যশোরসহ ১০ জেলায় ভোক্তা অভিযানে ১৬ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা, আদায় ১.২৫ লাখ টাকা
যশোরসহ খুলনা বিভাগের ১০টি জেলায় একযোগে ভোক্তা অধিকার রক্ষায় অভিযান চালিয়ে ১৬টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এই অভিযান পরিচালনা করে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।রোববার (২৬ এপ্রিল ২০২৬) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন এই সংস্থার খুলনা বিভাগীয় কার্যালয় ও বিভিন্ন জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে ১০টি টিম মাঠে নামে। তারা বাজারে চাল, ভোজ্য তেল, গ্যাস, ঔষধ, ডায়াগনস্টিক সেবা, আলু, পেঁয়াজ, সবজি, মুরগি ও ডিমসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও মান যাচাই করে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের ক্রয় ভাউচার পরীক্ষা করা হয় এবং সরকার নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়।অভিযান চলাকালে অনেক ব্যবসায়ীকে সতর্ক করা হয়। যারা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করছিলেন বা নিয়ম না মেনে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, ভবিষ্যতেও এমন অনিয়ম করলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।খুলনা মহানগরের সোনাডাঙ্গা থানার বানরগাতি বাজার এলাকায় বিভাগীয় উপপরিচালক মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে একটি অভিযান পরিচালিত হয়। সেখানে বিসমিল্লাহ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রির অভিযোগে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই এলাকায় সহকারী পরিচালক দিনারা জামানের নেতৃত্বে আরেকটি টিম উসমান বেকারিকে পণ্যের মোড়ক ঠিকভাবে ব্যবহার না করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য রাখার দায়ে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করে।চুয়াডাঙ্গার জীবননগর বাজারে অভিযান চালিয়ে যমুনা ফুড অ্যান্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরিকে অবৈধভাবে পণ্য উৎপাদনের দায়ে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি মেসার্স রানা ট্রেডার্সকে যথাযথভাবে পণ্য সরবরাহ না করার কারণে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এই জেলায় মোট দুইটি প্রতিষ্ঠান থেকে ২৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়।বাগেরহাটের যাত্রাপুর বাজারে চাদমনি বেকারিকে অবৈধ পণ্য বিক্রির দায়ে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা বাজারে ঘোষ ডেয়ারির বিরুদ্ধে দুই দফায় মোট ১১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়, কারণ তারা অবৈধভাবে পণ্য উৎপাদন করছিল বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।যশোরের মনিহার বাজারেও অভিযান চালানো হয়। সেখানে সততা বেকারিকে মোড়ক ঠিকভাবে ব্যবহার না করার দায়ে ২ হাজার টাকা এবং ইসলাম বীজ ভান্ডারকে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য রাখার কারণে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। খুলনার শিরোমণি এলাকায় বন্ধন ফুড প্রোডাক্টকে মোড়ক সংক্রান্ত অনিয়মের জন্য ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।কুষ্টিয়ার আলমপুর বাজারে মনোয়ারা ফার্মেসিকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখার অপরাধে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। নড়াইলের চাচুরি ও বারইপাড়া বাজারে মূল্য তালিকা না টানানো এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মাগুরার ভায়না বাজারে সান্তনা হোটেল ও সবুজ হোটেলকে অবৈধভাবে খাদ্য উৎপাদনের দায়ে যথাক্রমে ২০ হাজার ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।সব মিলিয়ে এই অভিযানে ১৬টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদেরকে বাধ্যতামূলকভাবে দোকানে মূল্য তালিকা ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ক্রয়-বিক্রয়ের কাগজপত্র সংরক্ষণ করতে বলা হয়।ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মূলত বাজারে পণ্যের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করা, ভেজাল বা নিম্নমানের পণ্য প্রতিরোধ করা এবং ভোক্তাদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করার দায়িত্ব পালন করে। দেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে এই সংস্থার অভিযান সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তি নিয়ে আসে বলে মনে করেন অনেকে।গত কয়েক বছরে বিভিন্ন এলাকায় ভেজাল খাদ্য, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ এবং অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রির অভিযোগ বেড়েছে। বিশেষ করে রমজান বা উৎসব মৌসুমে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর ঘটনাও দেখা যায়। এ কারণে নিয়মিত বাজার তদারকি এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ধরনের অভিযান শুধু জরিমানা করার জন্য নয়, বরং ব্যবসায়ীদের সচেতন করাই মূল লক্ষ্য। তারা বলেন, সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবসা করলে কোনো জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে না। অন্যদিকে ভোক্তাদেরও সচেতন হয়ে কেনাকাটা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।সবশেষে বলা যায়, এই অভিযান বাজারে কিছুটা শৃঙ্খলা আনতে সহায়তা করলেও দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ফল পেতে নিয়মিত নজরদারি জরুরি। ভোক্তার অধিকার রক্ষা এবং ন্যায্য দামে পণ্য নিশ্চিত করতে এমন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপরই জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।