বিশেষ প্রতিবেদন | তেহরান ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শৈশব ছিল একদিকে কঠোর শাসন ও দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত, অন্যদিকে জ্ঞান ও সাহিত্যের প্রতি গভীর অনুরাগে পরিপূর্ণ। ১৯৩৯ সালে উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরের এক সাধারণ ধর্মীয় পরিবারে জন্ম নেওয়া এই নেতার জীবনধারা গড়ে উঠেছে অত্যন্ত সাধারণ ও সংগ্রামী পরিবেশে।
আলী খামেনির বয়স যখন মাত্র চার বছর, তখন বড় ভাই মোহাম্মদের হাত ধরে তিনি স্থানীয় একটি মক্তবে যাওয়া শুরু করেন। কিন্তু সেই মক্তবের স্মৃতি তার কাছে খুব একটা সুখকর ছিল না। নিজের স্মৃতিকথায় খামেনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি মক্তবের শিক্ষককে প্রচণ্ড ভয় পেতেন। এর কারণ ছিল ওই শিক্ষকের অমানবিক শাসন। প্রতি শনিবার নিয়ম করে তিনি শিক্ষার্থীদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করাতেন এবং কোনো কারণ ছাড়াই মাথা থেকে পা পর্যন্ত বেত্রাঘাত করতেন। সেই শৈশবে শিক্ষকের ওই কঠোরতাই ছিল খামেনির প্রথম জীবনের বড় এক আতঙ্ক।
খামেনির পরিবার মূলত আজারবাইজানি বংশোদ্ভূত, যারা ইরাক থেকে এসে মাশহাদে বসতি স্থাপন করেছিলেন। তার বাবা সৈয়দ জওয়াদ খামেনি ছিলেন একজন সুপরিচিত শিয়া পণ্ডিত এবং স্থানীয় মসজিদের ইমাম। তবে খামেনির চরিত্র গঠনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ছিল তার মা খাদিজে মির্দামাদীর।
মায়ের সুমধুর কণ্ঠে কুরআন তেলাওয়াত এবং সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী মনোভাব খামেনির ভেতরেও শিল্প-সাহিত্যের বীজ বুনে দেয়। শৈশবে মায়ের কাছেই তার ইসলাম ধর্মের প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয়।
আট ভাই-বোনের সংসারে খামেনি ছিলেন দ্বিতীয়। তার শৈশব কেটেছে চরম অভাবের মধ্যে। দারিদ্র্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি স্মৃতিকথায় বলেন:
"ছোটবেলায় আমাদের অনেক রাত না খেয়েই ঘুমাতে যেতে হতো। মলিন ও পুরোনো পোশাক পরে মাদ্রাসায় যাওয়ার কারণে সহপাঠীরা প্রায়ই আমাকে নিয়ে বিদ্রূপ করত, যা নিয়ে মাঝেমধ্যে ঝগড়াও হতো।"
কৈশোরেই সাহিত্যের প্রতি প্রচণ্ড নেশা তৈরি হয় খামেনির। কোমে উচ্চতর ধর্মীয় শিক্ষায় যোগ দেওয়ার আগেই তিনি প্রায় এক হাজারেরও বেশি উপন্যাস পড়ে শেষ করেছিলেন। তার পছন্দের তালিকায় ছিল বিশ্বখ্যাত লেখক লিও টলস্টয়, ভিক্টর হুগো এবং রোমা রোলার বই। যৌবনে তিনি ‘আমিন’ ছদ্মনামে নিয়মিত কবিতা লিখতেন এবং বিভিন্ন সাহিত্য আসরে যোগ দিতেন।
১৯৫৫ সালে ছাত্র থাকাকালীন কোমের একটি সভায় খামেনির সাথে প্রথম দেখা হয় আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির। সেই পরিচয় ও আদর্শিক যোগাযোগই পরবর্তীকালে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পথ প্রশস্ত করে এবং খামেনির রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ মার্চ ২০২৬
বিশেষ প্রতিবেদন | তেহরান ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শৈশব ছিল একদিকে কঠোর শাসন ও দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত, অন্যদিকে জ্ঞান ও সাহিত্যের প্রতি গভীর অনুরাগে পরিপূর্ণ। ১৯৩৯ সালে উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরের এক সাধারণ ধর্মীয় পরিবারে জন্ম নেওয়া এই নেতার জীবনধারা গড়ে উঠেছে অত্যন্ত সাধারণ ও সংগ্রামী পরিবেশে।
আলী খামেনির বয়স যখন মাত্র চার বছর, তখন বড় ভাই মোহাম্মদের হাত ধরে তিনি স্থানীয় একটি মক্তবে যাওয়া শুরু করেন। কিন্তু সেই মক্তবের স্মৃতি তার কাছে খুব একটা সুখকর ছিল না। নিজের স্মৃতিকথায় খামেনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি মক্তবের শিক্ষককে প্রচণ্ড ভয় পেতেন। এর কারণ ছিল ওই শিক্ষকের অমানবিক শাসন। প্রতি শনিবার নিয়ম করে তিনি শিক্ষার্থীদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করাতেন এবং কোনো কারণ ছাড়াই মাথা থেকে পা পর্যন্ত বেত্রাঘাত করতেন। সেই শৈশবে শিক্ষকের ওই কঠোরতাই ছিল খামেনির প্রথম জীবনের বড় এক আতঙ্ক।
খামেনির পরিবার মূলত আজারবাইজানি বংশোদ্ভূত, যারা ইরাক থেকে এসে মাশহাদে বসতি স্থাপন করেছিলেন। তার বাবা সৈয়দ জওয়াদ খামেনি ছিলেন একজন সুপরিচিত শিয়া পণ্ডিত এবং স্থানীয় মসজিদের ইমাম। তবে খামেনির চরিত্র গঠনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ছিল তার মা খাদিজে মির্দামাদীর।
মায়ের সুমধুর কণ্ঠে কুরআন তেলাওয়াত এবং সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী মনোভাব খামেনির ভেতরেও শিল্প-সাহিত্যের বীজ বুনে দেয়। শৈশবে মায়ের কাছেই তার ইসলাম ধর্মের প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয়।
আট ভাই-বোনের সংসারে খামেনি ছিলেন দ্বিতীয়। তার শৈশব কেটেছে চরম অভাবের মধ্যে। দারিদ্র্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি স্মৃতিকথায় বলেন:
"ছোটবেলায় আমাদের অনেক রাত না খেয়েই ঘুমাতে যেতে হতো। মলিন ও পুরোনো পোশাক পরে মাদ্রাসায় যাওয়ার কারণে সহপাঠীরা প্রায়ই আমাকে নিয়ে বিদ্রূপ করত, যা নিয়ে মাঝেমধ্যে ঝগড়াও হতো।"
কৈশোরেই সাহিত্যের প্রতি প্রচণ্ড নেশা তৈরি হয় খামেনির। কোমে উচ্চতর ধর্মীয় শিক্ষায় যোগ দেওয়ার আগেই তিনি প্রায় এক হাজারেরও বেশি উপন্যাস পড়ে শেষ করেছিলেন। তার পছন্দের তালিকায় ছিল বিশ্বখ্যাত লেখক লিও টলস্টয়, ভিক্টর হুগো এবং রোমা রোলার বই। যৌবনে তিনি ‘আমিন’ ছদ্মনামে নিয়মিত কবিতা লিখতেন এবং বিভিন্ন সাহিত্য আসরে যোগ দিতেন।
১৯৫৫ সালে ছাত্র থাকাকালীন কোমের একটি সভায় খামেনির সাথে প্রথম দেখা হয় আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির। সেই পরিচয় ও আদর্শিক যোগাযোগই পরবর্তীকালে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পথ প্রশস্ত করে এবং খামেনির রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

আপনার মতামত লিখুন