দেড় মাসের শিশুসন্তানসহ কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগম
দেড় মাস বয়সী শিশুসন্তানকে কোলে নিয়েই কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগম। বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে তিনি কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে বের হন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কারাগারের জেলার শিরিন আক্তার। এর আগে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে মানবিক দিক বিবেচনায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। আদালতের বিচারক মোস্তাফিজুর রহমান এ আদেশ দেন। আদালত তাকে পাঁচ হাজার টাকা বন্ডে জামিন দেন বলে জানান আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন।জানা গেছে, শিল্পী বেগমের বয়স ৩৭ বছর। তিনি দেড় মাস বয়সী এক শিশুসন্তানের মা। মূলত শিশুর বয়স খুব কম হওয়ায় আদালত মানবিক দিক বিবেচনায় তার জামিন আবেদন গ্রহণ করেন। এর আগে একই মামলায় তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছিল। পরে আবার শুনানি হলে আদালত নতুন করে বিষয়টি বিবেচনা করে জামিন দেন। এরও আগে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জুনাইদের আদালত। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শেখ নজরুল ইসলাম তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখার আবেদন করেছিলেন।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হন। ওই ঘটনার পর ২৩ জুলাই শিল্পী বেগমের নির্দেশে ১২০ থেকে ১৩০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র, পিস্তল ও বোমা নিয়ে এক শিক্ষার্থীর বাসায় হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। হামলার সময় ঘরের আসবাবপত্র ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রী ভাঙচুর করা হয় বলেও মামলায় উল্লেখ রয়েছে।এ ঘটনায় প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি তিন লাখ টাকার মালামাল লুট এবং বোমা বিস্ফোরণ ও মারধরের ঘটনাও ঘটে বলে মামলার আবেদনে বলা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে প্রাথমিকভাবে শিল্পী বেগমের সম্পৃক্ততার বিষয়ে কিছু তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও উল্লেখ রয়েছে।গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চলতি বছরের ২০ এপ্রিল তাকে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর আদালতের নির্দেশে তাকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানে থাকাকালীন সময়েই তার জামিন শুনানি হয় এবং পরে আদালত মানবিক কারণে তাকে মুক্তির নির্দেশ দেন।বাংলাদেশে নারী বন্দিদের ক্ষেত্রে ছোট শিশু থাকলে আদালত অনেক সময় মানবিক দিক বিবেচনায় জামিন দেওয়ার নজির রয়েছে। বিশেষ করে নবজাতক বা খুব কম বয়সী শিশু মায়ের সঙ্গে কারাগারে থাকলে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। এই কারণেই আদালত প্রায়ই এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, হামলা ও বিস্ফোরণের মতো একাধিক ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। শিল্পী বেগমের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাটিও সেই সময়কার ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে মানবিক বিবেচনায় জামিন পেলেও মামলার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হলে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নি