দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আমূল পরিবর্তনের পথে: তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত ও অপতথ্য রোধে নতুন কাঠামো আনবে মন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আমূল পরিবর্তনের পথে: তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত ও অপতথ্য রোধে নতুন কাঠামো আনবে মন্ত্রী

তেলের দাম বাড়তে পারে যেকোনো সময়! বৈশ্বিক সংকটে বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত অর্থমন্ত্রীর

জাপানি কনসোর্টিয়ামের হাতে যাচ্ছে থার্ড টার্মিনাল! জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে সরকার

ভূমধ্যসাগরে ট্র্যাজেডি: ২২ অভিবাসীর মৃত্যু, ২১ বাংলাদেশিসহ ২৬ জন উদ্ধার

জ্বালানি তেল কৃত্রিম সংকট: মজুতের বিরুদ্ধে অভিযান, জরিমানা

পুলিশ কারও লাঠিয়াল নয়, জনগণের বন্ধু—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জোরালো বার্তা

কঠিন পরীক্ষায় সংসদ

রমজানের ছুটি পুষিয়ে নিতে ১০ শনিবার খোলা থাকবে প্রাথমিক বিদ্যালয়

জাপানি কনসোর্টিয়ামের হাতে যাচ্ছে থার্ড টার্মিনাল! জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে সরকার

জাপানি কনসোর্টিয়ামের হাতে যাচ্ছে থার্ড টার্মিনাল! জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে সরকার

বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব জাপানি কনসোর্টিয়ামকে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। তবে পুরো প্রক্রিয়াতেই “জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা”কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার।

শুক্রবার জাপানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা সাংবাদিকদের জানান, বর্তমানে আলোচনার মূল ফোকাস রাজস্ব সংক্রান্ত বিষয়গুলো। বিশেষ করে এমবার্কেশন ফি, আপফ্রন্ট পেমেন্ট এবং লাভ ভাগাভাগির কাঠামো নিয়ে দুই পক্ষ বিস্তারিত আলোচনা করছে।

তিনি বলেন,
“আমরা জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছাতে পারলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”



এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত

প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত জানান,
“আলোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা আশাবাদী, খুব দ্রুতই একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে।”

তিনি জাপানি পক্ষকে বাংলাদেশের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনা করে আরও সংশোধিত প্রস্তাব জমা দেওয়ার আহ্বান জানান।


জাপানি কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাব

জাপানের চারটি বড় প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত কনসোর্টিয়াম—

  • Japan Airport Terminal Company
  • Sumitomo Corporation
  • Sojitz Corporation
  • Narita International Airport Corporation

তারা ইতোমধ্যে একটি সংশোধিত প্রস্তাব জমা দিয়েছে, যেখানে খরচ কিছুটা কমিয়ে দুই পক্ষের মতপার্থক্য কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে।


জাপানের Japan International Cooperation Agency-এর অর্থায়নে নির্মিত এই টার্মিনালের ব্যয় প্রায় ২১,৩৯৮ কোটি টাকা।

টার্মিনালটির বৈশিষ্ট্য:

  • আয়তন: প্রায় ৫৪২,০০০ বর্গমিটার
  • বছরে অতিরিক্ত যাত্রী ধারণক্ষমতা: ১২–১৬ মিলিয়ন
  • কার্গো পরিবহন: প্রায় ৯ লাখ টন

সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী:

  • চুক্তি সই হতে পারে: প্রায় ৩ মাসের মধ্যে
  • উদ্বোধন: ২০২৬ সালের শেষ দিকে বা ২০২৭ সালের জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারি

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে প্রায় দেড় বছর টার্মিনালটির কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বেশ কয়েকটি বিদেশি এয়ারলাইন বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্রুত টার্মিনাল চালুর নির্দেশ দেন। এর পর থেকেই জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার গতি বাড়ানো হয়েছে।


আগামী সোমবার আবারও দুই পক্ষের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই বৈঠকই হতে পারে চুক্তি চূড়ান্ত করার পথে বড় অগ্রগতি।


বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতে বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে থার্ড টার্মিনাল। তবে সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে—যেকোনো চুক্তি হবে দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি কত দ্রুত চূড়ান্ত হয়।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬


জাপানি কনসোর্টিয়ামের হাতে যাচ্ছে থার্ড টার্মিনাল! জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে সরকার

প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব জাপানি কনসোর্টিয়ামকে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। তবে পুরো প্রক্রিয়াতেই “জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা”কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার।

শুক্রবার জাপানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা সাংবাদিকদের জানান, বর্তমানে আলোচনার মূল ফোকাস রাজস্ব সংক্রান্ত বিষয়গুলো। বিশেষ করে এমবার্কেশন ফি, আপফ্রন্ট পেমেন্ট এবং লাভ ভাগাভাগির কাঠামো নিয়ে দুই পক্ষ বিস্তারিত আলোচনা করছে।

তিনি বলেন,
“আমরা জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছাতে পারলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”



এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত

প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত জানান,
“আলোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা আশাবাদী, খুব দ্রুতই একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে।”

তিনি জাপানি পক্ষকে বাংলাদেশের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনা করে আরও সংশোধিত প্রস্তাব জমা দেওয়ার আহ্বান জানান।


জাপানি কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাব

জাপানের চারটি বড় প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত কনসোর্টিয়াম—

  • Japan Airport Terminal Company
  • Sumitomo Corporation
  • Sojitz Corporation
  • Narita International Airport Corporation

তারা ইতোমধ্যে একটি সংশোধিত প্রস্তাব জমা দিয়েছে, যেখানে খরচ কিছুটা কমিয়ে দুই পক্ষের মতপার্থক্য কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে।


জাপানের Japan International Cooperation Agency-এর অর্থায়নে নির্মিত এই টার্মিনালের ব্যয় প্রায় ২১,৩৯৮ কোটি টাকা।

টার্মিনালটির বৈশিষ্ট্য:

  • আয়তন: প্রায় ৫৪২,০০০ বর্গমিটার
  • বছরে অতিরিক্ত যাত্রী ধারণক্ষমতা: ১২–১৬ মিলিয়ন
  • কার্গো পরিবহন: প্রায় ৯ লাখ টন

সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী:

  • চুক্তি সই হতে পারে: প্রায় ৩ মাসের মধ্যে
  • উদ্বোধন: ২০২৬ সালের শেষ দিকে বা ২০২৭ সালের জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারি

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে প্রায় দেড় বছর টার্মিনালটির কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বেশ কয়েকটি বিদেশি এয়ারলাইন বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্রুত টার্মিনাল চালুর নির্দেশ দেন। এর পর থেকেই জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার গতি বাড়ানো হয়েছে।


আগামী সোমবার আবারও দুই পক্ষের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই বৈঠকই হতে পারে চুক্তি চূড়ান্ত করার পথে বড় অগ্রগতি।


বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতে বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে থার্ড টার্মিনাল। তবে সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে—যেকোনো চুক্তি হবে দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি কত দ্রুত চূড়ান্ত হয়।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর