ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর বহুল প্রতীক্ষিত থার্ড টার্মিনাল পরিচালনা নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বড় অঙ্কের রাজস্ব ভাগাভাগির প্রস্তাব। জাপানের Sumitomo Corporation-এর নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়াম টার্মিনাল থেকে অর্জিত মোট আয়ের ২২ দশমিক ৫ শতাংশ বাংলাদেশকে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। ৩ এপ্রিল ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ‘থার্ড টার্মিনাল পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ’ সংক্রান্ত বৈঠকে এই প্রস্তাব তুলে ধরে জাপানি প্রতিনিধি দল। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকার প্রস্তাবটিকে আরও উন্নত করার জন্য পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। এর আগে মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে একই কনসোর্টিয়াম মাত্র ১৮ শতাংশ রাজস্ব দেওয়ার প্রস্তাব করেছিল। ফলে দ্বিতীয় বৈঠকে প্রস্তাব বাড়ানো হলেও এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। বর্তমানে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা (প্রায় ৬.৪ ডলার) এবং অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের কাছ থেকে ৫০ টাকা সার্ভিস ফি নেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি আধুনিক বিমানবন্দরের মোট আয়ের ৪০–৫০% আসে এই নন-অ্যারোনটিক্যাল খাত থেকে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চুক্তি স্বাক্ষরের পরও বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে ৬ থেকে ৮ মাস সময় লাগবে। ফলে চলতি বছর টার্মিনাল চালুর সম্ভাবনা অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
“জাপানের সঙ্গে আলোচনা এগোচ্ছে, অনেক বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। তবে এখনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি।”
প্রস্তাব অনুযায়ী, জাপানি কনসোর্টিয়াম ১৫ বছরের জন্য টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চায়। এ সময় তারা প্রায় ১৫৯.৮ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে। বিনিময়ে টার্মিনালের মোট আয়ের একটি অংশ পাবে, যার মধ্যে ২২.৫% বাংলাদেশকে দেওয়া হবে।
টার্মিনালের রাজস্ব মূলত দুই ভাগে বিভক্ত:
প্রতি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে গড়ে ২,১৫৭ ডলার ল্যান্ডিং চার্জ আদায় করা হয়।
Japan International Cooperation Agency-এর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ যাত্রী এই বিমানবন্দর ব্যবহার করবে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক যাত্রীই থাকবে ১ কোটি ৩৫ লাখের বেশি।
২১ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই আধুনিক টার্মিনালটি এক বছরের বেশি সময় ধরে প্রস্তুত থাকলেও অপারেটর নিয়োগে সমঝোতা না হওয়ায় চালু করা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ-এর চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক জানিয়েছেন,
থার্ড টার্মিনাল নিয়ে জাপানের বিনিয়োগ ও রাজস্ব ভাগাভাগির প্রস্তাব বড় সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে শর্তাবলীতে পুরোপুরি একমত না হওয়ায় এখনো চুক্তি ঝুলে আছে। দ্রুত সমাধান না হলে দেশের সবচেয়ে আধুনিক বিমানবন্দর সুবিধা চালু হতে আরও বিলম্ব হতে পারে।

বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর বহুল প্রতীক্ষিত থার্ড টার্মিনাল পরিচালনা নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বড় অঙ্কের রাজস্ব ভাগাভাগির প্রস্তাব। জাপানের Sumitomo Corporation-এর নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়াম টার্মিনাল থেকে অর্জিত মোট আয়ের ২২ দশমিক ৫ শতাংশ বাংলাদেশকে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। ৩ এপ্রিল ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ‘থার্ড টার্মিনাল পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ’ সংক্রান্ত বৈঠকে এই প্রস্তাব তুলে ধরে জাপানি প্রতিনিধি দল। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকার প্রস্তাবটিকে আরও উন্নত করার জন্য পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। এর আগে মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে একই কনসোর্টিয়াম মাত্র ১৮ শতাংশ রাজস্ব দেওয়ার প্রস্তাব করেছিল। ফলে দ্বিতীয় বৈঠকে প্রস্তাব বাড়ানো হলেও এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। বর্তমানে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা (প্রায় ৬.৪ ডলার) এবং অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের কাছ থেকে ৫০ টাকা সার্ভিস ফি নেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি আধুনিক বিমানবন্দরের মোট আয়ের ৪০–৫০% আসে এই নন-অ্যারোনটিক্যাল খাত থেকে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চুক্তি স্বাক্ষরের পরও বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে ৬ থেকে ৮ মাস সময় লাগবে। ফলে চলতি বছর টার্মিনাল চালুর সম্ভাবনা অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
“জাপানের সঙ্গে আলোচনা এগোচ্ছে, অনেক বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। তবে এখনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি।”
প্রস্তাব অনুযায়ী, জাপানি কনসোর্টিয়াম ১৫ বছরের জন্য টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চায়। এ সময় তারা প্রায় ১৫৯.৮ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে। বিনিময়ে টার্মিনালের মোট আয়ের একটি অংশ পাবে, যার মধ্যে ২২.৫% বাংলাদেশকে দেওয়া হবে।
টার্মিনালের রাজস্ব মূলত দুই ভাগে বিভক্ত:
প্রতি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে গড়ে ২,১৫৭ ডলার ল্যান্ডিং চার্জ আদায় করা হয়।
Japan International Cooperation Agency-এর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ যাত্রী এই বিমানবন্দর ব্যবহার করবে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক যাত্রীই থাকবে ১ কোটি ৩৫ লাখের বেশি।
২১ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই আধুনিক টার্মিনালটি এক বছরের বেশি সময় ধরে প্রস্তুত থাকলেও অপারেটর নিয়োগে সমঝোতা না হওয়ায় চালু করা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ-এর চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক জানিয়েছেন,
থার্ড টার্মিনাল নিয়ে জাপানের বিনিয়োগ ও রাজস্ব ভাগাভাগির প্রস্তাব বড় সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে শর্তাবলীতে পুরোপুরি একমত না হওয়ায় এখনো চুক্তি ঝুলে আছে। দ্রুত সমাধান না হলে দেশের সবচেয়ে আধুনিক বিমানবন্দর সুবিধা চালু হতে আরও বিলম্ব হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন