দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬

লেবাননে বেআইনিভাবে সাদা ফসফরাস ব্যবহার করেছে ইসরায়েল: Human Rights Watch

লেবাননে বেআইনিভাবে সাদা ফসফরাস ব্যবহার করেছে ইসরায়েল: Human Rights Watch

রাষ্ট্রপতি: দেশের সমৃদ্ধিতে নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ অপরিহার্য

মাধবদীতে কিশোরী আমেনাকে ঘিরে পৈশাচিকতা: সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর সৎ বাবার হাতে নির্মম হত্যা, গ্রেপ্তার ৯

​বাংলাদেশ-ভারত: এক উজ্জ্বল ও প্রতিশ্রুতিশীল ভবিষ্যতের অভিমুখে

"বিস্ফোরণের কবলে দুবাই বিমানবন্দর, অচল হয়ে পড়েছে কার্যক্রম"

সতর্কবার্তা: ইরান যেন ‘ভুল হিসাব’ না করে—সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী

"সারাদেশে বৈরী আবহাওয়া: নৌযান চলাচল নিয়ে যা জানালো আবহাওয়া অধিদপ্তর।"

যুদ্ধের নতুন মোড়: কোন দিকে যাচ্ছে সংঘাত?

লেবাননে বেআইনিভাবে সাদা ফসফরাস ব্যবহার করেছে ইসরায়েল: Human Rights Watch

লেবাননে বেআইনিভাবে সাদা ফসফরাস ব্যবহার করেছে ইসরায়েল: Human Rights Watch

লেবাননের আবাসিক এলাকায় ইসরায়েলের সাদা ফসফরাস ব্যবহার, আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা Human Rights Watch (এইচআরডব্লিউ) অভিযোগ করেছে, দক্ষিণ লেবাননের একটি আবাসিক এলাকায় হামলার সময় ইসরায়েলি বাহিনী সাদা ফসফরাস ব্যবহার করেছে, যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। সোমবার প্রকাশিত সংস্থাটির এক নতুন প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৩ মার্চ দক্ষিণ লেবাননের Yohmor এলাকায় একটি আবাসিক এলাকায় সাদা ফসফরাস নিক্ষেপ করা হয়। এই ঘটনায় অন্তত দুটি বাড়িতে আগুন ধরে যেতে দেখা গেছে। ঘটনাটির প্রমাণ হিসেবে সাতটি ছবি যাচাই করেছে এইচআরডব্লিউ। ছবিগুলোতে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সাদা ফসফরাসের গোলা ছোড়া হচ্ছে এবং এর ফলে আশপাশের বাড়িঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ছে।

এইচআরডব্লিউর লেবাননবিষয়ক গবেষক Ramzi Kaiss বলেন, “ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আবাসিক এলাকায় সাদা ফসফরাস ব্যবহার করেছে, যা অবৈধ এবং অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের ফলে সাধারণ মানুষ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।”

সাদা ফসফরাস এমন একটি রাসায়নিক পদার্থ, যা বাতাসের অক্সিজেনের সংস্পর্শে এলেই দ্রুত জ্বলে ওঠে এবং তীব্র আগুন সৃষ্টি করে। এর ফলে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি এবং আশপাশের বিভিন্ন বস্তুতে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে। সামরিক ক্ষেত্রে ধোঁয়া তৈরি বা আলোক সংকেত দেওয়ার কাজে কখনও কখনও এটি ব্যবহার করা হলেও জনবহুল এলাকায় এর ব্যবহার অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী সীমাবদ্ধ।

এইচআরডব্লিউ বলেছে, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সাদা ফসফরাস নিক্ষেপ করা অযৌক্তিক ও অবৈধ। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যেকোনো সামরিক অভিযানে বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সম্ভাব্য সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু ইয়োহমোরে যে হামলা হয়েছে, তা এই নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করছে সংস্থাটি।

সংস্থাটি আরও জানায়, ৩ মার্চ সকালে অনলাইনে লেবাননের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ছবির সত্যতা যাচাই ও অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই ছবিতে দেখা যায়, আবাসিক এলাকার ওপর সাদা ফসফরাস নিক্ষেপ করা হচ্ছে।

এছাড়া ইয়োহমোরের ইসলামিক হেলথ কমিটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা দলের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত আরও কিছু ছবিও বিশ্লেষণ করেছে এইচআরডব্লিউ। সেসব ছবিতে দেখা গেছে, উদ্ধারকর্মীরা একটি আবাসিক ভবনের ছাদ এবং একটি গাড়িতে লাগা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন। এসব দৃশ্য থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, হামলার ফলে বেসামরিক স্থাপনায় আগুন ধরে যায় এবং এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

মানবাধিকার সংস্থাটি বলছে, এ ধরনের অস্ত্র জনবহুল এলাকায় ব্যবহার করা হলে তা সাধারণ মানুষের জীবন, ঘরবাড়ি ও জীবিকাকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। তাই এ ঘটনার স্বাধীন তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে Human Rights Watch

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬


লেবাননে বেআইনিভাবে সাদা ফসফরাস ব্যবহার করেছে ইসরায়েল: Human Rights Watch

প্রকাশের তারিখ : ০৯ মার্চ ২০২৬

featured Image

লেবাননের আবাসিক এলাকায় ইসরায়েলের সাদা ফসফরাস ব্যবহার, আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা Human Rights Watch (এইচআরডব্লিউ) অভিযোগ করেছে, দক্ষিণ লেবাননের একটি আবাসিক এলাকায় হামলার সময় ইসরায়েলি বাহিনী সাদা ফসফরাস ব্যবহার করেছে, যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। সোমবার প্রকাশিত সংস্থাটির এক নতুন প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৩ মার্চ দক্ষিণ লেবাননের Yohmor এলাকায় একটি আবাসিক এলাকায় সাদা ফসফরাস নিক্ষেপ করা হয়। এই ঘটনায় অন্তত দুটি বাড়িতে আগুন ধরে যেতে দেখা গেছে। ঘটনাটির প্রমাণ হিসেবে সাতটি ছবি যাচাই করেছে এইচআরডব্লিউ। ছবিগুলোতে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সাদা ফসফরাসের গোলা ছোড়া হচ্ছে এবং এর ফলে আশপাশের বাড়িঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ছে।

এইচআরডব্লিউর লেবাননবিষয়ক গবেষক Ramzi Kaiss বলেন, “ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আবাসিক এলাকায় সাদা ফসফরাস ব্যবহার করেছে, যা অবৈধ এবং অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের ফলে সাধারণ মানুষ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।”

সাদা ফসফরাস এমন একটি রাসায়নিক পদার্থ, যা বাতাসের অক্সিজেনের সংস্পর্শে এলেই দ্রুত জ্বলে ওঠে এবং তীব্র আগুন সৃষ্টি করে। এর ফলে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি এবং আশপাশের বিভিন্ন বস্তুতে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে। সামরিক ক্ষেত্রে ধোঁয়া তৈরি বা আলোক সংকেত দেওয়ার কাজে কখনও কখনও এটি ব্যবহার করা হলেও জনবহুল এলাকায় এর ব্যবহার অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী সীমাবদ্ধ।

এইচআরডব্লিউ বলেছে, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সাদা ফসফরাস নিক্ষেপ করা অযৌক্তিক ও অবৈধ। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যেকোনো সামরিক অভিযানে বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সম্ভাব্য সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু ইয়োহমোরে যে হামলা হয়েছে, তা এই নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করছে সংস্থাটি।

সংস্থাটি আরও জানায়, ৩ মার্চ সকালে অনলাইনে লেবাননের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ছবির সত্যতা যাচাই ও অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই ছবিতে দেখা যায়, আবাসিক এলাকার ওপর সাদা ফসফরাস নিক্ষেপ করা হচ্ছে।

এছাড়া ইয়োহমোরের ইসলামিক হেলথ কমিটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা দলের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত আরও কিছু ছবিও বিশ্লেষণ করেছে এইচআরডব্লিউ। সেসব ছবিতে দেখা গেছে, উদ্ধারকর্মীরা একটি আবাসিক ভবনের ছাদ এবং একটি গাড়িতে লাগা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন। এসব দৃশ্য থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, হামলার ফলে বেসামরিক স্থাপনায় আগুন ধরে যায় এবং এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

মানবাধিকার সংস্থাটি বলছে, এ ধরনের অস্ত্র জনবহুল এলাকায় ব্যবহার করা হলে তা সাধারণ মানুষের জীবন, ঘরবাড়ি ও জীবিকাকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। তাই এ ঘটনার স্বাধীন তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে Human Rights Watch


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর