকারীরা স্বাভাবিকভাবে ফেসবুক, টিকটকসহ অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে পারছেন, ফলে অনলাইন কার্যক্রমে ফিরে এসেছে স্বস্তি।ধাপে ধাপে স্বাভাবিক হলো ডিজিটাল সেবাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে প্রবেশে সীমাবদ্ধতা ছিল। তবে বুধবার (নির্ধারিত সময় অনুযায়ী দুপুর ২টার পর) থেকে আবারও ফেসবুক, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, মেসেঞ্জারসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম স্বাভাবিকভাবে চালু হয়েছে।ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন, আগে যেখানে সংযোগ পেতে নানা বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছিল, এখন সেখানে কোনো বাড়তি জটিলতা ছাড়াই এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা যাচ্ছে।পটভূমি: কেন বন্ধ ছিল সেবাকোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতির মধ্যে গত ১৭ জুলাই রাতে মোবাইল ইন্টারনেট এবং ১৮ জুলাই রাতে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়।পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ধাপে ধাপে ইন্টারনেট সেবা চালু করা হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে সীমাবদ্ধতা বজায় রাখা হয়। এতে অনলাইন যোগাযোগ কার্যত আংশিকভাবে স্থবির হয়ে পড়ে।[TECHTARANGA-POST:1115]আলোচনার পর সিদ্ধান্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পুনরায় চালুর বিষয়ে সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের আলোচনা হয়।বুধবার সকালে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক অনলাইনে মেটা (ফেসবুকের মূল কোম্পানি) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্ল্যাটফর্মগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিকেলের মধ্যে সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খুলে দেওয়া হবে এবং ব্যবহারকারীরা আগের মতোই সেবা পাবেন।দীর্ঘ বন্ধে ক্ষতির মুখে ব্যবহারকারীরাএই সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ ব্যবহারকারী, শিক্ষার্থী এবং অনলাইন নির্ভর ব্যবসায়ীরা।বিশেষ করে ফেসবুক ও ইউটিউবভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা তাদের ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন বলে জানা গেছে। অনেকেই বিকল্প উপায় হিসেবে ভিপিএন ব্যবহার করে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের চেষ্টা করেন।একজন অনলাইন উদ্যোক্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমাদের সব অর্ডার ও যোগাযোগ ফেসবুকের মাধ্যমে হয়। কয়েকদিন বন্ধ থাকায় অনেক অর্ডার বাতিল হয়েছে।”ডিজিটাল অর্থনীতিতে প্রভাববিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন শুধু বিনোদন বা যোগাযোগের মাধ্যম নয়—এটি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভর করে হাজারো ছোট ব্যবসা, কনটেন্ট নির্মাতা এবং ফ্রিল্যান্সার কাজ করছেন। ফলে এসব প্ল্যাটফর্মে দীর্ঘ সময় সীমাবদ্ধতা থাকলে অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ে।প্রশাসনের ভূমিকা ও ভারসাম্যের প্রশ্নবিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনে অনেক সময় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও ডিজিটাল সেবা চালু রাখার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতিতে কীভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ডিজিটাল কার্যক্রম সচল রাখা যায়, সে বিষয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতিমালা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন তারা।অভিযোগ বা সমালোচনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি।আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটবিশ্বের বিভিন্ন দেশেও রাজনৈতিক বা নিরাপত্তাজনিত কারণে সাময়িকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সীমাবদ্ধতা আরোপের নজির রয়েছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত সেগুলো তুলে নেওয়া হয়।বাংলাদেশেও অতীতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঘটনা রয়েছে, যা পরবর্তীতে ধাপে ধাপে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে।বর্তমান পরিস্থিতিসর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী, এখন বাংলাদেশ থেকে স্বাভাবিকভাবে ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও ইউটিউব ব্যবহার করা যাচ্ছে।এতে ব্যক্তিগত যোগাযোগ, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং অনলাইন শিক্ষা—সব ক্ষেত্রেই আবার গতি ফিরে এসেছে।[TECHTARANGA-POST:1110]উপসংহারদীর্ঘ সময়ের সীমাবদ্ধতার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো চালু হওয়ায় ব্যবহারকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সেবার মধ্যে ভারসাম্য রাখা হবে—সেই প্রশ্ন এখনো প্রাসঙ্গিক। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সুসংহত নীতিমালার মাধ্যমেই এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব।

দীর্ঘ সীমাবদ্ধতার অবসান: দেশে আবার চালু ফেসবুক–টিকটক, স্বস্তিতে ব্যবহারকারীরা