আপনার দেওয়া তথ্যগুলো নিয়ে একটি পেশাদার অনলাইন নিউজ পোর্টাল বা সংবাদপত্রের উপযোগী করে প্রতিবেদনটি নিচে গুছিয়ে দেওয়া হলো:তেহরানে হামলা: কে এই খামেনি, কেন তিনি ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্যবস্তু?আন্তর্জাতিক ডেস্ক | তেহরান ইরানের রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ফের হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলার পর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনা গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি জল্পনা তৈরি হয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে নিয়ে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, খামেনির কার্যালয় ও আবাসিক কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকাতেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে—কে এই খামেনি এবং কেন তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে?কে এই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি?৮৬ বছর বয়সি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির উত্তরসূরি। ১৯৭৯ সালে খোমেনির নেতৃত্বে ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত শাসক মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভির শাসনের অবসান ঘটেছিল।ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোয় সর্বোচ্চ নেতাই ক্ষমতার মূল কেন্দ্রবিন্দু। রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ, সামরিক বাহিনী এবং বিচার বিভাগ—সবকিছুর ওপর তার চূড়ান্ত কর্তৃত্ব রয়েছে। যদিও ইরানে প্রেসিডেন্ট ও সংসদ বিদ্যমান, তবে কৌশলগত এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে খামেনির মতই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হয়। তিনি একইসঙ্গে দেশটির আধ্যাত্মিক নেতা এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান।ক্ষমতার ভিত্তি ও পশ্চিমা বিরোধখামেনির শাসনামলে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ইরানের বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। তার অন্যতম প্রধান শক্তির উৎস হলো ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং বাসিজ আধাসামরিক বাহিনী। এই বাহিনীগুলোর নিরঙ্কুশ আনুগত্যই তার ক্ষমতাকে সুসংহত করে রেখেছে। তবে দীর্ঘদিনের পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়নের কারণে দেশটিতে একাধিকবার বড় ধরনের জনবিক্ষোভও দেখা দিয়েছে।কেন তিনি ‘টার্গেট’ বা লক্ষ্যবস্তু?ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন সময় খামেনিকে নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন। তাদের প্রধান অভিযোগগুলো হলো:১. আঞ্চলিক প্রভাব: ইসরায়েলের দাবি, খামেনি মধ্যপ্রাচ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে মদদ দিয়ে অঞ্চলটিকে অশান্ত রাখছেন। ২. ইসরায়েল বিরোধী অবস্থান: খামেনি প্রকাশ্যেই ইসরায়েল রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার ডাক দিয়েছেন। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সম্প্রতি বলেছেন, “খামেনির মতো একজন স্বৈরশাসক, যিনি ইসরায়েল ধ্বংসের লক্ষ্য নিয়ে চলছেন, তার অস্তিত্ব অব্যাহত থাকতে পারে না।” ৩. পরমাণু ইস্যু: ইরান দাবি করে আসছে তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, কিন্তু ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র মনে করে খামেনির নেতৃত্বেই ইরান গোপনে পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করছে। ৪. নেতৃত্ব দুর্বল করা: বিশ্লেষকদের মতে, শীর্ষ নেতৃত্বকে টার্গেট করার মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানি রাষ্ট্রযন্ত্রে অস্থিরতা তৈরি করা এবং সামরিক ও রাজনৈতিক চেইন অব কমান্ড ভেঙে দেওয়া।পারমাণবিক আলোচনায় অনিশ্চয়তাসাম্প্রতিক এই হামলার ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনা আরও জটিল হয়ে পড়েছে। খামেনি বরাবরই বলে আসছেন যে, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা ইসলামের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ (ফতোয়া)। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ মার্কিন শীর্ষ নেতারা মনে করেন, সরকার পরিবর্তনই এই সংকটের একমাত্র সমাধান।বর্তমানে কোথায় আছেন খামেনি?হামলার পরপরই খামেনির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স একটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, নিরাপত্তার খাতিরে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে একটি নিরাপদ গোপন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি।মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে খামেনির পরবর্তী পদক্ষেপ এবং ইরানের প্রতিক্রিয়া এখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।
আর্কাইভ
অনলাইন জরিপ
দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমাননিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | শনিবারপ্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন তারেক রহমান। শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত এক সভায় তিনি দেশ গঠনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতা ও নিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।মানুষের প্রত্যাশা ও কর্মকর্তাদের ভূমিকা প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, "বাংলাদেশের মানুষ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে। আপনারাও সেই সরকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সরকার তখনই সফল হবে, যখন আপনারা পূর্ণ সহযোগিতা করবেন।" তিনি কর্মকর্তাদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, এই দেশ আমাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা এবং দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের দায়িত্ব আমাদের সবার ওপর ন্যস্ত।নির্বাচনী মেনিফেস্টো বাস্তবায়নের অঙ্গীকার একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নির্বাচনী মেনিফেস্টোর পক্ষে রায় দিয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, "প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নির্দিষ্ট মেনিফেস্টো থাকে। জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমাদের সেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।" তিনি বিশেষ করে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারী উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও ক্রীড়া খাতের এজেন্ডাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে কর্মকর্তাদের সহায়তা চান।দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন:দেশ থেকে দুর্নীতি দূর করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কঠোর অবস্থান নিতে হবে।জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে যেন প্রতিটি নাগরিক নিরাপদ বোধ করেন।জাতির শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের সরকারি নিয়ম-নীতি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।রাষ্ট্রের স্বার্থে দাপ্তরিক গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়েও তিনি বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন।উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, হুমায়ুন কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম, ডা. জাহেদ উর রহমান এবং মাহ্দী আমিন।অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। এরপর কার্যালয়ের গঠন ও কার্যাবলি বিষয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা তুলে ধরেন মহাপরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী।
৫ম বারের মতো নিজ জেলা পাবনায় রাষ্ট্রপতি, মা-বাবার কবর জিয়ারতনিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা | ৮ নভেম্বর, ২০২৬আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রথমবারের মতো চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে নিজ জেলা পাবনায় পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার নিজ জেলায় পঞ্চম সরকারি সফর।সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ:আগমন: শনিবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে পাবনা জেলা স্টেডিয়ামের হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন।অভ্যর্থনা: জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার মোরতোজা আলী খান তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।কর্মসূচি: কবর জিয়ারত, এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ এবং আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ।দিনের কর্মসূচি ও শ্রদ্ধা নিবেদনসফরের শুরুতেই রাষ্ট্রপতি পাবনা সার্কিট হাউজে পৌঁছালে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যদায় ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। এরপর তিনি সরাসরি আরিফপুর কবরস্থানে যান এবং সেখানে তার প্রয়াত মা-বাবার কবর জিয়ারত ও মোনাজাত করেন।মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডদুপুরে রাষ্ট্রপতি গোরস্তান মাদ্রাসায় এতিম শিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ করবেন। এরপর সার্কিট হাউসে কিছুক্ষণ বিশ্রামের পর সন্ধ্যায় তিনি তার নিজ বাসভবন—শহরের বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বিনোদন পার্ক (সাবেক জুবিলী ট্যাঙ্ক) সংলগ্ন এলাকায় যাবেন। সেখানে তিনি পুরোনো বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত এবং কুশল বিনিময় করবেন।সফরের গুরুত্ব ও ইতিহাসউল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালের ১৫ মে ও ২৭ সেপ্টেম্বর এবং ২০২৪ সালের ১৬ জানুয়ারি ও ৯ জুন তিনি ইতিপূর্বে পাবনা সফর করেছিলেন। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতির এই সফরকে ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।আগামীকাল রোববার (৯ নভেম্বর) ঢাকা বঙ্গভবনে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতির।
১৩ মাসে ৩২ ভূমিকম্প: কম ঝুঁকির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও বাড়ছে বড় দুর্যোগের সংকেতনিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা বাংলাদেশে ভূমিকম্পের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১৩ মাসে দেশের অভ্যন্তরে ও সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ৩২টি ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছে, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশেষ করে, সাধারণত 'কম ঝুঁকিপূর্ণ' হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ঘনঘন কম্পন ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের উৎপত্তি বিশেষজ্ঞদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।সাতক্ষীরায় মাঝারি ভূমিকম্প ও জনমনে আতঙ্কগতকাল শুক্রবার দুপুরে ৫.৪ মাত্রার এক মাঝারি ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা মাঝারি হলেও উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি হওয়ায় সাতক্ষীরা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আলী জানান, হঠাৎ দোতলা বাড়ি দুলে ওঠায় সবাই দ্রুত রাস্তায় নেমে আসেন। কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এই কম্পন পুরো জেলায় ভীতি সৃষ্টি করে।কেন কাঁপছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল?সাধারণত বরিশাল ও খুলনা বিভাগকে ভূমিকম্পের কম ঝুঁকির এলাকা ধরা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক চিত্র ভিন্ন:সাতক্ষীরা (গতকাল): ৫.৪ মাত্রা।ঝিনাইদহ (বৃহস্পতিবার): ৩.২ মাত্রা।সাতক্ষীরা (৩ ফেব্রুয়ারি): ৪.১ মাত্রা।যশোর (গত বছর): ৩.৫ মাত্রা।বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের দুটি টেকটোনিক প্লেটের বিপরীতমুখী টানের (Tensional Force) মাঝখানে পড়ে গেছে এই অঞ্চলটি। ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আক্তারুল আহসান জানান, কলকাতা থেকে জামালপুর-ময়মনসিংহ পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নতুন ফাটলরেখা (Fault line) আবিষ্কৃত হয়েছে। সাতক্ষীরা ও নরসিংদী এই ফাটলরেখার 'হিঞ্জ লাইনের' মধ্যেই অবস্থিত। গতকালের কম্পনটি গত নভেম্বরের নরসিংদী ভূমিকম্পের একটি 'আফটার-শক' হতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।১৩ মাসে ৩২ বার কম্পন: বড় দুর্যোগের ইঙ্গিত?আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি সময় পর্যন্ত ৩২টি ভূমিকম্পের রেকর্ড আগে কখনো দেখা যায়নি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০টি ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছে সিলেট অঞ্চলে।"১৩ মাসে ৩২টি ভূমিকম্পের রেকর্ড এর আগে ছিল না। ভূ-অভ্যন্তরে সঞ্চিত বিপুল শক্তির এই বহিঃপ্রকাশ বড় কোনো ভূমিকম্পের আগাম সংকেত হতে পারে।" — রুবাইয়াৎ কবীর, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র।বিশেষজ্ঞ মত ও প্রস্তুতিঅধ্যাপক হুমায়ুন আখতারের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির কারণে এখন ছোট ছোট কম্পনগুলোও শনাক্ত করা যাচ্ছে, যা আগে সম্ভব হতো না। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বড় কোনো প্লেট বাউন্ডারি না থাকায় সেখানে বিশাল ভূমিকম্পের ঝুঁকি কম থাকলেও, সারা দেশে কম্পন বেড়ে যাওয়াটা বড় দুর্যোগের পূর্বাভাস দেয়।দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রস্তুতির যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং ভবন নির্মাণে কোড মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আদিয়াবাদ এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচিতে বাধা ও সাংবাদিকদের কাজে হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটে আদিয়াবাদ সরকারি স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন চলাকালে।প্রত্যক্ষদর্শী ও অংশগ্রহণকারীদের দাবি, নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী এলাকাবাসী বিভিন্ন দাবিদাওয়া তুলে ধরে মানববন্ধনে অংশ নেন। এ সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-সমর্থিত আদিয়াবাদ ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক বাদল মিয়ার নেতৃত্বে একদল লোক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কর্মসূচিতে বাধা দেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা মানববন্ধনকারীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।এছাড়া ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদের কাজেও বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। কয়েকজন সাংবাদিক জানান, পরিস্থিতি ধারণ করতে গেলে তাদেরকে হুমকি দেওয়া হয় এবং মোবাইল ফোন সরিয়ে রাখতে চাপ সৃষ্টি করা হয়। এতে সংবাদ সংগ্রহে বিঘ্ন ঘটে এবং উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা বলেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছিলেন। হঠাৎ করে বাধা প্রদান ও উত্তেজনা সৃষ্টি করায় পরিস্থিতি অস্থির হয়ে ওঠে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।তবে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, গণতান্ত্রিক কর্মসূচি ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
গুণীজনদের দিকনির্দেশনায় আলোকিত সমাজ গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রীনিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, গুণীজনদের মেধা ও দিকনির্দেশনা একটি সমৃদ্ধ, নৈতিক ও আলোকিত সমাজ গঠনের মূল ভিত্তি। একটি রাষ্ট্রে কৃতি মানুষের সংখ্যা যত বাড়বে, সমৃদ্ধির মানদণ্ডে সেই সমাজ তত বেশি আলোকিত হবে। রাষ্ট্র তার নিজের প্রয়োজনে এবং একটি উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই জ্ঞানী-গুণীদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘একুশে পদক ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।জ্ঞানী-গুণীরাই প্রকৃত দিকনির্দেশকপ্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, "রাজনীতিবিদরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকলেও আমি বিশ্বাস করি, জ্ঞানী-গুণীজনরাই সমাজের প্রকৃত দিকনির্দেশক। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে আজকের বাংলাদেশের প্রতিটি ঐতিহাসিক অর্জনে আমাদের বিজ্ঞজনদের অবদান অনস্বীকার্য।"তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ বর্তমানে ভাষা আন্দোলনের ৭৫ বছরে পদার্পণ করছে। একুশকে ‘অবিনাশী চেতনা’ ও ‘স্বাধিকার অর্জনের বীজমন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে তিনি একটি উদার ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে দেশের বিজ্ঞজনদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও পরামর্শ প্রত্যাশা করেন।২১, ৭১ ও জুলাই-এর চেতনাঅনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রসত্তা তিনটি ঐতিহাসিক আলোকধারায় নির্মিত— ২১, ৭১ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান। ২১ শিখিয়েছে অস্তিত্ব, ৭১ শিখিয়েছে মর্যাদা আর জুলাই শিখিয়েছে রাষ্ট্রকে ন্যায় ও জবাবদিহিতার আলোয় পুনর্গঠন করতে।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম একুশে পদককে একটি আদর্শ ও দায়বদ্ধতার স্মারক হিসেবে অভিহিত করেন। স্বাগত বক্তব্যে সংস্কৃতি সচিব মো. মফিদুর রহমান জানান, ১৯৭৬ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই পদক প্রবর্তনের পর থেকে এ পর্যন্ত ৬০৫ জন ব্যক্তি ও ৯টি প্রতিষ্ঠানকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।পদকপ্রাপ্তদের তালিকা২০২৬ সালে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ১০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই মর্যাদাপূর্ণ পদক প্রদান করা হয়:অভিনয়: ফরিদা আক্তার ববিতাসাংবাদিকতা: শফিক রেহমানসংগীত (মরণোত্তর): আইয়ুব বাচ্চুসংগীত (প্রতিষ্ঠান): ব্যান্ড ওয়ারফেজস্থাপত্য: মেরিনা তাবাসসুমচারুকলা: অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সাত্তারনৃত্য: অর্থী আহমেদপালাগাণ: ইসলাম উদ্দিন পালাকারশিক্ষা: অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম মজুমদারভাস্কর্য: তেজস হালদার জসমন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গণির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট কূটনীতিক এবং সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পুরস্কার হিসেবে মনোনীত প্রত্যেককে একটি স্বর্ণপদক, সম্মাননা সনদ এবং নির্দিষ্ট অংকের অর্থ প্রদান করা হয়।
সাবেক প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগের পাহাড়নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকাসদ্য বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ প্রায় সব উপদেষ্টার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও পদ বাণিজ্যের শত শত অভিযোগ জমা পড়ছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। দায়িত্ব ছাড়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় লিখিত এসব অভিযোগের বন্যায় ভাসছে সংস্থাটি। দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগ আসার যে হার, তাতে এটি পূর্বের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।প্রধান উপদেষ্টার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগদুদক সূত্রে জানা গেছে, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে গ্রামীণ টেলিকমের অর্থ আত্মসাৎ এবং নিজের নামে ট্রাস্ট গঠন করে আয়কর ফাঁকি দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, এই ট্রাস্টের মাধ্যমে তিনি পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করতেন এবং দায়িত্ব পালনকালে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন।আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে ‘জামিন ও বদলি বাণিজ্য’সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে এক ডজনেরও বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে ২০ কোটি টাকার বিনিময়ে একটি শিল্প গ্রুপের সিইও-কে জামিন পাইয়ে দেওয়া এবং গান বাংলা টিভির তাপসের জামিনে মধ্যস্থতা করার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় বিচারক এবং সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগ ও বদলিতে ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের দাবি করা হয়েছে অভিযোগপত্রে।সবচেয়ে বেশি অভিযোগ আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধেদুদকের তথ্য অনুযায়ী, সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ এসেছে। অনেক অভিযোগকারী নাম-ঠিকানা উল্লেখ করে ঘুষের বিনিময়ে কাজ না পাওয়ার প্রমাণও দাখিল করেছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অবৈধ বিটকয়েন লেনদেন এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে।অন্যান্য উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সারসংক্ষেপসৈয়দা রিজওয়ানা হাসান: পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রকল্প থেকে অর্থ আত্মসাৎ এবং অন্যের সম্পত্তি দখলের অভিযোগ।মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান: সামিট গ্রুপসহ বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ।নূরজাহান বেগম: হাসপাতালের কেনাকাটা ও টেন্ডার জালিয়াতির অভিযোগ।মাহফুজ আলম: টেলিভিশন চ্যানেলের লাইসেন্স প্রদানে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ।যা বলছে টিআইবি ও দুদকট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ প্রসঙ্গে বলেন, "কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। অভিযোগ আমলযোগ্য হলে অবশ্যই তদন্ত করতে হবে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, কেউ যেন রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার কারণে হয়রানির শিকার না হন।"দুদকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমানে অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী অনুসন্ধানের প্রক্রিয়া শুরু হবে।