দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬

“শিক্ষাই জাতির শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ: সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা—ফ্রি ওয়াই-ফাই, এডু-আইডি ও কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক!”

“শিক্ষাই জাতির শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ: সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা—ফ্রি ওয়াই-ফাই, এডু-আইডি ও কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক!”

“শিক্ষাই জাতির শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ: সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা—ফ্রি ওয়াই-ফাই, এডু-আইডি ও কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক!”

তিন দিনে ১৯% টার্গেট পূরণ: হামের টিকায় এগোচ্ছে বাংলাদেশ, সামনে দেশব্যাপী বড় কর্মসূচি

হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে জাতিসংঘে উত্তেজনা: রাশিয়া-চীনের ভেটোয় আটকে গেল প্রস্তাব, বিশ্ব বাণিজ্যে শঙ্কা!

নতুন রূপে ফিরছে ‘নতুন কুঁড়ি’: ৩০ এপ্রিল উদ্বোধন, যুক্ত হচ্ছে খেলাধুলা ও বই পড়ার জাতীয় প্রতিযোগিতা

“আজ রাতেই কি ইতিহাস বদলাবে? হরমুজ প্রণালী ঘিরে তীব্র উত্তেজনা, ইরানকে ট্রাম্পের কড়া বার্তা”

“ধান-ড্রাগনের পর এবার সূর্যমুখীতে বাজিমাত! সিংড়ার কৃষক জাকিরের স্বপ্ন এখন সোনালি তেলে”

দেশে জ্বালানি সংকট নয়, মজুত পর্যাপ্ত—সংসদে জ্বালানিমন্ত্রীর আশ্বস্ত বার্তা

ইরানের বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলার আশঙ্কা: উপসাগরজুড়ে তেজস্ক্রিয় বিপর্যয়ের আতঙ্ক!

ইরানের বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলার আশঙ্কা: উপসাগরজুড়ে তেজস্ক্রিয় বিপর্যয়ের আতঙ্ক!

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর আশপাশে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর এটি ছিল ওই স্থাপনার নিকটে চতুর্থ হামলা, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে তেজস্ক্রিয় দূষণ ছড়িয়ে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের দেশগুলোর রাজধানীগুলোতেও মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।

বুশেহর কেন্দ্রটি ইরানের একমাত্র চালু বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ১৯৭৫ সালে মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভি-এর শাসনামলে এর নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং জার্মানির সিমেন্স-কে প্রকল্পটি দেওয়া হয়েছিল। তবে ১৯৭৯ সালের ইরানি ইসলামি বিপ্লব এবং পরবর্তী যুদ্ধের কারণে কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে। পরে রাশিয়ার সহায়তায় ১৯৯৬ সালে পুনরায় কাজ শুরু হয়ে ২০১৩ সালে কেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়।

বর্তমানে এই কেন্দ্রে ১০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি রিঅ্যাক্টর রয়েছে, যা ইরানের মোট বিদ্যুতের প্রায় ১–২ শতাংশ সরবরাহ করে। রাশিয়া থেকে আনা ৪.৫ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দিয়ে এটি পরিচালিত হচ্ছে। কেন্দ্রটিতে প্রায় ২৮২ টন পারমাণবিক উপাদান মজুত রয়েছে, যার মধ্যে বিপুল পরিমাণ ব্যবহৃত জ্বালানি রয়েছে। এসব ব্যবহৃত জ্বালানিতে উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয় পদার্থ যেমন সিজিয়াম-১৩৭ থাকে, যা দুর্ঘটনা ঘটলে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

ভৌগোলিকভাবে এই কেন্দ্রটি উপসাগরীয় দেশগুলোর খুব কাছাকাছি অবস্থিত। কুয়েত সিটি, মানামা, দোহা এবং সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহরগুলো এর কাছাকাছি হওয়ায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে। এসব দেশের অধিকাংশ মানুষ পানীয় জলের জন্য সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণের ওপর নির্ভরশীল, ফলে সামান্য তেজস্ক্রিয় দূষণও বড় সংকট তৈরি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি রিঅ্যাক্টর বা জ্বালানি সংরক্ষণাগারে সরাসরি আঘাত লাগে, তাহলে তেজস্ক্রিয় কণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আঞ্চলিক বাতাসের প্রবাহ ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই দূষণ দ্রুত পারস্য উপসাগর-এর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে খাদ্য, মাটি ও পানির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলো অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে।

উপসাগরীয় দেশগুলো আগে থেকেই এই কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা হলে এই অঞ্চলে “পানি, মাছ—কিছুই থাকবে না, জীবনও থাকবে না।”

যদিও আধুনিক পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে এবং আঘাত লাগলে তা দ্রুত বন্ধ হয়ে যাওয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়, তবুও ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়। বিশেষ করে কুলিং সিস্টেম ব্যর্থ হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা ‘মেল্টডাউন’ ঘটতে পারে—যেমনটি দেখা গিয়েছিল চেরনোবিল দুর্ঘটনা এবং ফুকুশিমা দুর্ঘটনা-এ।

উল্লেখ্য, ইরানে বুশেহর ছাড়াও নাতানজ পারমাণবিক স্থাপনা, ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনা, ইসফাহান পারমাণবিক কেন্দ্র এবং আরাক পারমাণবিক কেন্দ্রসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে, যেগুলোও বিভিন্ন সময় হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বুশেহর কেন্দ্রের ওপর যেকোনো বড় হামলা শুধু ইরান নয়, পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য একটি মানবিক ও পরিবেশগত বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬


ইরানের বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলার আশঙ্কা: উপসাগরজুড়ে তেজস্ক্রিয় বিপর্যয়ের আতঙ্ক!

প্রকাশের তারিখ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর আশপাশে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর এটি ছিল ওই স্থাপনার নিকটে চতুর্থ হামলা, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে তেজস্ক্রিয় দূষণ ছড়িয়ে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের দেশগুলোর রাজধানীগুলোতেও মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।

বুশেহর কেন্দ্রটি ইরানের একমাত্র চালু বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ১৯৭৫ সালে মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভি-এর শাসনামলে এর নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং জার্মানির সিমেন্স-কে প্রকল্পটি দেওয়া হয়েছিল। তবে ১৯৭৯ সালের ইরানি ইসলামি বিপ্লব এবং পরবর্তী যুদ্ধের কারণে কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে। পরে রাশিয়ার সহায়তায় ১৯৯৬ সালে পুনরায় কাজ শুরু হয়ে ২০১৩ সালে কেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়।

বর্তমানে এই কেন্দ্রে ১০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি রিঅ্যাক্টর রয়েছে, যা ইরানের মোট বিদ্যুতের প্রায় ১–২ শতাংশ সরবরাহ করে। রাশিয়া থেকে আনা ৪.৫ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দিয়ে এটি পরিচালিত হচ্ছে। কেন্দ্রটিতে প্রায় ২৮২ টন পারমাণবিক উপাদান মজুত রয়েছে, যার মধ্যে বিপুল পরিমাণ ব্যবহৃত জ্বালানি রয়েছে। এসব ব্যবহৃত জ্বালানিতে উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয় পদার্থ যেমন সিজিয়াম-১৩৭ থাকে, যা দুর্ঘটনা ঘটলে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

ভৌগোলিকভাবে এই কেন্দ্রটি উপসাগরীয় দেশগুলোর খুব কাছাকাছি অবস্থিত। কুয়েত সিটি, মানামা, দোহা এবং সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহরগুলো এর কাছাকাছি হওয়ায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে। এসব দেশের অধিকাংশ মানুষ পানীয় জলের জন্য সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণের ওপর নির্ভরশীল, ফলে সামান্য তেজস্ক্রিয় দূষণও বড় সংকট তৈরি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি রিঅ্যাক্টর বা জ্বালানি সংরক্ষণাগারে সরাসরি আঘাত লাগে, তাহলে তেজস্ক্রিয় কণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আঞ্চলিক বাতাসের প্রবাহ ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই দূষণ দ্রুত পারস্য উপসাগর-এর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে খাদ্য, মাটি ও পানির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলো অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে।

উপসাগরীয় দেশগুলো আগে থেকেই এই কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা হলে এই অঞ্চলে “পানি, মাছ—কিছুই থাকবে না, জীবনও থাকবে না।”

যদিও আধুনিক পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে এবং আঘাত লাগলে তা দ্রুত বন্ধ হয়ে যাওয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়, তবুও ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়। বিশেষ করে কুলিং সিস্টেম ব্যর্থ হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা ‘মেল্টডাউন’ ঘটতে পারে—যেমনটি দেখা গিয়েছিল চেরনোবিল দুর্ঘটনা এবং ফুকুশিমা দুর্ঘটনা-এ।

উল্লেখ্য, ইরানে বুশেহর ছাড়াও নাতানজ পারমাণবিক স্থাপনা, ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনা, ইসফাহান পারমাণবিক কেন্দ্র এবং আরাক পারমাণবিক কেন্দ্রসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে, যেগুলোও বিভিন্ন সময় হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বুশেহর কেন্দ্রের ওপর যেকোনো বড় হামলা শুধু ইরান নয়, পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য একটি মানবিক ও পরিবেশগত বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর