দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬

কেরানীগঞ্জে গ্যাস লাইটার কারখানায় ভয়াবহ আগুন, ৭ ইউনিটের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে

কেরানীগঞ্জে গ্যাস লাইটার কারখানায় ভয়াবহ আগুন, ৭ ইউনিটের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে

শহীদ জিয়ার কণ্ঠে উজ্জীবিত হয়েছিল বাঙালি জাতি: মির্জা ফখরুল

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে ঐতিহাসিক বৈঠক

পার্বত্য অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ধীরগতি: সময় পেরিয়ে ৮ বছরে, খরচ বেড়ে ৮৩৬ কোটি টাকা

৮ বছরে শেষ নয় ৫ বছরের প্রকল্প! খরচ বেড়ে ৮৩৬ কোটি, পার্বত্য এলাকায় অবকাঠামো ঝুঁকিতে

দুবাই মেরিনায় ওরাকল ভবনে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ, উত্তেজনায় কাঁপছে আমিরাত—ইরানকে ঘিরে নতুন শঙ্কা

মালয়েশিয়া থেকে ৩৪ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রামে বিশাল জাহাজ—জ্বালানি মজুতে স্বস্তির ইঙ্গিত!

ইরানের আকাশে নিখোঁজ মার্কিন যুদ্ধবিমানের ক্রু: উদ্ধার অভিযানে মুখোমুখি উত্তেজনায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরান!

শহীদ জিয়ার কণ্ঠে উজ্জীবিত হয়েছিল বাঙালি জাতি: মির্জা ফখরুল

শহীদ জিয়ার কণ্ঠে উজ্জীবিত হয়েছিল বাঙালি জাতি: মির্জা ফখরুল

হবিগঞ্জ, ৪ এপ্রিল: বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হত্যাযজ্ঞে নিরস্ত্র বাঙালি জাতি যখন হতাশার অতলে ডুবে গিয়েছিল, তখন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কণ্ঠ তাদের উজ্জীবিত করে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে সহায়তা করেছিল।

শনিবার (৪ এপ্রিল) মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে ‘তেলিয়াপাড়া দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ কোনো একক ব্যক্তির নির্দেশে হয়নি। তেলিয়াপাড়া চা বাগানে জেনারেল এম এ জি ওসমানীর নেতৃত্বে এবং মেজর জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে সেক্টর কমান্ডাররা একত্র হয়ে যুদ্ধের পরিকল্পনা করেছেন। ১৯৭১ সালের এই দিনে বাগানের বাংলোয় অনুষ্ঠিত বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা স্বাধীনতা সংগ্রামের ‘সূতিকাগার’ হিসেবে পরিচিত।”

তিনি আরও বলেন, “জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। তার ঘোষণার পর সেনাবাহিনী ও মুক্তিকামী জনতা সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশ নেয়। সেই সময় শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানে বন্দি ছিলেন, আর জিয়াউর রহমান পরিবার রেখে যুদ্ধে যোগ দেন।”

মির্জা ফখরুল বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিযুদ্ধকালীন ঝুঁকিপূর্ণ অবদান এবং পরবর্তীতে পাকবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারের ঘটনাগুলোও স্মরণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, এসব স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস অতীতে আড়াল করা হয়েছিল।

তিনি বিএনপির সংস্কারমুখী অবস্থান সম্পর্কে বলেন, “‘বিএনপি সংস্কার চায় না’ এমন প্রচারণা মিথ্যা। ১৯৭৫ সালের একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় রাজনীতির প্রবর্তনের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান সংস্কারের সূচনা করেন। পরবর্তীতে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে রাষ্ট্রপতি শাসনব্যবস্থা থেকে সংসদীয় পদ্ধতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার চালু হয়। ২০২২ সালে ঘোষিত বিএনপির ৩১ দফায় বর্তমান সংস্কারের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।”

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানীর নাম অতীতে যথাযথভাবে উচ্চারিত হয়নি। তেলিয়াপাড়ায় সেক্টর কমান্ডারদের ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি আওয়ামী লীগের বর্ণনায় প্রতিফলিত হয়নি।”

অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ অন্যান্য অতিথিরা তেলিয়াপাড়া চা বাগানের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আযম খান এমপি, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এমপি, জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ, সংসদ সদস্য এস এম ফয়সল, ডা. শাখাওয়াত হাসান জীবন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম প্রমুখ। সভার সভাপতিত্ব করেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা রফিক

১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল তেলিয়াপাড়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বাঙালি কর্মকর্তারা এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে যুদ্ধ পরিচালনার প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এই বৈঠককে মুক্তিযুদ্ধের সামরিক কৌশল নির্ধারণের প্রথম সংগঠিত উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। স্বাধীনতার পর থেকে ৪ এপ্রিল স্থানীয়ভাবে ‘তেলিয়াপাড়া দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে এই স্থলটি সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি রয়ে গেছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬


শহীদ জিয়ার কণ্ঠে উজ্জীবিত হয়েছিল বাঙালি জাতি: মির্জা ফখরুল

প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

হবিগঞ্জ, ৪ এপ্রিল: বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হত্যাযজ্ঞে নিরস্ত্র বাঙালি জাতি যখন হতাশার অতলে ডুবে গিয়েছিল, তখন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কণ্ঠ তাদের উজ্জীবিত করে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে সহায়তা করেছিল।

শনিবার (৪ এপ্রিল) মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে ‘তেলিয়াপাড়া দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ কোনো একক ব্যক্তির নির্দেশে হয়নি। তেলিয়াপাড়া চা বাগানে জেনারেল এম এ জি ওসমানীর নেতৃত্বে এবং মেজর জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে সেক্টর কমান্ডাররা একত্র হয়ে যুদ্ধের পরিকল্পনা করেছেন। ১৯৭১ সালের এই দিনে বাগানের বাংলোয় অনুষ্ঠিত বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা স্বাধীনতা সংগ্রামের ‘সূতিকাগার’ হিসেবে পরিচিত।”

তিনি আরও বলেন, “জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। তার ঘোষণার পর সেনাবাহিনী ও মুক্তিকামী জনতা সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশ নেয়। সেই সময় শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানে বন্দি ছিলেন, আর জিয়াউর রহমান পরিবার রেখে যুদ্ধে যোগ দেন।”

মির্জা ফখরুল বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিযুদ্ধকালীন ঝুঁকিপূর্ণ অবদান এবং পরবর্তীতে পাকবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারের ঘটনাগুলোও স্মরণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, এসব স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস অতীতে আড়াল করা হয়েছিল।

তিনি বিএনপির সংস্কারমুখী অবস্থান সম্পর্কে বলেন, “‘বিএনপি সংস্কার চায় না’ এমন প্রচারণা মিথ্যা। ১৯৭৫ সালের একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় রাজনীতির প্রবর্তনের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান সংস্কারের সূচনা করেন। পরবর্তীতে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে রাষ্ট্রপতি শাসনব্যবস্থা থেকে সংসদীয় পদ্ধতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার চালু হয়। ২০২২ সালে ঘোষিত বিএনপির ৩১ দফায় বর্তমান সংস্কারের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।”

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানীর নাম অতীতে যথাযথভাবে উচ্চারিত হয়নি। তেলিয়াপাড়ায় সেক্টর কমান্ডারদের ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি আওয়ামী লীগের বর্ণনায় প্রতিফলিত হয়নি।”

অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ অন্যান্য অতিথিরা তেলিয়াপাড়া চা বাগানের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আযম খান এমপি, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এমপি, জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ, সংসদ সদস্য এস এম ফয়সল, ডা. শাখাওয়াত হাসান জীবন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম প্রমুখ। সভার সভাপতিত্ব করেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা রফিক

১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল তেলিয়াপাড়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বাঙালি কর্মকর্তারা এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে যুদ্ধ পরিচালনার প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এই বৈঠককে মুক্তিযুদ্ধের সামরিক কৌশল নির্ধারণের প্রথম সংগঠিত উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। স্বাধীনতার পর থেকে ৪ এপ্রিল স্থানীয়ভাবে ‘তেলিয়াপাড়া দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে এই স্থলটি সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি রয়ে গেছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর