দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬

“শিক্ষাই জাতির শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ: সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা—ফ্রি ওয়াই-ফাই, এডু-আইডি ও কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক!”

“শিক্ষাই জাতির শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ: সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা—ফ্রি ওয়াই-ফাই, এডু-আইডি ও কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক!”

“শিক্ষাই জাতির শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ: সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা—ফ্রি ওয়াই-ফাই, এডু-আইডি ও কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক!”

তিন দিনে ১৯% টার্গেট পূরণ: হামের টিকায় এগোচ্ছে বাংলাদেশ, সামনে দেশব্যাপী বড় কর্মসূচি

হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে জাতিসংঘে উত্তেজনা: রাশিয়া-চীনের ভেটোয় আটকে গেল প্রস্তাব, বিশ্ব বাণিজ্যে শঙ্কা!

নতুন রূপে ফিরছে ‘নতুন কুঁড়ি’: ৩০ এপ্রিল উদ্বোধন, যুক্ত হচ্ছে খেলাধুলা ও বই পড়ার জাতীয় প্রতিযোগিতা

“আজ রাতেই কি ইতিহাস বদলাবে? হরমুজ প্রণালী ঘিরে তীব্র উত্তেজনা, ইরানকে ট্রাম্পের কড়া বার্তা”

“ধান-ড্রাগনের পর এবার সূর্যমুখীতে বাজিমাত! সিংড়ার কৃষক জাকিরের স্বপ্ন এখন সোনালি তেলে”

দেশে জ্বালানি সংকট নয়, মজুত পর্যাপ্ত—সংসদে জ্বালানিমন্ত্রীর আশ্বস্ত বার্তা

“ধান-ড্রাগনের পর এবার সূর্যমুখীতে বাজিমাত! সিংড়ার কৃষক জাকিরের স্বপ্ন এখন সোনালি তেলে”

“ধান-ড্রাগনের পর এবার সূর্যমুখীতে বাজিমাত! সিংড়ার কৃষক জাকিরের স্বপ্ন এখন সোনালি তেলে”

নাটোরের সিংড়া উপজেলার এক উদ্যমী কৃষক জাকির হোসেন, যিনি ইতোমধ্যে ধান, বরই, পেয়ারা ও ড্রাগন ফল চাষে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, এবার সূর্যমুখী চাষে নতুন সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখছেন। আধুনিক কৃষির প্রতি আগ্রহ এবং নতুন ফসলের প্রতি সাহসী পদক্ষেপ তাকে আবারও আলোচনায় এনেছে।

সিংড়া উপজেলার চামারী ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা জাকির হোসেন চলতি মৌসুমে সরকারি কৃষিপ্রণোদনার সহায়তায় তার বাড়ির পাশের প্রায় ৫০ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। শুরু থেকেই তিনি এই ফসল নিয়ে আশাবাদী ছিলেন, আর এখন মাঠভরা ফুটন্ত সূর্যমুখী ফুল সেই আশাকে আরও দৃঢ় করেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, তার জমিতে সারি সারি সূর্যমুখী গাছ ফুলে ভরে উঠেছে। সূর্যের দিকে মুখ করে থাকা হলুদ রঙের বড় বড় ফুলগুলো যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব সৌন্দর্য সৃষ্টি করেছে। সূর্যের গতিপথ অনুযায়ী ফুলের দিক পরিবর্তনের এই দৃশ্য পথচারীদেরও আকৃষ্ট করছে, অনেকেই দাঁড়িয়ে মুগ্ধ হয়ে তা উপভোগ করছেন।

জাকির হোসেন জানান, সূর্যমুখী চাষ পদ্ধতি অনেকটা সরিষার মতো হলেও এতে খরচ তুলনামূলক কম। এই ফসলের জীবনকাল ৯০ থেকে ১০৫ দিনের মধ্যে শেষ হয়। তিনি বলেন, “দেড় বিঘা জমিতে আমার মোট খরচ হয়েছে প্রায় ১২ হাজার টাকা। ফলন ভালো হওয়ায় আমি লাভের আশা করছি।”

তার হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ৫ মণ করে ফলন পাওয়া যেতে পারে। সেই হিসেবে দেড় বিঘা জমিতে ৭ মণেরও বেশি ফলন হবে বলে আশা করছেন তিনি। বর্তমানে বাজারে সূর্যমুখীর বীজের দাম প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টাকা প্রতি মণ। অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে পারলে খরচ বাদে তিনি অন্তত ১০ হাজার টাকার বেশি লাভ করতে পারবেন বলে আশাবাদী।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সূর্যমুখী কাটার পর একই জমিতে ধানসহ আরও দুটি ফসল চাষ করা সম্ভব। ফলে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যাচ্ছে, যা কৃষকের জন্য বাড়তি লাভের সুযোগ সৃষ্টি করছে।

জাকির হোসেন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বলেন, “যদি এ বছর ভালো লাভ হয়, তাহলে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে সূর্যমুখী চাষ করব।”

এ বিষয়ে সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ খন্দকার ফরিদ বলেন, দেশে ভোজ্য তেলের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। সেই চাহিদা পূরণে সরিষার পাশাপাশি সূর্যমুখী চাষেও কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি বিভাগ বিভিন্ন পরামর্শ ও প্রণোদনার মাধ্যমে কৃষকদের এই ফসল চাষে উৎসাহিত করছে।

তিনি আরও জানান, সঠিক পরিকল্পনা ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সিংড়া উপজেলায় সূর্যমুখী চাষ ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হবে।

???? সব মিলিয়ে, নতুন ফসলের দিকে ঝুঁকে জাকির হোসেন শুধু নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্নই দেখছেন না, বরং স্থানীয় কৃষকদের জন্যও তৈরি করছেন অনুপ্রেরণার নতুন দিগন্ত।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬


“ধান-ড্রাগনের পর এবার সূর্যমুখীতে বাজিমাত! সিংড়ার কৃষক জাকিরের স্বপ্ন এখন সোনালি তেলে”

প্রকাশের তারিখ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

নাটোরের সিংড়া উপজেলার এক উদ্যমী কৃষক জাকির হোসেন, যিনি ইতোমধ্যে ধান, বরই, পেয়ারা ও ড্রাগন ফল চাষে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, এবার সূর্যমুখী চাষে নতুন সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখছেন। আধুনিক কৃষির প্রতি আগ্রহ এবং নতুন ফসলের প্রতি সাহসী পদক্ষেপ তাকে আবারও আলোচনায় এনেছে।

সিংড়া উপজেলার চামারী ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা জাকির হোসেন চলতি মৌসুমে সরকারি কৃষিপ্রণোদনার সহায়তায় তার বাড়ির পাশের প্রায় ৫০ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। শুরু থেকেই তিনি এই ফসল নিয়ে আশাবাদী ছিলেন, আর এখন মাঠভরা ফুটন্ত সূর্যমুখী ফুল সেই আশাকে আরও দৃঢ় করেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, তার জমিতে সারি সারি সূর্যমুখী গাছ ফুলে ভরে উঠেছে। সূর্যের দিকে মুখ করে থাকা হলুদ রঙের বড় বড় ফুলগুলো যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব সৌন্দর্য সৃষ্টি করেছে। সূর্যের গতিপথ অনুযায়ী ফুলের দিক পরিবর্তনের এই দৃশ্য পথচারীদেরও আকৃষ্ট করছে, অনেকেই দাঁড়িয়ে মুগ্ধ হয়ে তা উপভোগ করছেন।

জাকির হোসেন জানান, সূর্যমুখী চাষ পদ্ধতি অনেকটা সরিষার মতো হলেও এতে খরচ তুলনামূলক কম। এই ফসলের জীবনকাল ৯০ থেকে ১০৫ দিনের মধ্যে শেষ হয়। তিনি বলেন, “দেড় বিঘা জমিতে আমার মোট খরচ হয়েছে প্রায় ১২ হাজার টাকা। ফলন ভালো হওয়ায় আমি লাভের আশা করছি।”

তার হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ৫ মণ করে ফলন পাওয়া যেতে পারে। সেই হিসেবে দেড় বিঘা জমিতে ৭ মণেরও বেশি ফলন হবে বলে আশা করছেন তিনি। বর্তমানে বাজারে সূর্যমুখীর বীজের দাম প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টাকা প্রতি মণ। অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে পারলে খরচ বাদে তিনি অন্তত ১০ হাজার টাকার বেশি লাভ করতে পারবেন বলে আশাবাদী।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সূর্যমুখী কাটার পর একই জমিতে ধানসহ আরও দুটি ফসল চাষ করা সম্ভব। ফলে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যাচ্ছে, যা কৃষকের জন্য বাড়তি লাভের সুযোগ সৃষ্টি করছে।

জাকির হোসেন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বলেন, “যদি এ বছর ভালো লাভ হয়, তাহলে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে সূর্যমুখী চাষ করব।”

এ বিষয়ে সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ খন্দকার ফরিদ বলেন, দেশে ভোজ্য তেলের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। সেই চাহিদা পূরণে সরিষার পাশাপাশি সূর্যমুখী চাষেও কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি বিভাগ বিভিন্ন পরামর্শ ও প্রণোদনার মাধ্যমে কৃষকদের এই ফসল চাষে উৎসাহিত করছে।

তিনি আরও জানান, সঠিক পরিকল্পনা ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সিংড়া উপজেলায় সূর্যমুখী চাষ ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হবে।

???? সব মিলিয়ে, নতুন ফসলের দিকে ঝুঁকে জাকির হোসেন শুধু নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্নই দেখছেন না, বরং স্থানীয় কৃষকদের জন্যও তৈরি করছেন অনুপ্রেরণার নতুন দিগন্ত।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর