দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬

র‍্যাব, সিআইডি ও এসবি প্রধান পদে রদবদল

র‍্যাব, সিআইডি ও এসবি প্রধান পদে রদবদল

ইরানের ১২৫ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ২১২ ড্রোন ভূপাতিতের দাবি বাহরাইনের

দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জামায়াত আমিরের মধ্যে তুমুল বিতর্ক

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন, জানা গেল সংশ্লিষ্ট সূত্রে

সারাদেশে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

"জ্বালানি তেলের বাজারে স্বস্তি; রেশনিং তুলে নেওয়ার ঘোষণা"

"সংবিধান সংস্কার পরিষদের কার্যক্রম নিয়ে সংসদে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের আশঙ্কা"

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন, জানা গেল সংশ্লিষ্ট সূত্রে

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন, জানা গেল সংশ্লিষ্ট সূত্রে

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল: সবশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিই হবেন প্রধান

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুপ্রিম কোর্ট | রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬

সংবিধানে বহুল আলোচিত নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল রেখে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত রায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশের সবশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিই এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

আজ রোববার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের লেখা ৭৪ পৃষ্ঠার এই ঐতিহাসিক রায়টি আপলোড করা হয়।

রায়ের মূল দিকসমূহ

গত ২০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেছিলেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা ছিলেন— বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা অপরিহার্য।

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পরিক্রমা

এই রায়ের পথ প্রশস্ত হয়েছে কয়েক মাসের টানা শুনানির মাধ্যমে:

  • রিভিউ আবেদন: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২৭ আগস্ট সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি প্রথম রিভিউ আবেদন করেন। পরবর্তীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার পৃথক আবেদন জানান।

  • শুনানি: অক্টোবর ও নভেম্বর মাস জুড়ে প্রায় ১০ দিনব্যাপী এই মামলার শুনানি চলে। যেখানে ড. শরীফ ভূঁইয়া, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং অ্যাডভোকেট শিশির মনির আবেদনকারীদের পক্ষে এবং অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।

তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার ইতিহাস

  • অন্তর্ভুক্তি: ১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এটি সংবিধানে যুক্ত হয়।

  • বৈধতা: ২০০৪ সালে হাইকোর্ট একে বৈধ ঘোষণা করলেও ২০১১ সালে আপিল বিভাগের তৎকালীন বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে এটি বাতিল করে দেয়।

  • বাতিল ও পুনঃস্থাপন: ২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ব্যবস্থাটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল। দীর্ঘ ১৫ বছর পর ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রেক্ষাপটে সর্বোচ্চ আদালত আগের রায় পুনর্বিবেচনা করে পুনরায় এই ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনলেন।

ভবিষ্যৎ প্রভাব

এই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ফলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনসমূহ একটি নিরপেক্ষ ও অরাজনৈতিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠানের আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হলো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রাখবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬


তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন, জানা গেল সংশ্লিষ্ট সূত্রে

প্রকাশের তারিখ : ১৫ মার্চ ২০২৬

featured Image

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল: সবশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিই হবেন প্রধান

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুপ্রিম কোর্ট | রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬

সংবিধানে বহুল আলোচিত নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল রেখে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত রায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশের সবশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিই এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

আজ রোববার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের লেখা ৭৪ পৃষ্ঠার এই ঐতিহাসিক রায়টি আপলোড করা হয়।

রায়ের মূল দিকসমূহ

গত ২০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেছিলেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা ছিলেন— বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা অপরিহার্য।

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পরিক্রমা

এই রায়ের পথ প্রশস্ত হয়েছে কয়েক মাসের টানা শুনানির মাধ্যমে:

  • রিভিউ আবেদন: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২৭ আগস্ট সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি প্রথম রিভিউ আবেদন করেন। পরবর্তীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার পৃথক আবেদন জানান।

  • শুনানি: অক্টোবর ও নভেম্বর মাস জুড়ে প্রায় ১০ দিনব্যাপী এই মামলার শুনানি চলে। যেখানে ড. শরীফ ভূঁইয়া, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং অ্যাডভোকেট শিশির মনির আবেদনকারীদের পক্ষে এবং অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।

তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার ইতিহাস

  • অন্তর্ভুক্তি: ১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এটি সংবিধানে যুক্ত হয়।

  • বৈধতা: ২০০৪ সালে হাইকোর্ট একে বৈধ ঘোষণা করলেও ২০১১ সালে আপিল বিভাগের তৎকালীন বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে এটি বাতিল করে দেয়।

  • বাতিল ও পুনঃস্থাপন: ২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ব্যবস্থাটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল। দীর্ঘ ১৫ বছর পর ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রেক্ষাপটে সর্বোচ্চ আদালত আগের রায় পুনর্বিবেচনা করে পুনরায় এই ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনলেন।

ভবিষ্যৎ প্রভাব

এই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ফলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনসমূহ একটি নিরপেক্ষ ও অরাজনৈতিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠানের আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হলো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রাখবে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর