দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬

র‍্যাব, সিআইডি ও এসবি প্রধান পদে রদবদল

র‍্যাব, সিআইডি ও এসবি প্রধান পদে রদবদল

ইরানের ১২৫ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ২১২ ড্রোন ভূপাতিতের দাবি বাহরাইনের

দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জামায়াত আমিরের মধ্যে তুমুল বিতর্ক

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন, জানা গেল সংশ্লিষ্ট সূত্রে

সারাদেশে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

"জ্বালানি তেলের বাজারে স্বস্তি; রেশনিং তুলে নেওয়ার ঘোষণা"

"সংবিধান সংস্কার পরিষদের কার্যক্রম নিয়ে সংসদে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের আশঙ্কা"

জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জামায়াত আমিরের মধ্যে তুমুল বিতর্ক

জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জামায়াত আমিরের মধ্যে তুমুল বিতর্ক

সংবিধান সংস্কার নিয়ে সংসদে উত্তপ্ত বিতর্ক: ‘আবেগ নয়, চলতে হবে সাংবিধানিক পথে’

সংসদীয় প্রতিবেদক | ঢাকা

জাতীয় সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ ২০২৬) অধিবেশনের শুরুতেই বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের মধ্যে আইনি ও সাংবিধানিক ব্যাখ্যা নিয়ে এই বিতর্ক হয়।

বিরোধীদলীয় নেতার উদ্বেগ ও দাবি

অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ১৩ নভেম্বর ২০২৫-এ রাষ্ট্রপতির জারিকৃত ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ অনুযায়ী নির্বাচনের ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার কথা ছিল। কিন্তু সেই নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলেও তা করা হয়নি।

তিনি যুক্তি দেন, সংসদ সদস্যরা বর্তমানে দুটি ভিন্ন ক্ষমতায় (ক্যাপাসিটি) নির্বাচিত হয়েছেন—একইসাথে তারা জাতীয় সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির পরামর্শে সংসদের অধিবেশন ডাকা হলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকা আইনের লঙ্ঘন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাল্টা যুক্তি: ‘রাষ্ট্র চলে আইনে, ইমোশনে নয়’

বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্র কেবল আবেগ দিয়ে নয়, বরং সংবিধান ও আইনের কঠোর ধারা অনুযায়ী চলে। তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশটির আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে একে ‘না অধ্যাদেশ, না আইন—একটি আরোপিত আদেশ’ হিসেবে অভিহিত করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলো ছিল:

  • সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা: বর্তমান সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের’ কোনো অস্তিত্ব নেই। ফলে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে কোনো পরামর্শ দিতে পারেন না।

  • আদালতের রুল: এই আদেশের নির্দিষ্ট অংশ কেন অসাংবিধানিক হবে না, তা নিয়ে আদালত রুল জারি করেছেন। যদিও সংসদ সার্বভৌম, তবুও সংবিধান লঙ্ঘন করে কোনো আইন প্রণয়ন করা সম্ভব নয়।

  • গণভোটের বিতর্ক: তিনি দাবি করেন, গণভোটে চারটি ভিন্ন প্রশ্ন থাকলেও মানুষের জন্য আলাদাভাবে উত্তর দেওয়ার সুযোগ ছিল না, যা পদ্ধতিগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ।

  • সমাধানের পথ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনরায়কে সম্মান দিতে হলে তা সাংবিধানিক পথেই দিতে হবে। তিনি প্রয়োজনে বাজেট অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন বিল আনার বিষয়টি কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে আলোচনার প্রস্তাব দেন।

স্পিকারের সিদ্ধান্ত

বিতর্ক শেষে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। তবে এই ধরনের জটিল বিষয়ে তাৎক্ষণিক সমাধান দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি বিরোধীদলীয় নেতাকে যথাযথ বিধি অনুযায়ী নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দেন এবং এরপর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার কথা জানান।


প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ (Quick Highlights):

  • ইস্যু: জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন না করা।

  • জামায়াত আমিরের দাবি: ৩০ দিনের মধ্যে অধিবেশন ডাকার আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল।

  • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবস্থান: সংবিধানে সংস্কার পরিষদের অস্তিত্ব নেই; আইনানুগ ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই একমাত্র পথ।

  • ফলাফল: বিষয়টি সংসদীয় কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে আলোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬


জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জামায়াত আমিরের মধ্যে তুমুল বিতর্ক

প্রকাশের তারিখ : ১৫ মার্চ ২০২৬

featured Image

সংবিধান সংস্কার নিয়ে সংসদে উত্তপ্ত বিতর্ক: ‘আবেগ নয়, চলতে হবে সাংবিধানিক পথে’

সংসদীয় প্রতিবেদক | ঢাকা

জাতীয় সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ ২০২৬) অধিবেশনের শুরুতেই বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের মধ্যে আইনি ও সাংবিধানিক ব্যাখ্যা নিয়ে এই বিতর্ক হয়।

বিরোধীদলীয় নেতার উদ্বেগ ও দাবি

অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ১৩ নভেম্বর ২০২৫-এ রাষ্ট্রপতির জারিকৃত ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ অনুযায়ী নির্বাচনের ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার কথা ছিল। কিন্তু সেই নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলেও তা করা হয়নি।

তিনি যুক্তি দেন, সংসদ সদস্যরা বর্তমানে দুটি ভিন্ন ক্ষমতায় (ক্যাপাসিটি) নির্বাচিত হয়েছেন—একইসাথে তারা জাতীয় সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির পরামর্শে সংসদের অধিবেশন ডাকা হলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকা আইনের লঙ্ঘন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাল্টা যুক্তি: ‘রাষ্ট্র চলে আইনে, ইমোশনে নয়’

বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্র কেবল আবেগ দিয়ে নয়, বরং সংবিধান ও আইনের কঠোর ধারা অনুযায়ী চলে। তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশটির আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে একে ‘না অধ্যাদেশ, না আইন—একটি আরোপিত আদেশ’ হিসেবে অভিহিত করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলো ছিল:

  • সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা: বর্তমান সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের’ কোনো অস্তিত্ব নেই। ফলে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে কোনো পরামর্শ দিতে পারেন না।

  • আদালতের রুল: এই আদেশের নির্দিষ্ট অংশ কেন অসাংবিধানিক হবে না, তা নিয়ে আদালত রুল জারি করেছেন। যদিও সংসদ সার্বভৌম, তবুও সংবিধান লঙ্ঘন করে কোনো আইন প্রণয়ন করা সম্ভব নয়।

  • গণভোটের বিতর্ক: তিনি দাবি করেন, গণভোটে চারটি ভিন্ন প্রশ্ন থাকলেও মানুষের জন্য আলাদাভাবে উত্তর দেওয়ার সুযোগ ছিল না, যা পদ্ধতিগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ।

  • সমাধানের পথ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনরায়কে সম্মান দিতে হলে তা সাংবিধানিক পথেই দিতে হবে। তিনি প্রয়োজনে বাজেট অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন বিল আনার বিষয়টি কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে আলোচনার প্রস্তাব দেন।

স্পিকারের সিদ্ধান্ত

বিতর্ক শেষে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। তবে এই ধরনের জটিল বিষয়ে তাৎক্ষণিক সমাধান দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি বিরোধীদলীয় নেতাকে যথাযথ বিধি অনুযায়ী নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দেন এবং এরপর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার কথা জানান।


প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ (Quick Highlights):

  • ইস্যু: জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন না করা।

  • জামায়াত আমিরের দাবি: ৩০ দিনের মধ্যে অধিবেশন ডাকার আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল।

  • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবস্থান: সংবিধানে সংস্কার পরিষদের অস্তিত্ব নেই; আইনানুগ ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই একমাত্র পথ।

  • ফলাফল: বিষয়টি সংসদীয় কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে আলোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর