দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

যশোরে প্রায় ২ কোটি টাকার স্বর্ণসহ ভারতীয় নাগরিক আটক

যশোরে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণ ও বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাসহ এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার সকালে যশোর-নড়াইল মহাসড়কের তারাগঞ্জ এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আটক ব্যক্তির নাম ওয়াজিদ আলী আমিন আহমেদ (৩১)। তিনি ভারতের মুম্বাইয়ের ভিওয়ান্দি থানার বাসিন্দা। বিজিবির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তিনি গত ২০ এপ্রিল মুম্বাই থেকে দুবাই হয়ে ২১ এপ্রিল ঢাকায় আসেন। এরপর সড়কপথে সাতক্ষীরা হয়ে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে ফেরার পরিকল্পনা ছিল তার। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) একটি বিশেষ দল যশোর-নড়াইল মহাসড়কের তারাগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজন হিসেবে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ৯০০ গ্রাম গোল্ড পেস্ট উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে তার কাছে থাকা বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া মুদ্রার মধ্যে ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম, আজারবাইজানের মানাত, ভারতীয় রুপি এবং বাংলাদেশি টাকা। এসব মুদ্রার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। বিকেলে নিজ দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, উদ্ধার হওয়া গোল্ড পেস্ট বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) পরীক্ষা করে খাঁটি স্বর্ণ হিসেবে নিশ্চিত করেছে। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণ ও বৈদেশিক মুদ্রার মোট বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৯৩ লাখ ৪২ হাজার টাকা। তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাকে যশোর কোতয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণ ও বৈদেশিক মুদ্রা ট্রেজারিতে জমা দেওয়ার কাজও চলমান রয়েছে। যশোর কোতয়ালী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন বলেন, থানায় হস্তান্তরের পর আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিজিবি আরও জানিয়েছে, আটক ব্যক্তি ২০২৪ সাল থেকে একাধিকবার ভারত, মধ্যপ্রাচ্য ও মিশর হয়ে বাংলাদেশ হয়ে ভারতে যাতায়াত করেছেন। ফলে তার চলাচলের ধরন নিয়ে তদন্তকারীরা বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এ যাতায়াতের সঙ্গে স্বর্ণ পাচারের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী জেলা যশোর ও সাতক্ষীরা এলাকায় অতীতেও একাধিকবার স্বর্ণ পাচারের ঘটনা ধরা পড়েছে। বিশেষ করে ভোমরা ও বেনাপোল স্থলবন্দর হয়ে অবৈধভাবে স্বর্ণ ও বৈদেশিক মুদ্রা আনা-নেওয়ার চেষ্টা প্রায়ই রোধ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসব কারণে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে বিজিবি। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি চোরাচালান প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে তারা সীমান্ত এলাকায় অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক এই অভিযান আবারও প্রমাণ করেছে যে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির নজরদারি আগের চেয়ে আরও জোরদার হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে স্বর্ণ ও বৈদেশিক মুদ্রা পাচার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যশোরে প্রায় ২ কোটি টাকার স্বর্ণসহ ভারতীয় নাগরিক আটক