দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬

জমি বিরোধে রণক্ষেত্র জাউয়াবাজার, সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে আহত এমপিসহ অর্ধশতাধিক

জমি বিরোধে রণক্ষেত্র জাউয়াবাজার, সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে আহত এমপিসহ অর্ধশতাধিক".

উখিয়ায় ভোররাতের অভিযানে আড়াই লাখ ইয়াবা উদ্ধার, পালিয়ে গেল কারবারিরা

কলমাকান্দায় ৬ বছরের শিশুর অর্ধ মরদেহ উদ্ধার

দেশে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে — নওগাঁর অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল

পতিসরে রবীন্দ্রজয়ন্তীর উৎসব: কবিগুরুর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীতে সাজছে আত্রাই

টেকনাফে র‌্যাবের অভিযানে ১৩ হাজার ৮০০ ইয়াবাসহ যুবক আটক, জব্দ মোটরসাইকেল

নারিকেল গাছের ফল তোলাকে কেন্দ্র করে লালমোহনে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত ১, আটক ৪

শেরপুর সীমান্তে বন ও পাহাড় রক্ষায় বিক্ষোভ: ‘বনখেকোদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা

কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত পতিসরে বইছে উৎসবের আমেজ, গ্রামীণ মেলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে মুখর পুরো জনপদ

পতিসরে রবীন্দ্রজয়ন্তীর উৎসব: কবিগুরুর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীতে সাজছে আত্রাই

পতিসরে রবীন্দ্রজয়ন্তীর উৎসব: কবিগুরুর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীতে সাজছে আত্রাই

আজ ২৫ বৈশাখ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী। এ উপলক্ষে নওগাঁর পতিসর কাচারিবাড়ি ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। কবিগুরুর স্মৃতিধন্য এই জনপদে রাষ্ট্রীয় আয়োজনে উদযাপিত হচ্ছে রবীন্দ্রজয়ন্তী। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং নওগাঁ জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

সকাল থেকেই পতিসরে ভিড় করছেন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সাহিত্যপ্রেমী, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা। নাগর নদীর পাড়জুড়ে যেন ফিরে এসেছে রবীন্দ্রনাথের সেই সময়ের আবহ।


কবিগুরুর স্মৃতিতে জেগে উঠেছে পতিসর

আত্রাই উপজেলা-এর নাগর নদীর তীরে অবস্থিত পতিসর ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জমিদারির অন্যতম কেন্দ্র। ১৮৯১ সালে জমিদারি দেখভালের দায়িত্ব নিয়ে তিনি প্রথম এখানে আসেন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে এই অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

ইতিহাসবিদদের মতে, পতিসরের নিসর্গ, নদী আর গ্রামীণ জীবন কবিগুরুর সাহিত্যচর্চায় গভীর প্রভাব ফেলেছিল। এখানকার কুঠিবাড়িতে অবস্থানকালে তিনি অসংখ্য কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ ও চিঠি রচনা করেন। নাগর নদীতে ভাসমান ‘পদ্মা বোট’-এ বসেই তিনি লিখেছিলেন বহু কালজয়ী সৃষ্টি।

বিশেষ করে ‘ছিন্নপত্র’-এর অনেক চিঠি এবং ‘বিদায় অভিশাপ’ কাব্যনাট্যের অংশবিশেষ এই পতিসরেই রচিত হয়েছিল বলে জানা যায়।



সাহিত্য ছাড়াও কৃষক ও শিক্ষার উন্নয়নে কাজ

স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, রবীন্দ্রনাথ কেবল সাহিত্যিক হিসেবেই নয়, সমাজসংস্কারক হিসেবেও পতিসরের মানুষের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

নোবেল পুরস্কার থেকে পাওয়া অর্থের একটি বড় অংশ তিনি কৃষি উন্নয়ন ও কৃষকদের সহায়তায় ব্যয় করেছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, পতিসরে তিনি কৃষি ঋণ সহায়তার যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, সেটিই পরে আধুনিক কৃষি ব্যাংক ধারণার ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

এছাড়া পতিসর ও কালিগ্রামে তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছিলেন, যা এখনও শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


রাষ্ট্রীয় আয়োজনে থাকছেন মন্ত্রী ও বিশিষ্টজনরা

এবারের রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনা ও গ্রামীণ মেলা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমপির। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মো. মিজানুর রহমান মিনু এমপি, আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি এবং রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দলু এমপিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা।

প্রধান আলোচক হিসেবে থাকবেন ড. মো. হারুন অর রশীদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম বজলুর রশীদ।


গ্রামীণ মেলায় প্রাণ ফিরেছে জনপদে

গতকাল সরেজমিনে দেখা গেছে, অতিথিদের স্বাগত জানাতে সাজানো হয়েছে ‘দেবেন্দ্র মঞ্চ’। পুরো পতিসরজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

এলাকার বাড়িঘরগুলোতে আত্মীয়-স্বজনদের আনাগোনা বেড়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে উৎসবের আমেজ স্পষ্ট। বিভিন্ন ধরনের পণ্য, হস্তশিল্প ও খাবারের দোকান নিয়ে বসেছে গ্রামীণ মেলা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ১৯৯৩ সালে জাতীয় পর্যায়ে প্রথমবার রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপন শুরু হওয়ার পর থেকে এই উৎসব ধীরে ধীরে বৃহৎ সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।


স্থানীয়দের চোখে রবীন্দ্রনাথের পতিসর

মনিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সম্রাট হোসেন বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই অঞ্চলে কৃষি ও সমবায়ের যে ধারণা চালু করেছিলেন, তা এখনো মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে আছে। তাই প্রতি বছর মানুষ অধীর আগ্রহে এই দিনটির অপেক্ষা করে।”

রবীন্দ্র গবেষক এসএম ফারুক বখত স্মৃতিচারণ করে বলেন, “রাষ্ট্রীয়ভাবে রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপনের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্ম কবিগুরুর অবদান সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছে। পতিসরের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সম্পর্ক ছিল আত্মিক।”


নিরাপত্তা ও প্রস্তুতিতে প্রশাসনের তৎপরতা

মো. মনিরুজ্জামান জানান, জন্মজয়ন্তী ঘিরে কাচারিবাড়ির প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সাজসজ্জার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

তিনি বলেন, “পতিসরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ধরে রেখে একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল আয়োজন নিশ্চিত করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন একযোগে কাজ করছে।”

স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলাম রেজু বলেন, “রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি বহন করা এই জনপদ শুধু নওগাঁর নয়, পুরো দেশের গর্ব। এবারের আয়োজন পতিসরকে নতুনভাবে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরবে।”



সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে ঘিরে নতুন প্রজন্মের আগ্রহ

বিশ্লেষকদের মতে, পতিসরের মতো ঐতিহাসিক স্থানগুলো শুধু সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ নয়, বরং নতুন প্রজন্মকে সাহিত্য, ইতিহাস ও মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য ও সমাজভাবনা এখনও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তাই জন্মজয়ন্তী ঘিরে এমন আয়োজন তরুণদের মধ্যে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংস্কৃতিকর্মীরা।


উপসংহার

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীতে আজ পতিসর যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। কবিগুরুর স্মৃতি, সাহিত্য ও মানবিক দর্শনকে ঘিরে আত্রাইয়ের এই আয়োজন শুধু একটি উৎসব নয়—এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি ও বাঙালির আত্মপরিচয়ের এক আবেগঘন মিলনমেলা।

দিনব্যাপী নানা আয়োজনে মুখর এই জনপদে এখন একটাই প্রত্যাশা—রবীন্দ্রচর্চা ও পতিসরের ঐতিহ্য আগামী প্রজন্মের মাঝেও আরও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে পড়ুক।

বিষয় : রবীন্দ্রজয়ন্তী ২০২৬ পতিসর উৎসব আত্রাই রবীন্দ্রনাথ নওগাঁ সাংস্কৃতিক আয়োজন

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬


পতিসরে রবীন্দ্রজয়ন্তীর উৎসব: কবিগুরুর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীতে সাজছে আত্রাই

প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬

featured Image

আজ ২৫ বৈশাখ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী। এ উপলক্ষে নওগাঁর পতিসর কাচারিবাড়ি ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। কবিগুরুর স্মৃতিধন্য এই জনপদে রাষ্ট্রীয় আয়োজনে উদযাপিত হচ্ছে রবীন্দ্রজয়ন্তী। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং নওগাঁ জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

সকাল থেকেই পতিসরে ভিড় করছেন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সাহিত্যপ্রেমী, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা। নাগর নদীর পাড়জুড়ে যেন ফিরে এসেছে রবীন্দ্রনাথের সেই সময়ের আবহ।


কবিগুরুর স্মৃতিতে জেগে উঠেছে পতিসর

আত্রাই উপজেলা-এর নাগর নদীর তীরে অবস্থিত পতিসর ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জমিদারির অন্যতম কেন্দ্র। ১৮৯১ সালে জমিদারি দেখভালের দায়িত্ব নিয়ে তিনি প্রথম এখানে আসেন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে এই অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

ইতিহাসবিদদের মতে, পতিসরের নিসর্গ, নদী আর গ্রামীণ জীবন কবিগুরুর সাহিত্যচর্চায় গভীর প্রভাব ফেলেছিল। এখানকার কুঠিবাড়িতে অবস্থানকালে তিনি অসংখ্য কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ ও চিঠি রচনা করেন। নাগর নদীতে ভাসমান ‘পদ্মা বোট’-এ বসেই তিনি লিখেছিলেন বহু কালজয়ী সৃষ্টি।

বিশেষ করে ‘ছিন্নপত্র’-এর অনেক চিঠি এবং ‘বিদায় অভিশাপ’ কাব্যনাট্যের অংশবিশেষ এই পতিসরেই রচিত হয়েছিল বলে জানা যায়।



সাহিত্য ছাড়াও কৃষক ও শিক্ষার উন্নয়নে কাজ

স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, রবীন্দ্রনাথ কেবল সাহিত্যিক হিসেবেই নয়, সমাজসংস্কারক হিসেবেও পতিসরের মানুষের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

নোবেল পুরস্কার থেকে পাওয়া অর্থের একটি বড় অংশ তিনি কৃষি উন্নয়ন ও কৃষকদের সহায়তায় ব্যয় করেছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, পতিসরে তিনি কৃষি ঋণ সহায়তার যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, সেটিই পরে আধুনিক কৃষি ব্যাংক ধারণার ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

এছাড়া পতিসর ও কালিগ্রামে তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছিলেন, যা এখনও শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


রাষ্ট্রীয় আয়োজনে থাকছেন মন্ত্রী ও বিশিষ্টজনরা

এবারের রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনা ও গ্রামীণ মেলা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমপির। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মো. মিজানুর রহমান মিনু এমপি, আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি এবং রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দলু এমপিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা।

প্রধান আলোচক হিসেবে থাকবেন ড. মো. হারুন অর রশীদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম বজলুর রশীদ।


গ্রামীণ মেলায় প্রাণ ফিরেছে জনপদে

গতকাল সরেজমিনে দেখা গেছে, অতিথিদের স্বাগত জানাতে সাজানো হয়েছে ‘দেবেন্দ্র মঞ্চ’। পুরো পতিসরজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

এলাকার বাড়িঘরগুলোতে আত্মীয়-স্বজনদের আনাগোনা বেড়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে উৎসবের আমেজ স্পষ্ট। বিভিন্ন ধরনের পণ্য, হস্তশিল্প ও খাবারের দোকান নিয়ে বসেছে গ্রামীণ মেলা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ১৯৯৩ সালে জাতীয় পর্যায়ে প্রথমবার রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপন শুরু হওয়ার পর থেকে এই উৎসব ধীরে ধীরে বৃহৎ সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।


স্থানীয়দের চোখে রবীন্দ্রনাথের পতিসর

মনিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সম্রাট হোসেন বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই অঞ্চলে কৃষি ও সমবায়ের যে ধারণা চালু করেছিলেন, তা এখনো মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে আছে। তাই প্রতি বছর মানুষ অধীর আগ্রহে এই দিনটির অপেক্ষা করে।”

রবীন্দ্র গবেষক এসএম ফারুক বখত স্মৃতিচারণ করে বলেন, “রাষ্ট্রীয়ভাবে রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপনের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্ম কবিগুরুর অবদান সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছে। পতিসরের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সম্পর্ক ছিল আত্মিক।”


নিরাপত্তা ও প্রস্তুতিতে প্রশাসনের তৎপরতা

মো. মনিরুজ্জামান জানান, জন্মজয়ন্তী ঘিরে কাচারিবাড়ির প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সাজসজ্জার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

তিনি বলেন, “পতিসরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ধরে রেখে একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল আয়োজন নিশ্চিত করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন একযোগে কাজ করছে।”

স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলাম রেজু বলেন, “রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি বহন করা এই জনপদ শুধু নওগাঁর নয়, পুরো দেশের গর্ব। এবারের আয়োজন পতিসরকে নতুনভাবে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরবে।”



সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে ঘিরে নতুন প্রজন্মের আগ্রহ

বিশ্লেষকদের মতে, পতিসরের মতো ঐতিহাসিক স্থানগুলো শুধু সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ নয়, বরং নতুন প্রজন্মকে সাহিত্য, ইতিহাস ও মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য ও সমাজভাবনা এখনও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তাই জন্মজয়ন্তী ঘিরে এমন আয়োজন তরুণদের মধ্যে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংস্কৃতিকর্মীরা।


উপসংহার

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীতে আজ পতিসর যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। কবিগুরুর স্মৃতি, সাহিত্য ও মানবিক দর্শনকে ঘিরে আত্রাইয়ের এই আয়োজন শুধু একটি উৎসব নয়—এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি ও বাঙালির আত্মপরিচয়ের এক আবেগঘন মিলনমেলা।

দিনব্যাপী নানা আয়োজনে মুখর এই জনপদে এখন একটাই প্রত্যাশা—রবীন্দ্রচর্চা ও পতিসরের ঐতিহ্য আগামী প্রজন্মের মাঝেও আরও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে পড়ুক।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর