দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

ক্ষতি হলেও ১% টার্নওভার কর: ছোট উদ্যোক্তারা চাপে, অর্ডার হারানোর শঙ্কা বাড়ছে

বসায় ক্ষতি হলেও ১ শতাংশ হারে ন্যূনতম টার্নওভার কর দিতে বাধ্য হওয়ায় ছোট উদ্যোক্তারা বড় চাপে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ। একই সঙ্গে দেশে জ্বালানিশঙ্কার আশঙ্কায় বিদেশি ক্রেতারা নতুন অর্ডার কমিয়ে দিচ্ছেন বলেও তিনি সতর্ক করেছেন। বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড–এর সম্মেলনকক্ষে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব বিষয় তুলে ধরেন তিনি। সভায় উপস্থিত ছিলেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।[TECHTARANGA-POST:803] বিসিআই সভাপতি বলেন, বর্তমানে ব্যবসা লাভে থাকুক বা ক্ষতিতে থাকুক—টার্নওভারের ওপর ১ শতাংশ কর দিতে হয়। অনেক ছোট উদ্যোক্তার জন্য এই কর দেওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এতে তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। তিনি প্রস্তাব দেন, ছোট উদ্যোক্তাদের করের আলাদা স্ল্যাবের আওতায় আনা হলে তারা কিছুটা স্বস্তি পাবেন। কারণ অনেক সময় আয় না থাকলেও তাদের কর দিতে হয়, যা ব্যবসার ধারাবাহিকতা নষ্ট করছে।  আলোচনায় তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য জ্বালানিসংকট নিয়ে বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে অনেক ক্রেতা বাংলাদেশে নতুন অর্ডার দিতে দ্বিধা করছেন। বিশেষ করে জুলাই ও আগস্ট মাসে যে পরিমাণ তৈরি পোশাকের অর্ডার আসার কথা ছিল, তার বড় অংশ ধীর হয়ে গেছে। অনেক বড় আন্তর্জাতিক ক্রেতা ইতিমধ্যে নেতিবাচক বার্তা দিতে শুরু করেছেন। এতে দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস তৈরি পোশাক খাত ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। বিসিআই সভাপতি রপ্তানি আয়ের ওপর ১ শতাংশ উৎস কর কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করার দাবি জানান। তবে এই প্রস্তাবে সাড়া দেননি এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, বর্তমানে করপোরেট করহার কমানোর সুযোগ নেই। বরং কর ফাঁকি বন্ধ করে রাজস্ব বাড়ানোর দিকে জোর দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।[TECHTARANGA-POST:810] সব মিলিয়ে প্রাক -বাজেট আলোচনায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি–এর পক্ষ থেকে ৫৪টি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো— অতালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার ২৭.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা ব্যক্তি খাতে করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ বাণিজ্যিক আমদানিতে আগাম কর ৭.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা কাস্টমস রিফান্ড ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন চালু করা ঢাকা চেম্বারের নেতারা বলেন, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হলে ব্যবসার খরচ কমবে এবং বিনিয়োগ বাড়বে। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, চলতি বাজেটে শুল্কহার কমানোর চেয়ে নন-ট্যারিফ বাধা কমানোর দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। এতে ব্যবসা পরিচালনা সহজ হবে এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি আরও জানান, ভ্যাটের আওতা বাড়ানো এবং কর ফাঁকি কমানোর বিষয়ে এনবিআর কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সত্যিকারের করদাতাদের হয়রানি কমাতে যারা কর দিচ্ছে না, তাদের করের আওতায় আনা হবে। ???????? আলোচনায় এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন মালিকদের সংগঠন কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানো, এলপিজিতে ভ্যাট অব্যাহতি এবং ট্যাক্স হলিডে সুবিধা চেয়েছে। অন্যদিকে ফার্নিচার শিল্প সমিতি কাঁচামাল ক্রয়ে উৎস কর ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে। বাংলাদেশে ছোট ও মাঝারি অনেক প্রতিষ্ঠান নিয়মিত হিসাবভিত্তিক লাভ দেখাতে পারে না। তাই তাদের কাছ থেকে টার্নওভারের ওপর নির্দিষ্ট হারে কর নেওয়ার ব্যবস্থা চালু আছে। তবে ব্যবসা মন্দা হলে এই কর অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে এনবিআর দেশের প্রধান রাজস্ব সংগ্রহকারী সংস্থা হিসেবে বাজেট বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতি বছর বাজেটের আগে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে তাদের মতামত নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রাক-বাজেট আলোচনায় স্পষ্ট হয়েছে—ব্যবসায়ীরা করের চাপ কমাতে চান, আর সরকার রাজস্ব বাড়ানোর দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এই দুই অবস্থানের মধ্যে সমন্বয় করতে পারলে একদিকে উদ্যোক্তারা স্বস্তি পাবেন, অন্যদিকে অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হতে পারে। আগামী বাজেটে এসব দাবির কতটা প্রতিফলন ঘটে, সেটিই এখন ব্যবসায়ী মহলের বড় প্রত্যাশা।

ক্ষতি হলেও ১% টার্নওভার কর: ছোট উদ্যোক্তারা চাপে, অর্ডার হারানোর শঙ্কা বাড়ছে