দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

বাল্যবিবাহ ও অনাগ্রহে ঝরে পড়া—পোরশায় ১২১ পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসেনি

নওগাঁর পোরশা উপজেলায় চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার শুরুতেই উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে। ফরম পূরণ করেও ১২১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি, যা স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর পোরশা উপজেলায় মোট ১ হাজার ৩২৮ জন শিক্ষার্থী এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন করেছিল। কিন্তু পরীক্ষার দিন চারটি কেন্দ্রে উপস্থিত হয় ১ হাজার ২০৭ জন। অর্থাৎ বিভিন্ন কারণে ১২১ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকে।[TECHTARANGA-POST:758]মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উপজেলার চারটি কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা শুরু হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা ছিল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি, যা প্রশাসনের জন্য ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।কেন্দ্রভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নিতপুর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এবং শহীদ পিংকু উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়—এই দুই কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল মোট ৬২২ জন। এর মধ্যে ১৩ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। তুলনামূলকভাবে এখানে অনুপস্থিতির হার কম।অন্যদিকে, দারুস সুন্নাহ ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে দাখিল পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৫৮৫ জন। এর মধ্যে ৯৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি, যা সর্বোচ্চ অনুপস্থিতির হার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই অংশে অনুপস্থিতির সংখ্যা বেশি হওয়ায় বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।এছাড়া করিদহ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল কেন্দ্রে মোট ১২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৪ জন অনুপস্থিত ছিল। যদিও সংখ্যা তুলনামূলক কম, তারপরও এটি অবহেলার মতো নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনুপস্থিতির পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষাভীতি একটি বড় কারণ। অনেক শিক্ষার্থী প্রস্তুতি ভালো না থাকায় পরীক্ষায় বসতে ভয় পায়। এছাড়া বাল্যবিবাহ, দারিদ্র্যজনিত কারণে পড়ালেখা থেকে ঝরে পড়া এবং পরিবারে সচেতনতার অভাবও বড় ভূমিকা রাখছে।বিশেষ করে দাখিল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাল্যবিবাহের প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। অনেক মেয়ে শিক্ষার্থী অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়ায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। আবার কিছু শিক্ষার্থী পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলায় পরীক্ষার দিনও কেন্দ্রে যায়নি।পোরশা উপজেলার শিক্ষা পরিস্থিতি নিয়ে আগে থেকেও নানা আলোচনা রয়েছে। সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে অনেক পরিবার অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে, যার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি কিছু এলাকায় এখনো শিক্ষা বিষয়ে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে, যা এ ধরনের অনুপস্থিতির একটি বড় কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।[TECHTARANGA-POST:718]শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু স্কুল বা কলেজ নয়, পরিবারকেও এগিয়ে আসতে হবে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খোঁজ নেওয়া, তাদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগ যদি নিয়মিত তদারকি বাড়ায়, তাহলে ভবিষ্যতে এই সংখ্যা কমানো সম্ভব। পোরশায় এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিনের অনুপস্থিতির এই চিত্র কিছুটা উদ্বেগজনক হলেও এটি থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে আগামী বছরগুলোতে আরও বেশি শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা সম্ভব—এমনটাই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাল্যবিবাহ ও অনাগ্রহে ঝরে পড়া—পোরশায় ১২১ পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসেনি