হামের বাড়তে থাকা প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে দেশে ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় একযোগে জরুরি হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। রোববার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ কার্যক্রম চলবে আগামী ২১ মে পর্যন্ত। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঢাকার নবাবগঞ্জে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেন, “হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে শিশুদের টিকা দেওয়া এখন অত্যন্ত জরুরি। এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারব বলে আশা করছি।”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রথম ধাপে ৫ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে এই টিকা দেওয়া হবে। যারা নিয়মিত টিকা কর্মসূচির আওতায় আগে টিকা নিতে পারেনি, তারাও এই বিশেষ উদ্যোগে অন্তর্ভুক্ত হবে। এমনকি যারা ইতোমধ্যে টিকা নিয়েছে, ঝুঁকি বিবেচনায় তাদেরও পুনরায় টিকা দেওয়া হবে।
টিকা গ্রহণের জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে আগে নিবন্ধন করতে হবে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এমআর টিকার একটি ডোজ নেওয়ার এক মাস পর শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির অন্যান্য টিকা গ্রহণ করা যাবে।
এদিকে, যেসব শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা যাচ্ছে, তাদের টিকার পাশাপাশি ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলও দেওয়া হচ্ছে, যাতে রোগের জটিলতা কমানো যায়।
নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সেখানে হামের উপসর্গ নিয়ে ১৪ জন শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে তিনজনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে, যা পরিস্থিতির গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে।
স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, এই ধরনের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে—নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিশুদের টিকা কেন্দ্রে নিয়ে এসে এই সুরক্ষা নিশ্চিত করতে।
আপনার মতামত লিখুন