আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৫ মার্চ, ২০২৬
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরান এক বিপজ্জনক রণকৌশল সাজিয়েছে। সাগরের নিচে পেতে রাখা সস্তা কিন্তু প্রাণঘাতী ‘মাইন’ দিয়ে মার্কিন নৌবাহিনীকে কুপোকাত করার ছক কষছে তেহরান। পেন্টাগনের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সামনে এই ‘চোরাগোপ্তা’ অস্ত্র এখন বড়সড় সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লন্ডনের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইরানের হাতে অন্তত ৬ হাজার নৌ-মাইন রয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দাদের দাবি, তেহরান ইতিমধ্যে এই সরু জলপথের বিভিন্ন অংশে অন্তত এক ডজন মাইন স্থাপন করে রেখেছে। মাছ ধরার ট্রলার বা সাধারণ নৌকায় করে গোপনে ফেলে আসা এই মাইনগুলো উপকূল থেকে তারের মাধ্যমে বা শব্দ সংকেত (অ্যাকুস্টিক সিগন্যাল) দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
ইরানি মাইনগুলো জাহাজের প্রপেলারের শব্দ বা চৌম্বকীয় ক্ষেত্র টের পেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিস্ফোরিত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ‘বটম’ মাইনগুলো জাহাজকে স্পর্শ না করেই ধ্বংস করতে সক্ষম। বিস্ফোরণের ফলে সাগরের নিচে বিশাল গ্যাসের বুদবুদ তৈরি হয়, যা পানির ভারসাম্য নষ্ট করে দিয়ে আস্ত একটি যুদ্ধজাহাজকে মুহূর্তেই দু’টুকরো করে দিতে পারে।
সেন্টার ফর এ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির সাবেক সাবমেরিন কমান্ডার টম শুগার্ট জানান, ‘মাইন পাতা যতটা সহজ, তা পরিষ্কার করা তার চেয়ে বহুগুণ কঠিন।’ মার্কিন নৌবাহিনীর বড় দুর্বলতা হলো তাদের ‘মাইনসুইপার’ বা মাইন পরিষ্কারকারী জাহাজের স্বল্পতা। বর্তমানে তাদের ব্যবহৃত পুরোনো ‘অ্যাভেঞ্জার-ক্লাস’ জাহাজগুলো অবসরে যাচ্ছে, যার বিকল্প ব্যবস্থা এখনো বেশ ধীরগতির।
বিশ্বের মোট পানিপথ বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশই এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে সম্পন্ন হয়। ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির বিশেষজ্ঞ ফারজিন নাদিমি সতর্ক করে বলেছেন, এখানে একটি বিস্ফোরণ মানেই বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস। থিংক-ট্যাংক র্যান্ডের ইঞ্জিনিয়ার স্কট স্যাভিটজের মতে, সাগরে যদি মাইন নাও থাকে, শুধু ‘মাইন আছে’ এমন আতঙ্ক ছড়িয়ে দিলেও তা একটি কার্যকর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়, কারণ কোনো জাহাজ কোম্পানি তখন ঝুঁকি নিতে চায় না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অদৃশ্য মাইনফিল্ড সরাতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে হয়তো ইরানের মূল ভূখণ্ডের কাছাকাছি বিশেষ অভিযান চালাতে হবে। তবে এমন পদক্ষেপ সরাসরি পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধ উসকে দিতে পারে। আপাতত সমুদ্রের শান্ত নীল পানির নিচে তেহরানের পেতে রাখা এই ‘টাইম বোমার’ দিকেই উদ্বেগের সাথে তাকিয়ে আছে বিশ্ব।

মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মার্চ ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৫ মার্চ, ২০২৬
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরান এক বিপজ্জনক রণকৌশল সাজিয়েছে। সাগরের নিচে পেতে রাখা সস্তা কিন্তু প্রাণঘাতী ‘মাইন’ দিয়ে মার্কিন নৌবাহিনীকে কুপোকাত করার ছক কষছে তেহরান। পেন্টাগনের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সামনে এই ‘চোরাগোপ্তা’ অস্ত্র এখন বড়সড় সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লন্ডনের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইরানের হাতে অন্তত ৬ হাজার নৌ-মাইন রয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দাদের দাবি, তেহরান ইতিমধ্যে এই সরু জলপথের বিভিন্ন অংশে অন্তত এক ডজন মাইন স্থাপন করে রেখেছে। মাছ ধরার ট্রলার বা সাধারণ নৌকায় করে গোপনে ফেলে আসা এই মাইনগুলো উপকূল থেকে তারের মাধ্যমে বা শব্দ সংকেত (অ্যাকুস্টিক সিগন্যাল) দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
ইরানি মাইনগুলো জাহাজের প্রপেলারের শব্দ বা চৌম্বকীয় ক্ষেত্র টের পেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিস্ফোরিত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ‘বটম’ মাইনগুলো জাহাজকে স্পর্শ না করেই ধ্বংস করতে সক্ষম। বিস্ফোরণের ফলে সাগরের নিচে বিশাল গ্যাসের বুদবুদ তৈরি হয়, যা পানির ভারসাম্য নষ্ট করে দিয়ে আস্ত একটি যুদ্ধজাহাজকে মুহূর্তেই দু’টুকরো করে দিতে পারে।
সেন্টার ফর এ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির সাবেক সাবমেরিন কমান্ডার টম শুগার্ট জানান, ‘মাইন পাতা যতটা সহজ, তা পরিষ্কার করা তার চেয়ে বহুগুণ কঠিন।’ মার্কিন নৌবাহিনীর বড় দুর্বলতা হলো তাদের ‘মাইনসুইপার’ বা মাইন পরিষ্কারকারী জাহাজের স্বল্পতা। বর্তমানে তাদের ব্যবহৃত পুরোনো ‘অ্যাভেঞ্জার-ক্লাস’ জাহাজগুলো অবসরে যাচ্ছে, যার বিকল্প ব্যবস্থা এখনো বেশ ধীরগতির।
বিশ্বের মোট পানিপথ বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশই এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে সম্পন্ন হয়। ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির বিশেষজ্ঞ ফারজিন নাদিমি সতর্ক করে বলেছেন, এখানে একটি বিস্ফোরণ মানেই বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস। থিংক-ট্যাংক র্যান্ডের ইঞ্জিনিয়ার স্কট স্যাভিটজের মতে, সাগরে যদি মাইন নাও থাকে, শুধু ‘মাইন আছে’ এমন আতঙ্ক ছড়িয়ে দিলেও তা একটি কার্যকর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়, কারণ কোনো জাহাজ কোম্পানি তখন ঝুঁকি নিতে চায় না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অদৃশ্য মাইনফিল্ড সরাতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে হয়তো ইরানের মূল ভূখণ্ডের কাছাকাছি বিশেষ অভিযান চালাতে হবে। তবে এমন পদক্ষেপ সরাসরি পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধ উসকে দিতে পারে। আপাতত সমুদ্রের শান্ত নীল পানির নিচে তেহরানের পেতে রাখা এই ‘টাইম বোমার’ দিকেই উদ্বেগের সাথে তাকিয়ে আছে বিশ্ব।

আপনার মতামত লিখুন