নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা দীর্ঘ দেড় বছর পর আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই অধিবেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ হবে এই অধিবেশনে।
আজকের অধিবেশনে প্রধান আলোচনার বিষয় ‘জুলাই সনদ’। তবে এটি বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারি দল বিএনপি এবং বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে মতভেদ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে:
বিএনপির অবস্থান: প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (আপত্তি) সহকারে সনদটি বাস্তবায়নের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বিরোধী দলের অবস্থান: জামায়াত ও এনসিপি ‘জুলাই সনদ’-এর হুবহু ও পূর্ণাঙ্গ (প্যাকেজ আকারে) বাস্তবায়ন চায়।
বিরোধের বিষয়: তত্ত্বাবধায়ক সরকার কাঠামো, উচ্চকক্ষ গঠন এবং সাংবিধানিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
দীর্ঘদিন পর স্পিকারের পদটি শূন্য থাকায় এবারের অধিবেশন শুরুতে কিছুটা ভিন্নতা থাকছে:
সভাপতিত্ব: সংসদ নেতা তারেক রহমান স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে একজন জ্যেষ্ঠ সদস্যকে অধিবেশন পরিচালনার আহ্বান জানাবেন।
নির্বাচন: তাঁর সভাপতিত্বে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন।
শপথ: নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদ ভবনেই রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন তাঁদের শপথ পাঠ করাবেন। উল্লেখ্য, বিএনপি ডেপুটি স্পিকারের পদটি বিরোধী দল জামায়াতকে দেওয়ার প্রস্তাব করলেও জামায়াত একে 'খণ্ডিত' কোনো পদ হিসেবে নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেখছে।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন।
শোক প্রস্তাব উত্থাপন ও কিছুক্ষণ মুলতবি।
রাষ্ট্রপতির ভাষণ: সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন।
অধ্যাদেশ উত্থাপন: আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে পেশ করবেন। এগুলো যাচাইয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে।
রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনকে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দিয়ে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি তাঁর ভাষণ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভাষণের সময় বিরোধীদলীয় সদস্যরা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করে লবিতে অবস্থান করবেন বলে জানা গেছে।
সরকার ও বিরোধী দল: ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টি আসন নিয়ে সরকার গঠন করেছে। জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দল।
নতুন মুখ: এবারের সংসদের ৭৬ শতাংশ সদস্যই নতুন। তাঁদের প্রশিক্ষণের জন্য সংসদ সচিবালয় ও দলগুলো পৃথক ব্যবস্থা নিয়েছে।
অনুপস্থিতি: আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় তৃতীয়বারের মতো দলটিকে ছাড়াই সংসদ বসছে। এছাড়া আইনি জটিলতায় চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনের ফলাফল স্থগিত থাকায় দুই প্রার্থী অংশ নিতে পারছেন না।

বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা দীর্ঘ দেড় বছর পর আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই অধিবেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ হবে এই অধিবেশনে।
আজকের অধিবেশনে প্রধান আলোচনার বিষয় ‘জুলাই সনদ’। তবে এটি বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারি দল বিএনপি এবং বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে মতভেদ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে:
বিএনপির অবস্থান: প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (আপত্তি) সহকারে সনদটি বাস্তবায়নের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বিরোধী দলের অবস্থান: জামায়াত ও এনসিপি ‘জুলাই সনদ’-এর হুবহু ও পূর্ণাঙ্গ (প্যাকেজ আকারে) বাস্তবায়ন চায়।
বিরোধের বিষয়: তত্ত্বাবধায়ক সরকার কাঠামো, উচ্চকক্ষ গঠন এবং সাংবিধানিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
দীর্ঘদিন পর স্পিকারের পদটি শূন্য থাকায় এবারের অধিবেশন শুরুতে কিছুটা ভিন্নতা থাকছে:
সভাপতিত্ব: সংসদ নেতা তারেক রহমান স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে একজন জ্যেষ্ঠ সদস্যকে অধিবেশন পরিচালনার আহ্বান জানাবেন।
নির্বাচন: তাঁর সভাপতিত্বে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন।
শপথ: নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদ ভবনেই রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন তাঁদের শপথ পাঠ করাবেন। উল্লেখ্য, বিএনপি ডেপুটি স্পিকারের পদটি বিরোধী দল জামায়াতকে দেওয়ার প্রস্তাব করলেও জামায়াত একে 'খণ্ডিত' কোনো পদ হিসেবে নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেখছে।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন।
শোক প্রস্তাব উত্থাপন ও কিছুক্ষণ মুলতবি।
রাষ্ট্রপতির ভাষণ: সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন।
অধ্যাদেশ উত্থাপন: আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে পেশ করবেন। এগুলো যাচাইয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে।
রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনকে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দিয়ে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি তাঁর ভাষণ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভাষণের সময় বিরোধীদলীয় সদস্যরা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করে লবিতে অবস্থান করবেন বলে জানা গেছে।
সরকার ও বিরোধী দল: ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টি আসন নিয়ে সরকার গঠন করেছে। জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দল।
নতুন মুখ: এবারের সংসদের ৭৬ শতাংশ সদস্যই নতুন। তাঁদের প্রশিক্ষণের জন্য সংসদ সচিবালয় ও দলগুলো পৃথক ব্যবস্থা নিয়েছে।
অনুপস্থিতি: আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় তৃতীয়বারের মতো দলটিকে ছাড়াই সংসদ বসছে। এছাড়া আইনি জটিলতায় চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনের ফলাফল স্থগিত থাকায় দুই প্রার্থী অংশ নিতে পারছেন না।

আপনার মতামত লিখুন