সংরক্ষিত নারী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৪৯ জন নির্বাচিত, আজ গেজেট প্রকাশ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বড় ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই নির্বাচিত হচ্ছেন ৪৯ জন প্রার্থী। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায়, আইন অনুযায়ী তাদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। আজ বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশের কথা রয়েছে।রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির যুগ্ম সচিব মো. মঈন উদ্দীন খান জানান, সংরক্ষিত ৫০টি আসনের মধ্যে ৪৯টি আসনে সমান সংখ্যক বৈধ প্রার্থী থাকায় তাদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার ছিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন, তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ আবেদন না করায় নির্বাচন প্রক্রিয়া কার্যত প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন হয়ে পড়ে।[TECHTARANGA-POST:982]নির্বাচিত ৪৯ জনের মধ্যে রাজনৈতিক ভারসাম্যের একটি চিত্রও স্পষ্ট হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী—
ক্ষমতাসীন বিএনপি জোটের প্রার্থী: ৩৬ জন
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট: ১২ জন
স্বতন্ত্র জোট: ১ জন
এই ফলাফল থেকে বোঝা যাচ্ছে, সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রধান রাজনৈতিক জোটগুলোর প্রভাবই বেশি বিস্তৃত হয়েছে।ইসি সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, গেজেট প্রকাশের পর তা সংসদ সচিবালয়ে পাঠানো হবে। এরপর নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণের আয়োজন করা হবে। শপথ সম্পন্ন হলে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদের কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন।তবে ৫০টি আসনের মধ্যে একটি আসন এখনো অনিশ্চয়তায় রয়েছে। এনসিপি নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম নির্ধারিত সময়ের পরে মনোনয়ন জমা দেওয়ায় তা প্রথমে গ্রহণ করা হয়নি। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নম্বর ৫০২২/২০২৬) দায়ের করেন।আদালত তার রিটের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কমিশন জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।এদিকে জামায়াত জোটের আরেক প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়ন আগেই বাতিল করা হয়েছিল। কারণ হিসেবে বলা হয়, সরকারি চাকরি ছাড়ার পর প্রয়োজনীয় তিন বছর পূর্ণ হয়নি। তবে তিনি এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানা যায়নি।নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অবস্থায় বলেন, “সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন প্রক্রিয়া সাধারণ আসনের মতো সরাসরি ভোটের নয়, তাই এখানে প্রার্থিতা ও দলীয় সমঝোতাই বড় ভূমিকা রাখে।”একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, এই ধরনের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে, যদিও এটি আইনি কাঠামোর মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো আপত্তি বা অভিযোগ এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।[TECHTARANGA-POST:971]সংরক্ষিত নারী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন কিছু নয়, তবে এবার সংখ্যাটা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।বিশ্লেষকরা বলছেন—
এতে নারীদের সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতার অভাব গণতান্ত্রিক চর্চাকে সীমিত করতে পারে
দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে
ভবিষ্যতে এ ধরনের আসনে সরাসরি ভোটের ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা জোরদার হতে পারে
এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ছিল মূলত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা। কমিশন জানিয়েছে, তারা নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী কাজ করেছে এবং আদালতের নির্দেশনা মেনেই বাকি একটি আসনের বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে।[TECHTARANGA-POST:965]বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এই ধরনের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও অংশগ্রহণমূলক করতে হলে আইন ও কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন হতে পারে।সংরক্ষিত নারী আসনে ৪৯ জনের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতারই প্রতিফলন। যদিও এতে নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হচ্ছে, তবুও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের অভাব নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বাকি একটি আসনের নিষ্পত্তি এবং গেজেট প্রকাশের পর পুরো চিত্রটি আরও পরিষ্কার হবে।