দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

দেশে বাড়ছে হাম আতঙ্ক: ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে রোগীর চাপ তীব্র

ইন্ট্রো দেশজুড়ে আবারও উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে হাম। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে। একই সময়ে হাজারের বেশি শিশু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্যব্যবস্থা।২৪ ঘণ্টায় ভয়াবহ চিত্র: মৃত্যু ও আক্রান্ত দুই-ই বেড়েছেস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়েছে, গত এক দিনে সারাদেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ২৬১ জন শিশু বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এই সংখ্যা আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।[TECHTARANGA-POST:1089]এর আগে প্রকাশিত তথ্যে দেখা গিয়েছিল, একদিন আগে ৪ জন শিশুর মৃত্যু এবং ১ হাজার ২৪ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর ছিল। অর্থাৎ খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে মৃত্যু ও আক্রান্তের হার উভয়ই বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা আরও গভীর হয়েছে।হাসপাতালগুলোতে চাপ বাড়ছেরাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে শিশু রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে বলে জানা গেছে। অনেক হাসপাতালেই বেড সংকট দেখা দিয়েছে, ফলে মেঝেতে বা অস্থায়ী ব্যবস্থা করে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।একজন হাসপাতালকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “গত কয়েক দিনে হঠাৎ করেই রোগীর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে জ্বর ও ফুসকুড়ি নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। আমাদের সক্ষমতার তুলনায় রোগী বেশি হওয়ায় চিকিৎসা দিতে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।”অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগহাম সংক্রমণ বাড়ার খবরে অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই শিশুদের নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে যাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ বাড়িতেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করছেন—যা কখনো কখনো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।[TECHTARANGA-POST:1079]রাজধানীর এক অভিভাবক জানান, “হঠাৎ করে শিশুর শরীরে জ্বর আর ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ায় আমরা খুব ভয় পেয়ে যাই। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা ভর্তি নিতে বলেন। এখন প্রতিদিনই নতুন রোগী আসছে দেখে আরও চিন্তা হচ্ছে।”বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তাস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে যেসব শিশু এখনো টিকা পায়নি বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ জানান, “বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো দ্রুত টিকাদান নিশ্চিত করা। পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে জ্বর, চোখ লাল হওয়া বা শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।”গ্রামীণ এলাকাতেও সংক্রমণ ছড়াচ্ছেশুধু শহর নয়, গ্রামাঞ্চলেও হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানা গেছে। অনেক জায়গায় সচেতনতার অভাব এবং স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার কারণে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা বিলম্বিত হচ্ছে।একজন স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, “আমাদের এলাকায় অনেকেই প্রথমে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয় না। পরে যখন অবস্থা খারাপ হয়, তখন হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যায়।”প্রশাসনের পদক্ষেপ ও সীমাবদ্ধতাস্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা, হাসপাতালের প্রস্তুতি বাড়ানো এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।[TECHTARANGA-POST:1070]তবে বাস্তবে অনেক জায়গায় এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কিছু অভিভাবক অভিযোগ করেছেন, টিকা কার্যক্রম সব এলাকায় সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে না।অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।পরিস্থিতির প্রভাব: জনস্বাস্থ্যে নতুন চ্যালেঞ্জহামের এই বিস্তার শুধু শিশুদের জন্য নয়, পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ায় অন্যান্য রোগের চিকিৎসাও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। এতে শিশু মৃত্যুর হার বাড়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।সচেতনতা বাড়ানোই এখন প্রধান কাজবর্তমান পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শিশুদের নিয়মিত টিকা দেওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।একজন চিকিৎসক বলেন, “হাম প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ। সঠিক সময়ে টিকা ও সচেতনতা থাকলে এই পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।”উপসংহার দেশে হামের সংক্রমণ যে হারে বাড়ছে, তা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। শিশুদের জীবন রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা, স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বাড়ানো এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি—এই তিনটি বিষয়ই পরিস্থিতি সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সময়মতো সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে এই সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

দেশে বাড়ছে হাম আতঙ্ক: ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে রোগীর চাপ তীব্র