দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

টানা পাঁচ ফিফটিতেও সেঞ্চুরির আক্ষেপ, নিজের পুরোনো রেকর্ডের দিকেই ছুটছেন মুমিনুল

বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির মালিক মুমিনুল হক আবারও অর্ধশতক পেলেন, কিন্তু শতকের দেখা মিলল না। মিরপুর টেস্টে ৫৬ রানে থেমে যাওয়ায় টানা পাঁচ ইনিংসে ফিফটির কীর্তি গড়লেও বাড়লো সেঞ্চুরির অপেক্ষা। তবে ধারাবাহিক ব্যাটিংয়ে নিজের পুরোনো রেকর্ডের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।চাপে পড়ে বাংলাদেশ, ভরসা হন মুমিনুলসোমবার মিরপুর টেস্টের চতুর্থ দিনের শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। দ্রুত দুই ওপেনারের উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দল। এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন মুমিনুল হক ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।দুজন মিলে ১৯৩ বলে ১০৫ রানের জুটি গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আবার বাংলাদেশের দিকে টেনে আনেন। উইকেটে তাদের উপস্থিতি দলের ব্যাটিংয়ে স্থিতি এনে দেয়। বিশেষ করে শুরুতে ধাক্কা সামলে ধৈর্য ধরে খেলেন মুমিনুল।[TECHTARANGA-POST:1225]তবে ভালো খেলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। অফ স্টাম্পের বাইরের বল খোঁচা দিতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন। উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ান ক্যাচটি নেন সহজেই।১২০ বল মোকাবিলা করে চারটি চারে ৫৬ রান করেন মুমিনুল।৫ হাজার রানের মাইলফলকএই ইনিংসেই আরেকটি বড় অর্জনের দেখা পেয়েছেন মুমিনুল। বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ৫ হাজার রান পূর্ণ করেছেন তিনি।বাংলাদেশের হয়ে এর আগে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন তামিম ইকবাল এবং মুশফিকুর রহিম।টেস্টে দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণেই দেশের সেরা ব্যাটারদের তালিকায় নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন মুমিনুল। বিশেষ করে উপমহাদেশের কঠিন উইকেটে তার ধৈর্য ও টেকনিক বরাবরই প্রশংসিত।সেঞ্চুরি নেই, তবু রানের ধারায় আছেনসবশেষ টেস্ট সেঞ্চুরি করেছিলেন ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে। ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্টে খেলেছিলেন অপরাজিত ১০৭ রানের ইনিংস। এরপর কেটে গেছে প্রায় ২০ মাস। এই সময়ে ২০ ইনিংস খেললেও আর তিন অঙ্ক ছোঁয়া হয়নি তার।তবে এটাও সত্য, রান থেকে একেবারেই দূরে ছিলেন না তিনি।শেষ ১২ টেস্ট ইনিংসে একবারও দশের নিচে আউট হননি মুমিনুল। এই সময়ে পেয়েছেন ছয়টি ফিফটি। এর মধ্যে টানা পাঁচ ইনিংসেই পঞ্চাশোর্ধ রান করেছেন তিনি। তিনবার আশির ঘরও পেরিয়েছেন।কিন্তু প্রতিবারই কোনো না কোনো ভুলে ইনিংস থেমে গেছে শতকের আগেই। ফলে প্রশ্ন উঠছে—দারুণ শুরুর পর কেন ইনিংস বড় করতে পারছেন না বাংলাদেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য এই ব্যাটার?নিজের রেকর্ডের কাছাকাছিটানা পাঁচ ইনিংসে ফিফটি করে এখন নিজেরই পুরোনো রেকর্ডের দিকে এগোচ্ছেন মুমিনুল।২০১৩ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে টানা ১১ টেস্ট ইনিংসে পঞ্চাশ বা তার বেশি রান করেছিলেন তিনি। বাংলাদেশের ক্রিকেটে যা এখনো অনন্য রেকর্ড। দেশের আর কোনো ব্যাটার এত দীর্ঘ ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি।বর্তমান ফর্ম ধরে রাখতে পারলে সেই রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে তার সামনে।বিশ্বরেকর্ড ছোঁয়ার সুযোগও ছিলএকসময় মুমিনুলের সামনে বিশ্বরেকর্ড স্পর্শ করার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। আর একটি ফিফটি করতে পারলে ছুঁয়ে ফেলতেন এবি ডি ভিলিয়ার্স-এর রেকর্ড।দক্ষিণ আফ্রিকার এই কিংবদন্তি টানা ১২ ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ রান করেছিলেন। পরে একই কীর্তি গড়েন ইংল্যান্ডের জো রুট।বাংলাদেশের ক্রিকেটে ধারাবাহিক ব্যাটিংয়ের উদাহরণ খুব বেশি নেই। তাই মুমিনুলের এমন ধারাবাহিকতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।তামিমের পাশে এখন মুমিনুলবাংলাদেশের হয়ে টেস্টে টানা পাঁচ ফিফটির কীর্তি ছিল এতদিন শুধু তামিম ইকবাল-এর। ২০১০ সালে তিনি টানা পাঁচ ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ রান করেছিলেন। সেই ধারায় ছিল লর্ডসে করা স্মরণীয় সেঞ্চুরিও।এবার সেই তালিকায় যোগ হলো মুমিনুলের নামও।[TECHTARANGA-POST:1219]তবে পার্থক্য এক জায়গায়—তামিম সেই সময় ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে পেরেছিলেন, আর মুমিনুলের ক্ষেত্রে আক্ষেপটা থেকেই যাচ্ছে।বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক বার্তাক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, সেঞ্চুরি না পেলেও মুমিনুলের ধারাবাহিক রান করা বাংলাদেশের টেস্ট দলের জন্য ইতিবাচক দিক। দীর্ঘ সময় ধরে মিডল অর্ডারে স্থিতি এনে দিচ্ছেন তিনি।বিশেষ করে টপ অর্ডার দ্রুত ভেঙে পড়লে অভিজ্ঞ এই ব্যাটারের ওপরই নির্ভর করতে হয় দলকে। তরুণ ব্যাটারদের জন্যও তার ইনিংসগুলো উদাহরণ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন অনেকে। তবে একই সঙ্গে তারা বলছেন, দলকে বড় স্কোর এনে দিতে হলে মুমিনুলকে আবারও শতকের রাস্তায় ফিরতে হবে।

টানা পাঁচ ফিফটিতেও সেঞ্চুরির আক্ষেপ, নিজের পুরোনো রেকর্ডের দিকেই ছুটছেন মুমিনুল