নেত্রকোণায় একটি অভিযানে ৯৪০ পিস ইয়াবা, দুটি ল্যাপটপ, ১২টি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৪৬ হাজার টাকাসহ একই পরিবারের তিন নারীকে আটক করেছে পুলিশ। সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর রেলক্রসিং এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। পুলিশের দাবি, আটক তিনজনই দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নেত্রকোণা মডেল থানা পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় একটি বসতবাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ওই বাড়িতে থাকা তিন নারীকে আটক করা হয়, যারা পরস্পরের আত্মীয় এবং একই পরিবারের সদস্য।
আটকদের নাম-পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, তারা রাজেন্দ্রপুর রেলক্রসিং এলাকার বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ দাবি করেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনগুলো মাদক ব্যবসার যোগাযোগ ও লেনদেনের কাজে ব্যবহার করা হতো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তারা ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। এছাড়া নগদ ৪৬ হাজার টাকা সাম্প্রতিক মাদক বিক্রির অর্থ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহজনক কার্যকলাপ চলছিল। তবে পরিবারের সদস্য হওয়ায় কেউ সরাসরি অভিযোগ করতে সাহস পাননি। অনেকেই মনে করেন, এই অভিযানের ফলে এলাকায় মাদক ব্যবসার একটি বড় চক্র ভেঙে পড়তে পারে।
বাংলাদেশে ইয়াবা মাদকের বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলা এবং বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ রুট ব্যবহার করে ইয়াবা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। এর বিরুদ্ধে পুলিশ, র্যাবসহ বিভিন্ন সংস্থা নিয়মিত অভিযান চালালেও চাহিদা থাকায় মাদক কারবার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
নেত্রকোণাতেও এর আগে একাধিকবার মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয়েছে। বিভিন্ন সময় ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলসহ নানা ধরনের মাদক জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক ব্যবসায় পরিবারভিত্তিক সম্পৃক্ততা বাড়লে তা সামাজিকভাবে আরও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে, কারণ এতে তরুণ প্রজন্ম সহজেই এ পথে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক তিন নারীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি উদ্ধার করা ডিভাইসগুলো খতিয়ে দেখে তাদের সঙ্গে অন্য কোনো চক্র জড়িত আছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হবে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সব মিলিয়ে, এই অভিযানটি নেত্রকোণায় মাদকবিরোধী কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে স্থানীয়রা মনে করছেন, শুধু অভিযান নয়, সচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাও জরুরি। প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া মাদকের এই সমস্যা থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া কঠিন।
বিষয় : মাদক কারবার নারী গ্রেপ্তার

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬
নেত্রকোণায় একটি অভিযানে ৯৪০ পিস ইয়াবা, দুটি ল্যাপটপ, ১২টি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৪৬ হাজার টাকাসহ একই পরিবারের তিন নারীকে আটক করেছে পুলিশ। সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর রেলক্রসিং এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। পুলিশের দাবি, আটক তিনজনই দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নেত্রকোণা মডেল থানা পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় একটি বসতবাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ওই বাড়িতে থাকা তিন নারীকে আটক করা হয়, যারা পরস্পরের আত্মীয় এবং একই পরিবারের সদস্য।
আটকদের নাম-পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, তারা রাজেন্দ্রপুর রেলক্রসিং এলাকার বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ দাবি করেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনগুলো মাদক ব্যবসার যোগাযোগ ও লেনদেনের কাজে ব্যবহার করা হতো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তারা ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। এছাড়া নগদ ৪৬ হাজার টাকা সাম্প্রতিক মাদক বিক্রির অর্থ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহজনক কার্যকলাপ চলছিল। তবে পরিবারের সদস্য হওয়ায় কেউ সরাসরি অভিযোগ করতে সাহস পাননি। অনেকেই মনে করেন, এই অভিযানের ফলে এলাকায় মাদক ব্যবসার একটি বড় চক্র ভেঙে পড়তে পারে।
বাংলাদেশে ইয়াবা মাদকের বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলা এবং বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ রুট ব্যবহার করে ইয়াবা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। এর বিরুদ্ধে পুলিশ, র্যাবসহ বিভিন্ন সংস্থা নিয়মিত অভিযান চালালেও চাহিদা থাকায় মাদক কারবার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
নেত্রকোণাতেও এর আগে একাধিকবার মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয়েছে। বিভিন্ন সময় ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলসহ নানা ধরনের মাদক জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক ব্যবসায় পরিবারভিত্তিক সম্পৃক্ততা বাড়লে তা সামাজিকভাবে আরও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে, কারণ এতে তরুণ প্রজন্ম সহজেই এ পথে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক তিন নারীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি উদ্ধার করা ডিভাইসগুলো খতিয়ে দেখে তাদের সঙ্গে অন্য কোনো চক্র জড়িত আছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হবে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সব মিলিয়ে, এই অভিযানটি নেত্রকোণায় মাদকবিরোধী কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে স্থানীয়রা মনে করছেন, শুধু অভিযান নয়, সচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাও জরুরি। প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া মাদকের এই সমস্যা থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া কঠিন।

আপনার মতামত লিখুন