নওগাঁ শহরে অবৈধ পলিথিনে অভিযান: ৬ কেজি জব্দ, জরিমানা ১,৫০০ টাকা
পরিবেশ রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। নওগাঁ শহরের সিও বাজার এলাকায় অবৈধ পলিথিনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জব্দ করা হয়েছে নিষিদ্ধ শপিং ব্যাগ এবং জরিমানা করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের।মঙ্গলবার (০৫ মে ২০২৬) নওগাঁ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এই অভিযানে বাজারের দুটি মুদি দোকান থেকে মোট ৬ কেজি পলিথিন জব্দ করা হয় বলে জানা গেছে।সংক্ষিপ্ত ইন্ট্রো: কে, কোথায়, কীনওগাঁ শহরের সিও বাজার এলাকায় অবৈধ পলিথিন শপিং ব্যাগের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জেলা প্রশাসন। এ সময় ৬ কেজি পলিথিন জব্দ এবং দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোট ১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।মোবাইল কোর্টে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থাজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সুজনুর ইসলাম সুজনের নেতৃত্বে এই মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। অভিযানে দুটি মুদি দোকানে তল্লাশি চালিয়ে নিষিদ্ধ পলিথিন শপিং ব্যাগ জব্দ করা হয়।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের সময় দুইটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের করা হয় এবং মোট ১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা ধার্য করে তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।ব্যবসায়ীদের সতর্কতা ও সচেতনতা কার্যক্রমঅভিযান চলাকালে শুধু জরিমানাই নয়, ব্যবসায়ীদের সতর্কও করা হয়। ভবিষ্যতে অবৈধ পলিথিন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট দোকানদারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।একই সঙ্গে বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ীদের মাঝেও সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়, যাতে তারা পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারে উৎসাহিত হন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, “পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করা প্রয়োজন, তবে বিকল্প সহজলভ্য হলে আমাদের জন্য সুবিধা হয়।”সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিএই মোবাইল কোর্টে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরিবেশ অধিদপ্তর নওগাঁ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ নাজমুল হোসাইন।এছাড়াও অভিযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নওগাঁ ব্যাটালিয়ন আনসারের একটি দল উপস্থিত ছিল বলে জানা গেছে।প্রভাব ও বিশ্লেষণ: পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজন ধারাবাহিকতাবিশ্লেষকদের মতে, “নওগাঁ মোবাইল কোর্ট” এবং “অবৈধ পলিথিন অভিযান” পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে এর দীর্ঘমেয়াদি সুফল পেতে হলে নিয়মিত অভিযান এবং জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।পলিথিন ব্যবহারের কারণে মাটি, পানি ও পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি বাড়ছে—এমন মতও উঠে এসেছে বিভিন্ন মহল থেকে।প্রশাসনের ভূমিকা ও করণীয়সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শুধু অভিযান পরিচালনা নয়, বরং পরিবেশবান্ধব বিকল্প সহজলভ্য করা এবং ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করাও জরুরি।নিয়মিত নজরদারি, আইন প্রয়োগ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অবৈধ পলিথিন ব্যবহার কমিয়ে আনা সম্ভব বলে ধারণা করা হচ্ছে।ব্যালান্সড রিপোর্টিংঅভিযানে জরিমানাকৃত প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।নওগাঁ শহরে অবৈধ পলিথিনের বিরুদ্ধে এই অভিযান পরিবেশ সুরক্ষায় একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে টেকসই ফল পেতে হলে প্রয়োজন ধারাবাহিক উদ্যোগ, সচেতনতা এবং বিকল্প ব্যবস্থার প্রসার।