দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : রোববার, ০৮ মার্চ ২০২৬

মাধবদীতে কিশোরী আমেনাকে ঘিরে পৈশাচিকতা: সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর সৎ বাবার হাতে নির্মম হত্যা, গ্রেপ্তার ৯

মাধবদীতে কিশোরী আমেনাকে ঘিরে পৈশাচিকতা: সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর সৎ বাবার হাতে নির্মম হত্যা, গ্রেপ্তার ৯

​বাংলাদেশ-ভারত: এক উজ্জ্বল ও প্রতিশ্রুতিশীল ভবিষ্যতের অভিমুখে

"বিস্ফোরণের কবলে দুবাই বিমানবন্দর, অচল হয়ে পড়েছে কার্যক্রম"

সতর্কবার্তা: ইরান যেন ‘ভুল হিসাব’ না করে—সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী

"সারাদেশে বৈরী আবহাওয়া: নৌযান চলাচল নিয়ে যা জানালো আবহাওয়া অধিদপ্তর।"

যুদ্ধের নতুন মোড়: কোন দিকে যাচ্ছে সংঘাত?

​ইরানে হামলার পর এবার দীর্ঘ যুদ্ধের বার্তা দিল যুক্তরাষ্ট্র।

শোক বইয়ে স্বাক্ষর: খামেনির প্রতি ইরান দূতাবাসে গোলাম পরওয়ারের সম্মান প্রদর্শন।

মাধবদীতে কিশোরী আমেনাকে ঘিরে পৈশাচিকতা: সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর সৎ বাবার হাতে নির্মম হত্যা, গ্রেপ্তার ৯

মাধবদীতে কিশোরী আমেনাকে ঘিরে পৈশাচিকতা: সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর সৎ বাবার হাতে নির্মম হত্যা, গ্রেপ্তার ৯

নরসিংদীর মাধবদীতে কিশোরী আমেনাকে ঘিরে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে একের পর এক লোমহর্ষক তথ্য, যা পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। কিশোরীকে বিভিন্ন সময়ে শারীরিক নির্যাতনের শিকার করার পর শেষ পর্যন্ত পরিকল্পিতভাবে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত হিসেবে সামনে এসেছে তারই সৎ বাবা আশরাফ আলীর নাম।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সৎ বাবা, প্রেমিক এবং সংঘবদ্ধ ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক এই তথ্য জানান।


পুলিশ জানায়, তদন্তে উঠে এসেছে কিশোরী আমেনার ওপর দীর্ঘদিন ধরে চলা মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা। স্থানীয় যুবক নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮) কিশোরীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে।

কিন্তু ঘটনার ভয়াবহতা আরও বাড়ে যখন পুলিশ জানতে পারে, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন আগে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে হযরত আলীর বাড়িতে কিশোরীকে নিয়ে গিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। ওই ঘটনায় জড়িত ছিল হযরত আলী, এবাদুল, জামান ও গাফফারসহ আরও কয়েকজন।

পুলিশ বলছে, এই ঘটনার পর থেকেই কিশোরীর জীবন আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে এবং এক পর্যায়ে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।


তদন্তে জানা গেছে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে সৎ বাবা আশরাফ আলী (৪৫) পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী কিশোরীকে বাড়ি থেকে বের করে। তিনি তাকে তার এক সহকর্মী সুমনের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাইরে নিয়ে যান।

পথে নির্জন এলাকায় পৌঁছে তিনি কিশোরীর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে নির্মমভাবে হত্যা করেন। হত্যার পর ঘটনাটি অন্যভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয় যাতে আসল ঘটনা আড়াল করা যায়।


ঘটনার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ আশরাফ আলীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। পরে তিনি বিচারকের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেন, সৎ মেয়ের বিভিন্ন তথাকথিত ‘অসামাজিক কর্মকাণ্ড’ নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিরক্ত ছিলেন। এ কারণে সমাজে নিজেকে অপমানিত ও হেয় প্রতিপন্ন মনে করতেন। সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেন বলে স্বীকার করেন।


পুলিশ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত এই ঘটনায় মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে—

  • সৎ বাবা আশরাফ আলী

  • প্রেমিক নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা

  • সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে হযরত আলী

  • এবাদুল

  • জামান

  • গাফফারসহ আরও কয়েকজন

মূল অভিযুক্ত আশরাফ আলী শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী থানার মোয়াকুড়া গ্রামের কুব্বাত আলীর ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কিশোরীর ওপর সংঘটিত এই বর্বর নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড সমাজের জন্য ভয়াবহ বার্তা বহন করে। তারা জড়িতদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ সুপার বলেন,
“এই মামলাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হয়েছে। জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং বাকিদের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে। এমন জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ০৮ মার্চ ২০২৬


মাধবদীতে কিশোরী আমেনাকে ঘিরে পৈশাচিকতা: সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর সৎ বাবার হাতে নির্মম হত্যা, গ্রেপ্তার ৯

প্রকাশের তারিখ : ০৮ মার্চ ২০২৬

featured Image

নরসিংদীর মাধবদীতে কিশোরী আমেনাকে ঘিরে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে একের পর এক লোমহর্ষক তথ্য, যা পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। কিশোরীকে বিভিন্ন সময়ে শারীরিক নির্যাতনের শিকার করার পর শেষ পর্যন্ত পরিকল্পিতভাবে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত হিসেবে সামনে এসেছে তারই সৎ বাবা আশরাফ আলীর নাম।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সৎ বাবা, প্রেমিক এবং সংঘবদ্ধ ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক এই তথ্য জানান।


পুলিশ জানায়, তদন্তে উঠে এসেছে কিশোরী আমেনার ওপর দীর্ঘদিন ধরে চলা মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা। স্থানীয় যুবক নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮) কিশোরীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে।

কিন্তু ঘটনার ভয়াবহতা আরও বাড়ে যখন পুলিশ জানতে পারে, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন আগে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে হযরত আলীর বাড়িতে কিশোরীকে নিয়ে গিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। ওই ঘটনায় জড়িত ছিল হযরত আলী, এবাদুল, জামান ও গাফফারসহ আরও কয়েকজন।

পুলিশ বলছে, এই ঘটনার পর থেকেই কিশোরীর জীবন আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে এবং এক পর্যায়ে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।


তদন্তে জানা গেছে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে সৎ বাবা আশরাফ আলী (৪৫) পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী কিশোরীকে বাড়ি থেকে বের করে। তিনি তাকে তার এক সহকর্মী সুমনের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাইরে নিয়ে যান।

পথে নির্জন এলাকায় পৌঁছে তিনি কিশোরীর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে নির্মমভাবে হত্যা করেন। হত্যার পর ঘটনাটি অন্যভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয় যাতে আসল ঘটনা আড়াল করা যায়।


ঘটনার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ আশরাফ আলীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। পরে তিনি বিচারকের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেন, সৎ মেয়ের বিভিন্ন তথাকথিত ‘অসামাজিক কর্মকাণ্ড’ নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিরক্ত ছিলেন। এ কারণে সমাজে নিজেকে অপমানিত ও হেয় প্রতিপন্ন মনে করতেন। সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেন বলে স্বীকার করেন।


পুলিশ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত এই ঘটনায় মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে—

  • সৎ বাবা আশরাফ আলী

  • প্রেমিক নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা

  • সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে হযরত আলী

  • এবাদুল

  • জামান

  • গাফফারসহ আরও কয়েকজন

মূল অভিযুক্ত আশরাফ আলী শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী থানার মোয়াকুড়া গ্রামের কুব্বাত আলীর ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কিশোরীর ওপর সংঘটিত এই বর্বর নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড সমাজের জন্য ভয়াবহ বার্তা বহন করে। তারা জড়িতদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ সুপার বলেন,
“এই মামলাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হয়েছে। জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং বাকিদের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে। এমন জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর