দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

পরিবহন ভাড়া পুনর্নির্ধারণে আজ চূড়ান্ত বৈঠক, কী বলছেন মন্ত্রী

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন পরিবহনের ভাড়া বাড়বে কি না—এ নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আজ আবার বৈঠক হবে। বুধবার সচিবালয়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণ নিয়ে একটি বৈঠক হয়। ওই বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠলেও সেদিন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে পরিবহন মালিক, সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং সরকারের প্রতিনিধিদের মতামত নিয়ে বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।  মন্ত্রী আরও বলেন, যাত্রীদের স্বার্থ এবং পরিবহন খাতের বাস্তব পরিস্থিতি—দুই দিক বিবেচনায় রেখেই সরকার সিদ্ধান্ত নিতে চায়। তাই তড়িঘড়ি করে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে সব দিক যাচাই করা হচ্ছে।[TECHTARANGA-POST:816] এদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিবহন খাত বড় ধরনের আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে সম্প্রতি ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়ার কারণে বাস ও ট্রাক পরিচালনার খরচ অনেক বেড়ে গেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ডলারের দাম বৃদ্ধির প্রভাব। ফলে বিদেশ থেকে আমদানি করা যন্ত্রাংশের দামও বেড়ে গেছে। পরিবহন মালিকদের দাবি, শুধু জ্বালানি নয়—গাড়ির টায়ার, ব্যাটারি, ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশসহ প্রায় সব ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ আগের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে। এতে অনেক পরিবহন মালিক নিয়মিতভাবে গাড়ি চালাতে সমস্যায় পড়ছেন। তারা বলছেন, বর্তমান ভাড়ায় অনেক ক্ষেত্রে খরচ উঠছে না।  তাই তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে নতুন ভাড়া নির্ধারণ করার জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, ভাড়া না বাড়ালে পরিবহন সেবা ঠিকভাবে চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। অন্যদিকে যাত্রীদের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। কারণ, পরিবহন ভাড়া বাড়লে তার প্রভাব বাজারদরসহ দৈনন্দিন খরচের ওপরও পড়ে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, ভাড়া বাড়ানো হলে তা যেন সহনীয় পর্যায়ে রাখা হয়। বাংলাদেশে সাধারণত জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে পরিবহন ভাড়ায়। আগেও কয়েক দফা এমন পরিস্থিতিতে সরকার মালিকপক্ষ ও যাত্রীপক্ষের মতামত নিয়ে ভাড়া সমন্বয় করেছে। তখন বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ভাড়ার হার নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।  এ ছাড়া দেশের পরিবহন খাত শুধু যাত্রী পরিবহনেই সীমাবদ্ধ নয়। কৃষিপণ্য, শিল্পপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পরিবহনের বড় অংশই সড়কপথে হয়। ফলে ট্রাকভাড়া বাড়লে তার প্রভাব দ্রুত বাজারে গিয়ে পড়ে। এ কারণেই পরিবহন ভাড়া নির্ধারণের বিষয়টি সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। সব মিলিয়ে আজকের বৈঠকটি পরিবহন খাত ও সাধারণ যাত্রী—দুই পক্ষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটির ওপর নির্ভর করবে সামনে পরিবহন খরচ কতটা বাড়বে বা একই থাকবে। তাই সংশ্লিষ্ট সবাই এখন আজকের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে।

পরিবহন ভাড়া পুনর্নির্ধারণে আজ চূড়ান্ত বৈঠক, কী বলছেন মন্ত্রী