দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

মেধাভিত্তিক প্রশাসন গড়ার বার্তা দিলেন তারেক রহমান, জনসেবামুখী রাষ্ট্র কাঠামোর ওপর জোর

দেশের প্রশাসনকে আরও দক্ষ, জবাবদিহিমূলক এবং জনবান্ধব করতে মেধা ও প্রশিক্ষণভিত্তিক মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি বৈষম্যহীন ও কার্যকর রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়তে হলে যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে প্রশাসন পরিচালনার কোনো বিকল্প নেই।শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশন–এর তৃতীয় ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।“যোগ্যতার ভিত্তিতেই গড়ে উঠতে হবে প্রশাসন”বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষ জনপ্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, প্রশাসনে নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষ আরও ভালো সেবা পাবে।তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি প্রশাসন চাই, যেখানে নিয়োগ ও পদোন্নতি হবে পুরোপুরি মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে। এতে প্রশাসনের কার্যকারিতা বাড়বে এবং জনগণের আস্থাও শক্তিশালী হবে।”তার মতে, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, রাষ্ট্রের মূল শক্তি হচ্ছে দক্ষ মানবসম্পদ। আর সেই মানবসম্পদ তৈরিতে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।[TECHTARANGA-POST:1130]ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রসঙ্গঅনুষ্ঠানে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থার প্রত্যাশা করে এসেছে।তার বক্তব্য অনুযায়ী, সেই আন্দোলন রাষ্ট্র ও জনগণের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি জনগণ—এই বাস্তবতা সাম্প্রতিক আন্দোলন আরও স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে।”তবে তিনি কোনো রাজনৈতিক পক্ষকে সরাসরি দোষারোপ না করে বলেন, গণমুখী প্রশাসন গড়ে তুলতে হলে জনগণের মতামত ও প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।বিয়াম ফাউন্ডেশনের ভূমিকার প্রশংসাঅনুষ্ঠানে বিয়াম ফাউন্ডেশনের দীর্ঘদিনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের প্রশংসা করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, সরকারি ও আধা-সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।তার মতে, আধুনিক প্রশাসন গড়ে তুলতে শুধু নিয়ম-কানুন জানলেই হবে না; প্রয়োজন নেতৃত্বের গুণ, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি। এসব ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বিয়াম ফাউন্ডেশন আরও আধুনিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতি চালু করবে এবং আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ কর্মকর্তা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।“শাসক নয়, জনগণের সেবক হতে হবে”প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের নিজেদের জনগণের সেবক হিসেবে ভাবতে হবে, শাসক হিসেবে নয়।তার ভাষায়, “রাষ্ট্র পরিচালনার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত জনগণের সেবা নিশ্চিত করা। মানুষ যেন প্রশাসনের কাছে গিয়ে হয়রানির শিকার না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।”এ জন্য কর্মকর্তাদের মানসিকতার পরিবর্তনের পাশাপাশি নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, আধুনিক বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে প্রশাসনকে প্রযুক্তিনির্ভর এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম হতে হবে।প্রশাসনিক সংস্কার নিয়ে নতুন আলোচনাবাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনিক সংস্কার, মেধাভিত্তিক নিয়োগ এবং জবাবদিহিতা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া, পদোন্নতি এবং সেবার মান নিয়ে সমালোচনাও উঠেছে।বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনকে কার্যকর করতে শুধু নীতিগত ঘোষণা যথেষ্ট নয়; বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা ও ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসন এবং পেশাগত দক্ষতার মূল্যায়ন নিশ্চিত করা গেলে রাষ্ট্রীয় সেবার মান আরও উন্নত হতে পারে।তারেক রহমানের বক্তব্যকে অনেকেই প্রশাসন সংস্কার নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখছেন। যদিও এ বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক নীতিমালার বিস্তারিত এখনও প্রকাশ হয়নি।[TECHTARANGA-POST:1117]প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্ব বাড়ছেবিয়াম ফাউন্ডেশন মূলত সরকারি ও আধা-সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ প্রদানকারী একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। এখানে প্রশাসন, নেতৃত্ব, ব্যবস্থাপনা, নীতি নির্ধারণ ও সেবা ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিভিন্ন কোর্স পরিচালিত হয়।জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রযুক্তি, অর্থনীতি এবং সামাজিক বাস্তবতার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করতে না পারলে রাষ্ট্রীয় সেবায় অকার্যকারিতা তৈরি হতে পারে।বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জঅনুষ্ঠানের শেষদিকে তারেক রহমান বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের শাসনব্যবস্থা এবং সেবাখাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। তবে শুধু পরিকল্পনা বা বক্তব্য নয়, বাস্তব প্রয়োগই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।তিনি মনে করেন, তরুণ কর্মকর্তা ও নতুন প্রজন্মকে দক্ষতা, সততা এবং দায়িত্ববোধের সঙ্গে গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আরও কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামো পাবে। বর্তমানে প্রশাসনিক সংস্কার, সুশাসন এবং জনসেবার মান উন্নয়ন নিয়ে দেশে নতুন করে আলোচনা চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্য সরকারি কাঠামো ও মানবসম্পদ উন্নয়ন নিয়ে আরও বিতর্ক ও বিশ্লেষণের জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মেধাভিত্তিক প্রশাসন গড়ার বার্তা দিলেন তারেক রহমান, জনসেবামুখী রাষ্ট্র কাঠামোর ওপর জোর