দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে আবারও বড় চালান নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে একাধিক জাহাজ। আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সক্রিয় রয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, আগামী বুধবার (৮ এপ্রিল) মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ২৬ হাজার টন পরিশোধিত অকটেন নিয়ে এমটি সেন্ট্রাল স্টার নামের একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দর এর বহির্নোঙরে পৌঁছাবে। আইসল্যান্ডের পতাকাবাহী এই জাহাজটি দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
একই দিনে আরও একটি বড় চালান আসছে ফার্নেস অয়েলের। প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল নিয়ে এমটি ইস্টার্ন কুইন্স নামের জাহাজটিও বন্দরে পৌঁছাবে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ শিল্প খাতে জ্বালানির সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
বিপিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা সত্ত্বেও দেশে জ্বালানি সরবরাহে কোনো ঘাটতি যাতে না হয়, সে লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন উৎস থেকে তেল আমদানি করা হচ্ছে। সরকারের এই উদ্যোগে বাজারে জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে এর আগেই চট্টগ্রাম বন্দরে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বহনকারী দুটি জাহাজ পৌঁছেছে। নাইজেরিয়া থেকে এলএনজি নিয়ে এসেছে কুল ভয়েজার এবং চীন থেকে এলপিজি নিয়ে এসেছে গ্যাস জার্নি। বন্দর সূত্রে জানা গেছে, খুব শিগগিরই এসব জ্বালানি খালাস কার্যক্রম শুরু হবে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, ধারাবাহিকভাবে জ্বালানি আমদানির এই উদ্যোগ দেশের শিল্প, বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হবে।
আপনার মতামত লিখুন