দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

পদ্মা ব্যারেজসহ ৯ প্রকল্পে একনেকের অনুমোদন, ব্যয় প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা

পদ্মা ব্যারেজসহ ৯ প্রকল্পে একনেকের অনুমোদন, ব্যয় প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা

“কলমের শক্তি সত্যের পক্ষে”—সাংবাদিকদের উদ্দেশে মোঃ হাবিবের আবেগঘন বার্তা

মাদকের সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের ‘কোনো ছাড় নয়’, কঠোর বার্তা আইজিপির

লাইসেন্স ছাড়াই খাদ্য পণ্যের মোড়কজাত, নওগাঁয় বিএসটিআই অভিযানে জরিমানা

সিন্ধু জলচুক্তি: শান্তির কূটনীতি, নাকি অসম সমঝোতার দীর্ঘ ছায়া?

মাদকবিরোধী অভিযানে জাতীয় স্বীকৃতি, দেশসেরা তালিকায় শেরপুর জেলা পুলিশ

সিগারেটের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব, সর্বনিম্ন শলাকা ১৭ টাকা করার দাবি

উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন রোডম্যাপ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মশালায় গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় জোর

পদ্মা ব্যারেজসহ ৯ প্রকল্পে একনেকের অনুমোদন, ব্যয় প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা

পদ্মা ব্যারেজসহ ৯ প্রকল্পে একনেকের অনুমোদন, ব্যয় প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা
একনেক সভায় পদ্মা ব্যারেজসহ বড় উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের দৃশ্য। -ছবি: সংগৃহীত

দেশের পানি ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, বিদ্যুৎ, অবকাঠামো ও প্রযুক্তিখাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। বুধবার অনুষ্ঠিত একনেক সভায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পসহ মোট ৯টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৬ হাজার ৬৯৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে ৩৬ হাজার ৪৯০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। বাকি ২০৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা আসবে সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে।

প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান–এর সভাপতিত্বে রাজধানীর মন্ত্রিসভা সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। চলতি অর্থবছরের এটি ছিল ১১তম একনেক সভা এবং বর্তমান সরকারের অধীনে তৃতীয় একনেক বৈঠক।

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পে গুরুত্ব

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হচ্ছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের “পদ্মা ব্যারেজ (প্রথম পর্যায়)” প্রকল্প। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানি সংরক্ষণ, কৃষি উৎপাদন ও নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।


পানি বিশেষজ্ঞদের মতে, পদ্মা অববাহিকায় দীর্ঘদিন ধরে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং বর্ষায় অতিরিক্ত স্রোতের কারণে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। ব্যারেজ নির্মাণের মাধ্যমে সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানো এবং কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে পরিবেশবিদদের একটি অংশের দাবি, বড় ধরনের নদী প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন ও স্থানীয় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

স্বাস্থ্যখাতে নতুন অবকাঠামো

স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে জেলা শহরগুলোতে বিদ্যমান মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রকে ৩০ শয্যার আধুনিক কেন্দ্রে উন্নীত বা পুনর্নির্মাণের প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, জেলা পর্যায়ে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সেবা এখনও অনেক জায়গায় সীমিত। নতুন অবকাঠামো নির্মাণ হলে প্রসূতি সেবা, নবজাতক চিকিৎসা এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য হতে পারে।

গ্রামীণ এলাকার অনেক পরিবার এখনও উন্নত মাতৃসেবা পেতে জেলা শহরে ছুটে আসেন। ফলে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে স্থানীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ কিছুটা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রযুক্তি ও বিদ্যুৎ খাতেও বড় বিনিয়োগ

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের “হাই-টেক সিটি-২” প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনীও অনুমোদিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প ও আইটি খাতের বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই সহায়ক অবকাঠামো উন্নয়নে এই প্রকল্প চালু রয়েছে।

অন্যদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ময়মনসিংহ কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহের জন্য ধনুয়া থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্পের সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্থিতিশীলতা বাড়বে। একই সঙ্গে শিল্প ও আবাসিক খাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

চট্টগ্রাম ও সাভারে অবকাঠামো উন্নয়ন

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে চট্টগ্রাম সিটি আউটার রিং রোড প্রকল্পের পঞ্চম সংশোধনী অনুমোদন পেয়েছে। পতেঙ্গা থেকে সাগরিকা পর্যন্ত এই সড়ক প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের কাজ একাধিকবার সংশোধন ও সময় বাড়ানো হলেও এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রকল্পটি শেষ হলে চট্টগ্রামের যানজট কমানো এবং উপকূলীয় সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ ছাড়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে সাভার সেনানিবাসে সৈনিকদের আবাসন সমস্যা নিরসনে ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।

শিশু পরিবার, সংস্কৃতি ও গ্রন্থাগার প্রকল্প

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সরকারি শিশু পরিবার ও ছোটমনি নিবাস নির্মাণ বা পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী অনুমোদিত হয়েছে। শিশুদের আবাসন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সমাজকল্যাণ সংশ্লিষ্টরা।

একই সঙ্গে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স স্থাপন এবং গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্পের সংশোধনীও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা বলছেন, আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং পাঠাভ্যাস বাড়াতে এসব অবকাঠামো দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

৫০ কোটির নিচে আরও দুই প্রকল্প

একনেক সভায় পরিকল্পনামন্ত্রীর মাধ্যমে ইতোমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের আরও দুটি প্রকল্প সম্পর্কে অবহিত করা হয়। এগুলো হলো—ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প এবং বিমানবাহিনী ঘাঁটি কুর্মিটোলায় বিমানসেনা ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প।

বৈঠকে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন

একনেক সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদসহ মন্ত্রিসভার বিভিন্ন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কী বলছেন বিশ্লেষকরা

অর্থনীতি ও উন্নয়ন বিশ্লেষকদের মতে, বড় আকারের এসব প্রকল্প দেশের অবকাঠামো ও সেবা খাতকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হতে পারে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়ক্ষেপণ, ব্যয় বৃদ্ধি এবং বারবার সংশোধনের সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে।


বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, শুধু প্রকল্প অনুমোদন নয়—সময়সীমার মধ্যে স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ দীর্ঘসূত্রতা বাড়লে জনভোগান্তি ও সরকারি ব্যয় দুটোই বেড়ে যায়।

বিষয় : পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প, ৯ প্রকল্প অনুমোদন, একনেক সভা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬


পদ্মা ব্যারেজসহ ৯ প্রকল্পে একনেকের অনুমোদন, ব্যয় প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬

featured Image

দেশের পানি ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, বিদ্যুৎ, অবকাঠামো ও প্রযুক্তিখাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। বুধবার অনুষ্ঠিত একনেক সভায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পসহ মোট ৯টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৬ হাজার ৬৯৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে ৩৬ হাজার ৪৯০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। বাকি ২০৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা আসবে সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে।

প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান–এর সভাপতিত্বে রাজধানীর মন্ত্রিসভা সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। চলতি অর্থবছরের এটি ছিল ১১তম একনেক সভা এবং বর্তমান সরকারের অধীনে তৃতীয় একনেক বৈঠক।

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পে গুরুত্ব

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হচ্ছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের “পদ্মা ব্যারেজ (প্রথম পর্যায়)” প্রকল্প। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানি সংরক্ষণ, কৃষি উৎপাদন ও নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।


পানি বিশেষজ্ঞদের মতে, পদ্মা অববাহিকায় দীর্ঘদিন ধরে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং বর্ষায় অতিরিক্ত স্রোতের কারণে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। ব্যারেজ নির্মাণের মাধ্যমে সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানো এবং কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে পরিবেশবিদদের একটি অংশের দাবি, বড় ধরনের নদী প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন ও স্থানীয় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

স্বাস্থ্যখাতে নতুন অবকাঠামো

স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে জেলা শহরগুলোতে বিদ্যমান মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রকে ৩০ শয্যার আধুনিক কেন্দ্রে উন্নীত বা পুনর্নির্মাণের প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, জেলা পর্যায়ে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সেবা এখনও অনেক জায়গায় সীমিত। নতুন অবকাঠামো নির্মাণ হলে প্রসূতি সেবা, নবজাতক চিকিৎসা এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য হতে পারে।

গ্রামীণ এলাকার অনেক পরিবার এখনও উন্নত মাতৃসেবা পেতে জেলা শহরে ছুটে আসেন। ফলে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে স্থানীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ কিছুটা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রযুক্তি ও বিদ্যুৎ খাতেও বড় বিনিয়োগ

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের “হাই-টেক সিটি-২” প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনীও অনুমোদিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প ও আইটি খাতের বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই সহায়ক অবকাঠামো উন্নয়নে এই প্রকল্প চালু রয়েছে।

অন্যদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ময়মনসিংহ কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহের জন্য ধনুয়া থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্পের সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্থিতিশীলতা বাড়বে। একই সঙ্গে শিল্প ও আবাসিক খাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

চট্টগ্রাম ও সাভারে অবকাঠামো উন্নয়ন

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে চট্টগ্রাম সিটি আউটার রিং রোড প্রকল্পের পঞ্চম সংশোধনী অনুমোদন পেয়েছে। পতেঙ্গা থেকে সাগরিকা পর্যন্ত এই সড়ক প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের কাজ একাধিকবার সংশোধন ও সময় বাড়ানো হলেও এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রকল্পটি শেষ হলে চট্টগ্রামের যানজট কমানো এবং উপকূলীয় সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ ছাড়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে সাভার সেনানিবাসে সৈনিকদের আবাসন সমস্যা নিরসনে ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।

শিশু পরিবার, সংস্কৃতি ও গ্রন্থাগার প্রকল্প

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সরকারি শিশু পরিবার ও ছোটমনি নিবাস নির্মাণ বা পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী অনুমোদিত হয়েছে। শিশুদের আবাসন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সমাজকল্যাণ সংশ্লিষ্টরা।

একই সঙ্গে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স স্থাপন এবং গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্পের সংশোধনীও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা বলছেন, আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং পাঠাভ্যাস বাড়াতে এসব অবকাঠামো দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

৫০ কোটির নিচে আরও দুই প্রকল্প

একনেক সভায় পরিকল্পনামন্ত্রীর মাধ্যমে ইতোমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের আরও দুটি প্রকল্প সম্পর্কে অবহিত করা হয়। এগুলো হলো—ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প এবং বিমানবাহিনী ঘাঁটি কুর্মিটোলায় বিমানসেনা ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প।

বৈঠকে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন

একনেক সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদসহ মন্ত্রিসভার বিভিন্ন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কী বলছেন বিশ্লেষকরা

অর্থনীতি ও উন্নয়ন বিশ্লেষকদের মতে, বড় আকারের এসব প্রকল্প দেশের অবকাঠামো ও সেবা খাতকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হতে পারে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়ক্ষেপণ, ব্যয় বৃদ্ধি এবং বারবার সংশোধনের সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে।


বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, শুধু প্রকল্প অনুমোদন নয়—সময়সীমার মধ্যে স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ দীর্ঘসূত্রতা বাড়লে জনভোগান্তি ও সরকারি ব্যয় দুটোই বেড়ে যায়।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর