নাহিদ রানাকে ইমরান খানের সঙ্গে তুলনা সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটারের, প্রশংসায় ভাসছেন বাংলাদেশের গতি তারকা
বাংলাদেশের তরুণ পেসার Nahid Rana-কে এবার সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার Basit Ali তুলনা করলেন কিংবদন্তি Imran Khan-এর সঙ্গে। মিরপুর টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত বোলিং প্রদর্শনের পর রানার আগুনঝরা ইনসুইং ও গতির প্রশংসায় মেতে উঠেছেন তিনি। বাসিত আলীর মতে, রানার মতো স্ট্রাইক বোলাররা ম্যাচে শুরুতে খরচ হলেও সঠিক সময়ে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন, ঠিক যেমনটা একসময় করতেন ইমরান খান।মিরপুর টেস্টে বদলে দেওয়া মুহূর্তের নায়ক রানামিরপুরে অনুষ্ঠিত টেস্ট ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের পথে বড় ভূমিকা রাখেন নাহিদ রানা। ম্যাচের প্রথম ইনিংসে তিনি খুব একটা প্রভাব ফেলতে না পারলেও দ্বিতীয় ইনিংসে নিজের গতি ও নিয়ন্ত্রণ দিয়ে পুরো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন।[TECHTARANGA-POST:1227]১৪০ কিলোমিটার গতির আশেপাশে বল করে পাকিস্তানি ব্যাটারদের চাপে রাখেন এই তরুণ পেসার। বাউন্সার, ইয়র্কার এবং ইনসুইংয়ের মিশেলে একের পর এক উইকেট তুলে নেন তিনি। তার বোলিংয়ের মুখে দাঁড়াতে পারেননি শান মাসুদ, সৌদ শাকিল, মোহাম্মদ রিজওয়ান, নোমান আলী থেকে শুরু করে শাহিন শাহ আফ্রিদিও।সব মিলিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে রানা ৫ উইকেটসহ ম্যাচে মোট ৬ উইকেট শিকার করেন, যা বাংলাদেশের জয়ের অন্যতম প্রধান নিয়ামক হয়ে ওঠে।“ইমরান খানের মতো স্ট্যাম্প উড়িয়ে দেয়”—বাসিত আলীর বিস্ফোরক মন্তব্যনিজের ইউটিউব চ্যানেলে ম্যাচ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে Basit Ali বলেন, রানার ইনসুইং ডেলিভারিটি দেখে তার মনে পড়েছে Imran Khan-এর পুরোনো দিনের বোলিংয়ের কথা।তিনি বলেন, রানার একটি ডেলিভারিতে মোহাম্মদ রিজওয়ানের স্ট্যাম্প উড়ে যাওয়ার দৃশ্য তাকে ইমরান খানের সেই বিখ্যাত ইনসুইংয়ের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে, যেটা একসময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যাটারদের জন্য ভয়াবহ ছিল।তার ভাষায়, “যেভাবে রানা বলটা ইনসুইং করাল, ঠিক একইভাবে ইমরান খান ব্যাটারদের পরাস্ত করতেন।”এই তুলনা সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, তরুণ বয়সেই এমন প্রশংসা পাওয়া বাংলাদেশের পেস আক্রমণের ভবিষ্যৎ শক্তির ইঙ্গিত দেয়।প্রথম ইনিংসে নীরবতা, দ্বিতীয় ইনিংসে বিস্ফোরণম্যাচের শুরুতে নাহিদ রানাকে দেখে অনেকেই ধারণা করেছিলেন পাকিস্তান ব্যাটাররা তাকে নিয়ে যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়েই এসেছে। প্রথম ইনিংসে তিনি উইকেট না পেলেও ব্যাটারদের চাপে রাখতে সক্ষম হন।কিন্তু ক্রিকেটের আসল সৌন্দর্য দেখা যায় দ্বিতীয় ইনিংসে। সেখানে গতি, লাইন-লেন্থ ও সুইংয়ের নিখুঁত মিশেলে তিনি পাকিস্তানের ব্যাটিং অর্ডার ভেঙে দেন।রানা আউট করেন—
শান মাসুদ
সৌদ শাকিল
মোহাম্মদ রিজওয়ান
নোমান আলী
শাহিন শাহ আফ্রিদি
এই উইকেটগুলোই ম্যাচের গতি পুরোপুরি বাংলাদেশের দিকে ঘুরিয়ে দেয়।তাসকিনের সহায়তায় পাকিস্তানের পতনরানার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ পেসার Taskin Ahmed। তিনি পাকিস্তানের ইনিংসে প্রথম ধাক্কা দেন ইমাম-উল-হককে মাত্র ২ রানে ফিরিয়ে।এরপর সালমান আলি আগাকে ফিরিয়ে পাকিস্তানের প্রতিরোধ গড়ে ওঠার সম্ভাবনাও শেষ করে দেন তিনি। বাসিত আলী এই দুই উইকেটকে “ক্লাসিক টেস্ট বোলিং” বলে উল্লেখ করেন।[TECHTARANGA-POST:1229]স্ট্রাইক বোলারের চরিত্রে রানা: খরচ হলেও ভরসাBasit Ali মনে করেন, নাহিদ রানার মতো বোলারদের বিচার শুধু ইকোনমি দিয়ে করা উচিত নয়। তিনি বলেন, এমন বোলাররা কখনও কখনও বেশি রান দিলেও ম্যাচে উইকেট এনে দেয়।তার মতে, “স্ট্রাইক পেসাররা হলো ম্যাচ-চেঞ্জার। ওরা প্রথমে ব্যাটারদের পরীক্ষা নেয়, পরে আসল সময়ে আঘাত হানে।”এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি মূলত রানার ভূমিকা ব্যাখ্যা করেন—যিনি ঝুঁকি নিয়ে বোলিং করলেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্রেকথ্রু এনে দেন।পিএসএলে ঝলক: আন্তর্জাতিক মঞ্চে আত্মপ্রকাশশুধু টেস্ট ক্রিকেটেই নয়, নাহিদ রানা নজর কাড়েন পাকিস্তান সুপার লিগেও (PSL), যেখানে তিনি খেলেছেন Peshawar Zalmi-এর হয়ে।সেই আসরে ৫ ম্যাচে ৯ উইকেট নেন তিনি, গড় ইকোনমি ছিল মাত্র ৫.৪৪। একটি ম্যাচে ৪ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেওয়ার মতো নজরকাড়া স্পেলও রয়েছে তার।ফাইনাল ম্যাচেও তিনি ২ উইকেট নিয়ে দলের শিরোপা জয়ে অবদান রাখেন, যা তাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আরও বেশি আলোচনায় নিয়ে আসে।পাকিস্তানের ইনিংসে চাপ তৈরি ও বাংলাদেশের জয়ের গল্পমিরপুর টেস্টে ২৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে পাকিস্তান। প্রথম ধাক্কা দেন তাসকিন। এরপর একের পর এক উইকেট হারিয়ে তারা ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে।বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের বড় অবদান ছিল অধিনায়ক Najmul Hossain Shanto-এর দুটি ইনিংস—১০৭ ও ৮১ রান। তার পারফরম্যান্স ম্যাচসেরা হলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন নাহিদ রানা।[TECHTARANGA-POST:1230]সামাজিক ও ক্রিকেটীয় বিশ্লেষণ: নতুন তারকার উত্থাননাহিদ রানার এই পারফরম্যান্স শুধু একটি ম্যাচ জয়ের গল্প নয়, বরং বাংলাদেশের পেস আক্রমণের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ইঙ্গিত। তরুণ এই বোলারের গতি, আগ্রাসন এবং চাপ সামলানোর ক্ষমতা তাকে আলাদা করে তুলছে।ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে স্পিড বোলার সংকটে ভুগলেও রানার মতো বোলাররা সেই শূন্যতা পূরণ করতে পারে। বিশেষ করে বিদেশের কন্ডিশনে তার গতি ও ইনসুইং বড় অস্ত্র হতে পারে।তবে একই সঙ্গে তাকে নিয়ে অতিরিক্ত চাপ না দেওয়ার পরামর্শও দিচ্ছেন অনেকে। কারণ তরুণ খেলোয়াড়দের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।উপসংহারমিরপুর টেস্টে নাহিদ রানার বোলিং শুধু একটি জয় এনে দেয়নি, বরং নতুন এক আশার জন্ম দিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটে। সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটারের ইমরান খানের সঙ্গে তুলনা এই তরুণ পেসারের জন্য যেমন বড় প্রশংসা, তেমনি ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় প্রত্যাশার চাপও।
এখন দেখার বিষয়, রানা এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেন কিনা এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেকে কত দূর নিয়ে যেতে পারেন।