দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

অর্থের ঝুলি খুলল যুক্তরাষ্ট্র: অনুদান নাকি প্রভাব বিস্তারের কৌশল?

অর্থের ঝুলি খুলল যুক্তরাষ্ট্র: অনুদান নাকি প্রভাব বিস্তারের কৌশল?

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি বার্তা

ভারতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা: এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণ হারালেন সকল আরোহী

মেগা প্রকল্পে ব্যয়ের লাগামহীন বৃদ্ধি, দুই মেট্রোরেলে খরচ দ্বিগুণেরও বেশি

সীমান্তে সংঘর্ষ: আফগানিস্তানে পাকিস্তানি বাহিনীর আকস্মিক হামলার অভিযোগ

আশকোনায় বোমা উদ্ধার: দক্ষিণখান থানার তৎপরতায় রক্ষা পেল হাজারো প্রাণ

শহীদ দিবসের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি–প্রধানমন্ত্রী–বিরোধী নেতার শ্রদ্ধা নিবেদন

দক্ষিণ এশিয়া ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে তারেক রহমানের সম্ভাব্য প্রভাব ও গুরুত্ব

অর্থের ঝুলি খুলল যুক্তরাষ্ট্র: অনুদান নাকি প্রভাব বিস্তারের কৌশল?

অর্থের ঝুলি খুলল যুক্তরাষ্ট্র: অনুদান নাকি প্রভাব বিস্তারের কৌশল?

আপনার সরবরাহকৃত তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিস্তারিত নিউজ রিপোর্ট নিচে সাজিয়ে দেওয়া হলো: অপারেশন 'এপিক ফিউরি': ইরানে মার্কিন হামলা ও যুদ্ধের ব্যয় নিয়ে ঘনীভূত হচ্ছে প্রআন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৪ মার্চ, ২০২৬ গত শনিবার থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের টানাপড়েন এক ভয়াবহ সামরিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের ভেতরে একাধিক কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করার মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটন সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই সামরিক অভিযান চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

অপারেশন এপিক ফিউরি ও ট্রাম্পের ঘোষণা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ এক ভিডিও বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিশ্চিত করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরে একটি বড় ধরনের অভিযানে অংশ নিয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে 'অপারেশন এপিক ফিউরি'। ট্রাম্পের মতে, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পকে 'মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া'।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানের ভেতরে ১,২৫০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে এবং ১১টি ইরানি জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রথম দফার হামলায় তেহরানে নিজ কম্পাউন্ডে নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ইরানের রেড ক্রিসেন্টের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত দেশটির ১৩০টি স্থানে অন্তত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন।

ব্যয়ের বোঝা: কত খরচ করছে যুক্তরাষ্ট্র? ব্রাউন ইউনিভার্সিটির 'কস্ট অব ওয়ার' প্রকল্পের ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলকে প্রায় ২১.৭ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর বাইরে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক অভিযান পরিচালনায় ব্যয় হয়েছে আরও প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার।

বর্তমান 'অপারেশন এপিক ফিউরি'র ব্যয় নিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন:

  • প্রাথমিক খরচ: হামলার প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার।

  • দৈনিক ব্যয়: শুধুমাত্র দুটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ পরিচালনাতেই দিনে খরচ হচ্ছে ১৩ মিলিয়ন ডলারের বেশি।

  • বিমানের ক্ষয়ক্ষতি: কুয়েতের আকাশে ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’-এ যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে, যা আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়িয়েছে।

অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে দুশ্চিন্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ অর্থ নয়, বরং তাদের উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্রের মজুদ। স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো ক্রিস্টোফার প্রেবল জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ১ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট এই খরচ বহনে সক্ষম হলেও প্যাট্রিয়ট বা এসএম-৬ এর মতো ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।

প্রেবল সতর্ক করে বলেন, "এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিদিন হাজার হাজার তৈরি করা সম্ভব নয়। ইউক্রেন এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য বরাদ্দকৃত অস্ত্র এখানে ব্যবহৃত হলে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে।"

ব্যবহৃত অত্যাধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম এই অভিযানে বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমান, এফ-৩৫ ও এফ-২২ এর মতো সর্বাধুনিক যুদ্ধবিমান ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রথমবারের মতো যুদ্ধে নামানো হয়েছে 'লুকাস ড্রোন'। এছাড়াও টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং থাড (THAAD) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ইরানকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরেছে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী।

এখন দেখার বিষয়, মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি দীর্ঘমেয়াদী এবং ব্যয়বহুল যুদ্ধের বোঝা ওয়াশিংটন কতদিন টানতে পারে এবং এর চূড়ান্ত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিণতি কী হয়।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬


অর্থের ঝুলি খুলল যুক্তরাষ্ট্র: অনুদান নাকি প্রভাব বিস্তারের কৌশল?

প্রকাশের তারিখ : ০৪ মার্চ ২০২৬

featured Image

আপনার সরবরাহকৃত তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিস্তারিত নিউজ রিপোর্ট নিচে সাজিয়ে দেওয়া হলো: অপারেশন 'এপিক ফিউরি': ইরানে মার্কিন হামলা ও যুদ্ধের ব্যয় নিয়ে ঘনীভূত হচ্ছে প্রআন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৪ মার্চ, ২০২৬ গত শনিবার থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের টানাপড়েন এক ভয়াবহ সামরিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের ভেতরে একাধিক কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করার মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটন সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই সামরিক অভিযান চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

অপারেশন এপিক ফিউরি ও ট্রাম্পের ঘোষণা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ এক ভিডিও বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিশ্চিত করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরে একটি বড় ধরনের অভিযানে অংশ নিয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে 'অপারেশন এপিক ফিউরি'। ট্রাম্পের মতে, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পকে 'মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া'।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানের ভেতরে ১,২৫০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে এবং ১১টি ইরানি জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রথম দফার হামলায় তেহরানে নিজ কম্পাউন্ডে নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ইরানের রেড ক্রিসেন্টের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত দেশটির ১৩০টি স্থানে অন্তত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন।

ব্যয়ের বোঝা: কত খরচ করছে যুক্তরাষ্ট্র? ব্রাউন ইউনিভার্সিটির 'কস্ট অব ওয়ার' প্রকল্পের ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলকে প্রায় ২১.৭ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর বাইরে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক অভিযান পরিচালনায় ব্যয় হয়েছে আরও প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার।

বর্তমান 'অপারেশন এপিক ফিউরি'র ব্যয় নিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন:

  • প্রাথমিক খরচ: হামলার প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার।

  • দৈনিক ব্যয়: শুধুমাত্র দুটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ পরিচালনাতেই দিনে খরচ হচ্ছে ১৩ মিলিয়ন ডলারের বেশি।

  • বিমানের ক্ষয়ক্ষতি: কুয়েতের আকাশে ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’-এ যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে, যা আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়িয়েছে।

অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে দুশ্চিন্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ অর্থ নয়, বরং তাদের উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্রের মজুদ। স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো ক্রিস্টোফার প্রেবল জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ১ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট এই খরচ বহনে সক্ষম হলেও প্যাট্রিয়ট বা এসএম-৬ এর মতো ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।

প্রেবল সতর্ক করে বলেন, "এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিদিন হাজার হাজার তৈরি করা সম্ভব নয়। ইউক্রেন এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য বরাদ্দকৃত অস্ত্র এখানে ব্যবহৃত হলে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে।"

ব্যবহৃত অত্যাধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম এই অভিযানে বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমান, এফ-৩৫ ও এফ-২২ এর মতো সর্বাধুনিক যুদ্ধবিমান ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রথমবারের মতো যুদ্ধে নামানো হয়েছে 'লুকাস ড্রোন'। এছাড়াও টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং থাড (THAAD) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ইরানকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরেছে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী।

এখন দেখার বিষয়, মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি দীর্ঘমেয়াদী এবং ব্যয়বহুল যুদ্ধের বোঝা ওয়াশিংটন কতদিন টানতে পারে এবং এর চূড়ান্ত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিণতি কী হয়।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর