দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬

????️ ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা: দেশের ১৫ জেলায় ঘণ্টায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আশঙ্কা

????️ ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা: দেশের ১৫ জেলায় ঘণ্টায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আশঙ্কা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক—ঐতিহাসিক ছবি ও হোয়াইট হাউসের রেপ্লিকা উপহার

রাজধানীর মাছ ও মাংসের বাজারে স্বস্তির কোন চিহ্ন নেই, ক্রেতাদের ভোগান্তি তুঙ্গে

অটোগ্যাস ও এলপিজির দাম বেড়ে নতুন রেকর্ড, সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ

“হামের ঝুঁকিতে ৩০ এলাকা: দেশজুড়ে জরুরি এমআর টিকাদান শুরু, ২১ মে পর্যন্ত চলবে বিশেষ কর্মসূচি”

জ্বালানি সংকটে বড় সিদ্ধান্ত: আজ থেকে অফিস ৯টা–৪টা, সন্ধ্যা ৬টার পর বন্ধ দোকানপাট ও সিনেমা হল

“নিঃশব্দ ঘাতক তাপপ্রবাহ: প্রতিদিন বাড়ছে অদৃশ্য মৃত্যুর মিছিল” “৪০ ডিগ্রির আগুনে দেশ: তাপে বাড়ছে মৃত্যু, ঝুঁকিতে কোটি মানুষ” “তাপমাত্রা নয়, বাড়ছে মৃত্যুঘণ্টা—বাংলাদেশে ‘নীরব মহামারি’” “গরমেই মৃত্যু! শ্রমজীবীদের জীবনে নেমে এসেছে অদৃশ্য বিপর্যয়” “২০৫০-এর আগেই বিপদ সংকেত: তাপে বাড়বে হাজারো প্রাণহানি”

‘মঙ্গল’ নয়, ‘আনন্দ’ নয়—এবার থেকে কেবল ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’: সংস্কৃতিমন্ত্রীর ঘোষণা ঘিরে আলোচনা তুঙ্গে

রাজধানীর মাছ ও মাংসের বাজারে স্বস্তির কোন চিহ্ন নেই, ক্রেতাদের ভোগান্তি তুঙ্গে

রাজধানীর মাছ ও মাংসের বাজারে স্বস্তির কোন চিহ্ন নেই, ক্রেতাদের ভোগান্তি তুঙ্গে

পবিত্র ঈদুল ফিতরের উৎসবের আনন্দের ছোঁয়া শেষ হলেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন বাজার খরচে স্বস্তি ফিরছে না। রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখনো সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। বিশেষ করে মাছ ও মাংসের বাজারে ক্রেতারা রীতিমতো হতাশ। বর্তমানে বাজারে কোনো প্রকার মাছই প্রতি কেজি ২০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে মোহাম্মদপুর টাউন হলরায়েরবাজারসহ রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, তুলনামূলক সস্তা হিসেবে পরিচিত পাঙ্গাশ মাছ এখন কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া তেলাপিয়া ২৩৫ টাকা এবং রুই মাছ আকারভেদে ২৪০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি মাছের মধ্যে টেংরা মাছ ৬০০ টাকা, বেলে মাছ ৩৫০ টাকা এবং বাইন মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।

মাছের বাজারে সবচেয়ে বেশি দাম লক্ষ্য করা গেছে চিংড়িতে; ক্রেতাদের জন্য প্রতি কেজি ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে হচ্ছে। অন্যান্য মাছের মধ্যে পাবদা ৩৫০ টাকা, শিং ও কই মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

রায়েরবাজারের মাছ ব্যবসায়ী সৌরভ আহমেদ জানান, ঈদের পর মাছের দাম কিছুটা কমেছে, তবে সাধারণ মানুষের কাছে এটি এখনও বেশি মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, “বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার ভিত্তিতে দাম নিয়মিত ওঠানামা করে। তবে কোনো মাছই ২০০ টাকার নিচে না থাকা ক্রেতাদের জন্য এক বিশাল বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

মাংসের বাজারেও স্বস্তি নেই। যদিও ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম সামান্য কমেছে, তবে গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি ১৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ২২০ টাকায় উঠেছিল। সোনালি মুরগি ৩৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে রাজধানীর অধিকাংশ বাজারে গরুর মাংস ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা দীর্ঘদিন ধরে একই স্থিতিতে রয়েছে।

মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে আসা সাধারণ ক্রেতারা জানান, ঈদের পর দাম কমার আশা ছিল। তবে বাজারে এসে দেখা যাচ্ছে অধিকাংশ পণ্যের দাম এখনও আগের চেয়ে বেশি। ক্রেতা শফিকুল আলম বলেন, “ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমায় স্বস্তি পেয়েছি, কিন্তু সামগ্রিক বাজারদর এখনো সাধারণ মানুষের জন্য অস্বস্তিকর। সোনালি মুরগি বা বড় মাছ এখন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় নেই, এটি শুধু শৌখিন মানুষের খাবারের অংশ হয়ে গেছে।”

বাজার সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উৎসব-পরবর্তী সময়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর তদারকি না থাকায় বিক্রেতারা ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করছেন। সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় আমিষের চাহিদা মেটাতে মাছ ও মাংসের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন, নতুবা নিম্ন আয়ের পরিবারের প্রাত্যহিক খাদ্য তালিকা সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬


রাজধানীর মাছ ও মাংসের বাজারে স্বস্তির কোন চিহ্ন নেই, ক্রেতাদের ভোগান্তি তুঙ্গে

প্রকাশের তারিখ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

পবিত্র ঈদুল ফিতরের উৎসবের আনন্দের ছোঁয়া শেষ হলেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন বাজার খরচে স্বস্তি ফিরছে না। রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখনো সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। বিশেষ করে মাছ ও মাংসের বাজারে ক্রেতারা রীতিমতো হতাশ। বর্তমানে বাজারে কোনো প্রকার মাছই প্রতি কেজি ২০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে মোহাম্মদপুর টাউন হলরায়েরবাজারসহ রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, তুলনামূলক সস্তা হিসেবে পরিচিত পাঙ্গাশ মাছ এখন কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া তেলাপিয়া ২৩৫ টাকা এবং রুই মাছ আকারভেদে ২৪০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি মাছের মধ্যে টেংরা মাছ ৬০০ টাকা, বেলে মাছ ৩৫০ টাকা এবং বাইন মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।

মাছের বাজারে সবচেয়ে বেশি দাম লক্ষ্য করা গেছে চিংড়িতে; ক্রেতাদের জন্য প্রতি কেজি ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে হচ্ছে। অন্যান্য মাছের মধ্যে পাবদা ৩৫০ টাকা, শিং ও কই মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

রায়েরবাজারের মাছ ব্যবসায়ী সৌরভ আহমেদ জানান, ঈদের পর মাছের দাম কিছুটা কমেছে, তবে সাধারণ মানুষের কাছে এটি এখনও বেশি মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, “বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার ভিত্তিতে দাম নিয়মিত ওঠানামা করে। তবে কোনো মাছই ২০০ টাকার নিচে না থাকা ক্রেতাদের জন্য এক বিশাল বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

মাংসের বাজারেও স্বস্তি নেই। যদিও ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম সামান্য কমেছে, তবে গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি ১৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ২২০ টাকায় উঠেছিল। সোনালি মুরগি ৩৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে রাজধানীর অধিকাংশ বাজারে গরুর মাংস ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা দীর্ঘদিন ধরে একই স্থিতিতে রয়েছে।

মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে আসা সাধারণ ক্রেতারা জানান, ঈদের পর দাম কমার আশা ছিল। তবে বাজারে এসে দেখা যাচ্ছে অধিকাংশ পণ্যের দাম এখনও আগের চেয়ে বেশি। ক্রেতা শফিকুল আলম বলেন, “ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমায় স্বস্তি পেয়েছি, কিন্তু সামগ্রিক বাজারদর এখনো সাধারণ মানুষের জন্য অস্বস্তিকর। সোনালি মুরগি বা বড় মাছ এখন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় নেই, এটি শুধু শৌখিন মানুষের খাবারের অংশ হয়ে গেছে।”

বাজার সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উৎসব-পরবর্তী সময়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর তদারকি না থাকায় বিক্রেতারা ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করছেন। সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় আমিষের চাহিদা মেটাতে মাছ ও মাংসের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন, নতুবা নিম্ন আয়ের পরিবারের প্রাত্যহিক খাদ্য তালিকা সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর